শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ঐতিহ্যের লাঠিখেলা

ম গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
  ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
নাটোরের গুরুদাসপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। ঢাক-ঢোল আর কাঁসার ঘণ্টা বাজিয়ে শুরু হয় এই লাঠিখেলা। উপস্থিত দর্শকের হাততালি আর নৃত্যের তালে তালে লাঠিয়ালরা প্রদর্শন করতে থাকেন নানা কসরত। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে রক্ষা আর প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে মেতে ওঠেন লাঠিয়ালরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পৃষ্ঠপোষকতায় উপজেলার খুবজীপুর মরহুম অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ কমপেস্নক্স চত্বরে মনোমুগ্ধকর লাঠিখেলার আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নজরুল প্রগতি সংঘ। এতে পাবনা জেলার চাটমোহর আনন্দ যুবসংঘ ও নাটোর জেলার সিংড়া এবং গুরুদাসপুরের দু'টি লাঠিয়াল দলের ৩০ খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে প্রদর্শন করেন তাদের কসরত। পুরনো এই খেলাকে উপভোগ করতে মাঠের চারদিকে হাজারো দর্শক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম মোলস্না সুমন, ডক্টর আমিরুল ইসলাম সহকারী অধ্যাপক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম, নজরুল প্রগতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সামাদ। অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় মিজানুর রহমান জানান, 'একসময়ে প্রায় গ্রামেই এ খেলা হতো। এ খেলাতেই চলত সংসার। এখন আর খেলা হয় না। তাই অন্য কর্ম করে সংসার চালাতে হয়।' নজরুল প্রগতি সংঘের সদস্য মিজানুর রহমান জানান, 'নতুন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী সব কৃষ্টি ক্যালচার ও খেলাধুলাকে পুনরুদ্ধারের জন্য মূলত এই আয়োজন।' জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. মারুফ নেওয়াজ বলেন, 'গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিলুপ্তপ্রায় ক্রীড়া, সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় বর্তমান সরকার আন্তরিক। হারানো ক্রীড়া সংস্কৃতি ফেরাতে পারলে মাদক, জঙ্গিবাদ, অপসংস্কৃতি, মোবাইল আসক্তি থেকে তরুণ-যুবসমাজকে রক্ষা সম্ভব। বিলুপ্তপ্রায় ক্রীড়া সংস্কৃতি রক্ষায় চলমান কার্যক্রমের এটি একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।'
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে