কোটিপতিদের সরকার গরিবদের গুলি করে মারছে নজরুল ইসলাম খান

কোটিপতিদের সরকার গরিবদের গুলি করে মারছে নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আওয়ামী লীগ কয়েক হাজার নব্য কোটিপতির সরকার। দেশের নতুন ৪ কোটি দরিদ্র মানুষের সরকার নন। ওই গরিবরাই যখন তাদের ন্যায্য কথা বলছে, তাদের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছেন তখন তাদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের বছিলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে

জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে অসংখ্য নেতাকর্মী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন। একসময় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি আশপাশের রাস্তাও ছাড়িয়ে যায়। এ সমাবেশেও নেতাকর্মীরা বাঁশের লাঠির মাথায় পতাকা লাগিয়ে নিয়ে আসেন। পলস্নবী, উত্তরা ও বনানীতে হামলার পর এ কৌশল নিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিজেদের আত্মরক্ষার কথা বলে তারা এ বাঁশের লাঠি নিয়ে আসছেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, আন্দোলন করতে গিয়ে ভোলার নুরে আলম, আব্দুর রহিম, নারায়ণগঞ্জের শাওন, মুন্সীগঞ্জের আরেক শহিদুল ইসলাম শাওন, যশোরে আন্দোলনে তাদের আক্রমণে আহত হয়ে আব্দুল আলিম গত কয়েদিন আগে মারা গেছেন। এই সরকার খাবার দিতে পারবে না, চাকরি দিতে পারবে না কিন্তু জনগণের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে গুলি করে মারছে। মানুষ তার কষ্টের প্রতিবাদ জানাবে আর সরকার গুলি করে মেরে ফেলবে। এরা ফ্যাসিষ্ট সরকারের চেয়েও জঘন্য।

দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, জিনিসপত্রের দাম এতোই বেড়েছে যে, বাংলাদেশে যারা হালাল উপার্জন করেন তাদের আর চলার অবস্থা নাই, তাদের সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাদের ছেলেমেয়ের মুখে খাবার দিতে পারছেন না। চিকিৎসা করতে পারেন না কারণ ওষুধের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, রাতের ভোটের সরকারের এই ব্যর্থতার প্রতিবাদে আন্দোলন-সংগ্রামে যখন মানুষ রাস্তায় নামছেন তখন তাদর দলীয় পুলিশ গুলি করছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সহকর্মীদের খুন করা হচ্ছে। তাতে বিএনপির জনসভা বা আন্দোলনে লোক কমছে না। এটাই আন্দোলনের ইতিহাস। জোরজবরদস্তি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। এই সরকারও পারবে না।

তিনি বলেন, মিছেমিছি জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে ঘৃণিত হবেন না। একবার ক্ষমতাচু্যত হয়ে একুশ বছর ক্ষমতায় আসতে পারেন নাই। আজকে যে অত্যাচার-নিপীড়ন-নির্যাতন করতেছেন এগুলো যদি বন্ধ না করেন তাহলে এবার ক্ষমতাচু্যত হলে আর কত ২১ বছর যাবে কেউ বলতে পারছে না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, হামলা করে হাড় ভাঙতে পারেন, রক্ত ঝরাতে পারেন কিন্তু মনোবল ভাঙতে পারবেন না। আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। গণতন্ত্র মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবেই।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উলস্নাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, বিলকিস জাহান শিরিন, নাজিম উদ্দিন আলম, সেলিম রেজা হাবিব, মীর সরাফত আলী সপু, সাইফুল আলম নিরব, শামীমুর রহমান শামীম, নিলোফার চৌধুরী মনি, কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, এসএম জাহাঙ্গীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে