সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯
walton1

বালিয়াকান্দিতে মাঠ জুড়ে কচুরিপানা বিপাকে হাজারও কৃষক

ম বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
  ২৫ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির জামালপুর ও বহরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ জুড়ে দখল করে আছে কচুরিপানা। কচুরিপানার কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারও কৃষক। মাঠের মধ্যে কচুরিপানা থাকায় পরবর্তী ফসলের জন্য মাঠে চাষাবাদ করতে পারছেন না তারা। অবৈধ ও অপরিকল্পিত ভাবে যেখানে সেখানে বাঁধ দেওয়ার কারণে এসব কচুরিপানা সরছে না মাঠ থেকে। ফলে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ ও রসুন চাষে চরম হুমকি রয়েছে বলে জানান একাধিক কৃষক। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির বিভিন্ন মাঠে এবারের বন্যায় ভেসে আসা কচুরিপানায় থমকে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। জানা গেছে, রাজবাড়ীতে এবার দীর্ঘদিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েেেছ। বর্ষায় বিভিন্নভাবে বিলের মাঠে কচুরিপানা প্রবেশ করে। পানি সরে যাওয়ার পর এসব কচুরিপানা সরে যায়নি এ বছর। ফলে কৃষকের জমিতে আটকা পড়েছে এসব কচুরিপানা। প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানা রয়েছে। শুধু রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতেই নয়। পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বিস্তর এলাকা জুড়ে রয়েছে কচুরিপানা। এসব কচুরিপানা পরিষ্কার করে জমিগুলো চাষের উপযোগী করতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ সকল অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক। সরেজমিন উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হাতিমোহনের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ শুধু কচুরিপানা। মাঠ থেকে পানি সরে গেলেও রয়ে গেছে কচুরিপনা। এসব কচুরিপানার কারণে জমি থেকে পানি শুকাতে সময় লাগছে। বিভিন্ন কৃষক বিভিন্ন ধরনের ওষুধ স্প্রে করে কচুরিপানা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। অনেক কৃষক জমি থেকে কচুরিপানা একত্রিত করে স্তূপ করে রেখেছেন। তারপরেও চাষাবাদের জন্য মাঠ প্রস্তুত করতে পারছেন না তারা। বালিয়াকান্দির জামালপুর ইউনিয়নের কৃষক বিপুল বৈরাগী বলেন, শুধুমাত্র অব্যবস্থাপনার কারণে কৃষকদের এই ভোগান্তি। আগে মাঠে কচুরিপানা আসত। সেগুলো আবার পানি নামার সঙ্গেই চলে যেতে। এখন খাল দখল করে বাঁধ দিয়ে রেখেছে। তাই কচুরিপানা আটকে থাকে। আরেক কৃষক কামরুল হোসেন বলেন, 'আমাদের জামালপুর-বহরপুর, বসন্তপুর-মূলঘর ইউনিয়নের কয়েক হাজার একর জমিতে কচুরিপানা আটকে রয়েছে। কচুরিপানা পরিষ্কার করতে এক একর জমিতে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়।'  রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এসএম শহিদ নূর আকবর বলেন, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে খাল-নদী দিয়ে কচুরিপানা সরে যাওয়ার কথা। বিষয়গুলো নিয়ে উন্নয়ন সমন্বয় সভায় আলোচনা করব। খাল আর নদীতে বাঁধ অপসারণের প্রস্তাব করব।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে