ট্রাক জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

জ্বালানি তেলের ট্যাংকে ইয়াবা

৬ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২ কোটি পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ ম পাঁচ বছর ধরে ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছিল বিভিন্ন জায়গায়
জ্বালানি তেলের ট্যাংকে ইয়াবা

জ্বালানি তেলের ট্যাংকের ভেতরে বক্স বানিয়ে অভিনব কায়দায় অন্তত পাঁচ বছর ধরে ইয়াবা পাচার হচ্ছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষের্ যাবের হাতে সেই ট্রাকসহ তিন জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে। জব্দ হয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের দুই কোটি পিস ইয়াবা।

রোববার দুপুর ১২টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজারর্ যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ দিন ধরেই আমাদের কাছে তথ্য ছিল অভিনব সব কায়দায় কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দারা এক পর্যায়ে নিশ্চিত হয় বিভিন্ন পরিবহণের জ্বালানি তেলের ট্যাংকের ভেতরে বিশেষ চেম্বার বা বক্স বানিয়ে তার ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে আসছে।

সুনির্দিষ্ট তথ্যের সূত্র ধরের্ যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দীন আহমেদের নির্দেশনায় তাদের একটি গোয়েন্দা দল শনিবার দিবাগত গভীর রাতে যাত্রাবাড়ীতে চেকপোস্ট বসায়। চেকপোস্টে ওই খালি ট্রাকটিতে তলস্নাশি চালায়। তলস্নাশির এক পর্যায়ে দেখা যায় ট্রাকের তেলের ট্যাংকিতে অভিনব কায়দায় একটি চেম্বার বা বক্স বানানো হয়েছে। আর সেই বক্সের ভেতরেই পাওয়া যায় ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা। জব্দ করা হয় ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৫৪২৮ নম্বরের ট্রাকটি।

র্

যাব কর্মকর্তা কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলছেন, গ্রেপ্তার হয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের বায়েজীদ এলাকার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম (২৬) ও একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. হেদায়েত উলস্নাহ (২০) এবং বান্দরবানের লামা উপজেলার মৃত সৈয়দ শাহজাদার ছেলে মো. নুরুল ইসলাম (৪৮)।

গ্রেপ্তারদের ভাষ্যমতে জব্দ হওয়া ইয়াবার পাইকারি বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। তাদের কাছে ৩১ হাজার নগদ টাকা পাওয়া গেছে। সেগুলো মাদক বিক্রির টাকা বলে গ্রেপ্তাররা জানায়।

র্

যাব কর্মকর্তা আরও জানান, তারা সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিত। ট্রাকের মালিক সোহেলের নেতৃত্বে গত প্রায় ৫ বছর যাবত তারা ট্রাকে পণ্য পরিবহণের আড়ালে ইয়াবা আনছিল। মাত্র ৮ জনের চক্র। ট্রাক মালিক সোহেল ও গ্রেপ্তার আমিনুল টেকনাফের সিন্ডিকেট থেকে ইয়াবা কিনত।

ইয়াবাসহ ট্রাকটি নিয়ে যাওয়া হত কক্সবাজারের চকরিয়ার একটি গ্যারেজে। সেখানে জ্বালানি তেলের সিলিন্ডারের মধ্যে গোপন প্রকোষ্ঠ বা বাক্স তৈরি করা হতো। সেই বাক্সে ইয়াবা লুকিয়ে রাখা হতো। বাইরে থেকে বুঝার কোনো উপায় নেই। তারা ইয়াবা ট্রাকের জ্বালানি তেলের সেই গোপন চেম্বারে রাখার পর ট্রাকটি নিয়ে রওনা হতো ঢাকার উদ্দেশ্যে। চট্টগ্রাম আসার পর সোহেল গাড়ি থেকে নেমে যেত। আমিনুল, নুরুল আর হেদায়েত ট্রাক নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতো।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, জব্দকৃত চালানটি গাজীপুরে পাঠানোর কথা ছিল। তাদের ট্রাকে অন্য কোনো মালামাল ছিল না। সাধারণত খালি ট্রাক চেকপোস্টে তলস্নাশি হয় না। এমন সুযোগটিকেই তারা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিল। তলস্নাশির সময় তারা বলেছিল, স্যার গাড়িতে কোনো মালামাল নেই। খালি ট্রাক। গাজীপুর হতে মালামাল লোড করে তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এজন্য তারা খালি ট্রাক নিয়ে গাজীপুরে যাচ্ছে। বিশেষ কোড নম্বর দিয়ে ঢাকায় ইয়াবার চালান পাঠানো হতো টেকনাফ থেকে।

র্

যাব কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার আমিনুল পেশায় ট্রাকের হেলপার। সে অষ্টম শ্রেণি পাস। চট্টগ্রাম ট্রাক টার্মিনালে তার সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী সোহেলের পরিচয় হয়। অল্প দিনে বেশি টাকা রোজগারের আশায় ইয়াবা পরিবহণে জড়িয়ে পড়ে। সে প্রায় ৫ বছর যাবত চক্রটির সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিটি চালান নিরাপদে পৌঁছে দিলে আমিনুল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা করে পেত। আমিনুুুল এর আগে দুইবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি ছিল। জামিনে বেরিয়েই আবার জড়িয়ে পড়ে একই পেশায়। নুরুল ও হেদায়েত ট্রাক মালিক সোহেলের মাধ্যমে ইয়াবা পাচার চক্রে জড়িয়ে পড়ে। চালক নুরুল প্রতিটি চালান নিরাপদে পৌঁছে দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা করে পেত।

আর হেদায়েত টেম্পু চালক ছিল। হেদায়েত নুরুলের সঙ্গে ট্রাকের সহযোগী হিসেবে কাজ করত। সে প্রতিটি চালান নিরাপদে পৌঁছে দেয়ার পর ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে পেত। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে