বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

'ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যে' রাসিক মেয়রকে চিঠি শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে শোকজ

ম রাজশাহী অফিস
  ০১ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
'ভবিষ্যতে আমিও এমপি মন্ত্রী হতে পারি' বলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য দিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান। সিটি মেয়রকে শালীনতা বিবর্জিত এমন চিঠি লেখায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানকে কারণ দর্শানের (শোকজড) করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ১৮ জুলাই ডাকযোগে সিটি মেয়র বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়েছিল। গত ২২ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানের চিঠি ইসু্য করেন। যাতে চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কারণ দর্শানের নোটিশ পাননি বলে দাবি করেছেন হাবিবুর রহমান। কারণ দর্শানের চিঠিতে উলেস্নখ করা হয়েছে, আপনার চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, 'আপনি জনাব হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী-এর বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়রকে উদ্দেশ করে একটি পত্র লেখেন, যা নিম্নরূপ; 'আপনার সঙ্গে আমাকে দেখা করার জন্য গেটে অপেক্ষা করতে হবে আপনার কাছে সময় চাইতে হবে? বিষয়টি কল্পনা করা আমার জন্য দুরূহ। আপনি জানেন কি আমার শাশুড়ি এমপি। আমার আওয়ামী পরিবারে জন্ম। ভবিষ্যতে আমিও এমপি বা মন্ত্রী হতে পারি। গাজীপুর ও কাটাখালীর মেয়রদের দিকে তাকান। বর্তমানে তাদের কি অবস্থা।' শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শোকজের চিঠিতে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানকে উদ্দেশ করে আরও বলা হয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতি উদাসীন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আপনার এ ধরনের মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ২০১৮-এর পরিপন্থি। এ অবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে আনীত উপযুক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হইল। জানা গেছে, ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য দিয়ে শিক্ষা বোর্ডে চেয়ারম্যানের ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষ থেকে গত ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এরপর গত ২৪ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ জোহরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রকে উদ্দেশ করে একটি পত্র লেখেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। এ ছাড়া তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে এ ধরনের পত্র অবলোকন করেননি। শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতি উদাসীন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য দিয়ে এহেন পত্র লেখন চরম অসদাচরণ মর্মে প্রতীয়মান হওয়া। ফলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয়/আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশন হতে বিবেচনা পত্রে অনুরোধ করা হয়। এমতাবস্থায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পত্রের আলোকে হাবিবুর রহমান, চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, 'আমি এ ধরনের কোনো চিঠি মেয়রকে দেইনি। চিঠিটি কিভাবে গেল তা আমি জানি না। চিঠিতে স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিষয়টি আমি লিখিতভাবে মেয়রকে জানিয়েছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারণ দর্শনের নোটিশটিও আমি হাতে পাইনি। পেলে জবাব দেব।' রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহফুজ মিশু বলেন, 'রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি গত ১৮ জুলাই ডাকযোগে সিটি মেয়র বরাবর পাঠানো হয়। একই দিন আমরা চিঠিটি পাই। চিঠির বিষয় অবহিত করে ২ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ২৬ জুলাই শিক্ষা বোর্ড থেকে আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়েছিল তার স্বাক্ষর জাল করে আগের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির সঙ্গে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কোনোভাবেই সংশ্লিষ্টতা নাই।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে