শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

মাল্টা ও লেবু চাষে সফলতা

ম স্বদেশ ডেস্ক
  ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে মাল্টা এবং নড়াইলের লোহাগড়ায় লেবু চাষ করে সফলতা পেয়েছেন দুই কৃষক। তাদের দেখে এলাকার অনেকেই এসব চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত তথ্য- গোসাইরহাট (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি জানান, বাগানে সারিবদ্ধ মাল্টার গাছ। প্রতিটি গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ডালে ঝুলে রয়েছে পাকা ও আধাপাকা মাল্টা। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের মো. শাহে আলমের মাল্টা বাগানে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। উত্তর হলইপট্টির ব্যবসায়ী মো. সজিব খান জানান, গ্রামে প্রথম মাল্টা চাষ শুরু করেছেন শাহে আলম। এর আগে কেউ মাল্টা চাষ করেনি। তার বাগানে প্রচুর মাল্টা ধরেছে। সাইজও বেশ বড়। মো. শাহে আলম বলেন, বিভিন্ন জাতের ফলে ফরমালিন ব্যবহারের হিরিক পড়ে। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। মানুষ নিরাপদ ফল খাওয়ার কথা ভুলে গিয়েছিল। ভেজালমুক্ত ফল উপহার দেওয়ার কথা চিন্তা করেই কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে মাল্টার বাগান করেছেন। অল্প পরিশ্রমে কম খরচে মাল্টা চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। তার বাগানে বারি-১ ও থাইল্যান্ড জাতের ৭০টি মাল্টার গাছ রয়েছে। চারা রোপণের তিন বছর পর ফলন আসে। প্রতিটি গাছে ২০০ থেকে ৩০০টি ফল আসে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, মাল্টা চাষ করে শাহে আলম খান সফল হয়েছেন। কৃষি বিভাগ সব সময় তাকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। তার বাগানে গিয়ে দেখেছেন মাল্টাগুলো পাকা শুরু হয়েছে। পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত বাজারজাত না করতে বলেছেন। লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি জানান, নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সিংগা গ্রামের সাবেক কমিশনার বুলবুল আহমদ লেবুর চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি প্রায় চলিস্নশ শতক জমিতে চায়না লেবুর চাষ করে মাসে ৫০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন। বুলবুল আহমদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হয়ে এলাকার সাধারণ জনগণের সেবা করেছেন। গত পৌর নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন। ইতোমধ্যে তিনি মাঠের জমিতে ধান চাষ, গরুর খামার, গরুর খাবারের জন্য নেপিয়ার ঘাষ এবং চায়না লেবুর চাষ করেছেন। এ বছর তার ওই জমিতে রোপণ করা প্রায় তিন শতাধিক লেবু গাছে প্রচুর ফলন এসেছে। এক দিন পরপর প্রায় এক থেকে দেড় হাজার লেবু তুলে লক্ষ্ণীপাশা ও লোহাগড়া বাজারে তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তাতে মাসে তার ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা উপার্জন হয়। লেবু চাষি বুলবুল জানান, লেবুর ক্ষেতে কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো সার ওষুধ দেন। এ বছর লেবু বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় চার লাখ টাকা লাভ করবেন বলে তিনি আশাবাদী। লোহাগড়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ও রঞ্জু মিয়া জানান, বুলবুল তার লেবু ক্ষেতের জন্য অফিসে এসে পরামর্শ নেন। অফিস থেকে লোক যেয়ে ক্ষেত পরিদর্শন করে তাকে পরামর্শ দিয়ে থাকে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে