রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯

১০ ডিসেম্বর মানুষের কাফেলা এগিয়ে যাবে সামনের দিকে

নয়াপল্টনে অনুমতি দেওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
যাযাদি রিপোর্ট
  ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
১০ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, নয়াপল্টনেই সমাবেশ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে আশা নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, সারা দেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে; তাদের কাছে, ঢাকার মানুষের কাছে ১০ ডিসেম্বর একটা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ সফল করতে হবে। এদিন মানুষের কাফেলা এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে পুলিশের মিথ্যা ও গায়েবি মামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাকের ওপরে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করে নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'আমরা পরিষ্কার করে বলছি, আপনাদের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। জনগণের ভাষা বুঝে নয়াপল্টনে সমাবেশ করার সব ব্যবস্থা নিন। ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার সব ব্যবস্থা করুন।' সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন সমাবেশ করা সম্ভব নয় তার ব্যাখ্যা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'যে জায়গা সরকার দিতে চায় সেই জায়গায় আমরা কমফোর্টেবল (স্বাচ্ছন্দ্যবোধ) নই- এটা খুব পরিষ্কার কথা। চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরা, চতুর্দিকে যাওয়ার রাস্তা নেই। একটা মাত্র গেট যে গেট দিয়ে এক-দু'জন মানুষ ঢুকতে পারে, বের হতে পারে না। এখন নয়াপল্টনে সমাবেশের ব্যবস্থা গ্রহণ করার দায়িত্ব আপনাদের। না হলে সব দায়-দায়িত্ব আপনাদের।' বিএনপি মহাসচিব বলেন, নয়াপল্টনে সমাবেশের কারণে যে যানবাহন জটের কথা বলা হয়েছে এটা খোঁড়া যুক্তি। শনিবার দিন সরকারি ছুটির দিন। সেদিন কোনো রকমের যানবাহনের বড় ধরনের জট থাকে না। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'এদের কানে কথা যায় না। এরা বুঝতে চায় না। আগেও বলেছি দেয়ালের লেখা ওরা বুঝতে চায় না, মানুষের চোখের ভাষা বুঝতে চায় না। সেই কারণে তারা একটার পর একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।' হঠাৎ সরকার ভীত হয়ে বিভাগীয় সমাবেশ বানচাল এবং আন্দোলন দমনে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, নয়াপল্টনে অনেক সমাবেশ হয়েছে। এখানে জাতীয় সমাবেশ হয়েছে, মহাসমাবেশও হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও এখানে সভাপতিত্ব করেছেন। ২০ দলীয় জোটের সমাবেশ হয়েছে। কোনোদিন কোনো সমস্যা হয়নি। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সাজিয়ে সাজিয়ে মামলা দিলে কী শেষ রক্ষা হবে? একবারর্ যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আবার জনগণের নিষেধাজ্ঞা এলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, (বুধবার) আজকের পত্রিকায় এসেছে যে, গত কয়েক মাসের মধ্যে শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী নদীতে প্রায় সাড়ে ৩শ' মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এর অধিকাংশের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে, অর্থাৎ তাদের মারা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উলস্নাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরাফত আলী সপু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে