logo
রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৫ আশ্বিন ১৪২৭

  ক্রীড়া প্রতিবেদক   ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

ইমরুলের ব্যাটে পেস্ন অফে চট্টগ্রাম

ইমরুলের ব্যাটে পেস্ন অফে চট্টগ্রাম
বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ঢাকায় ফেরার প্রথম ম্যাচে শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হাফসেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস -ওয়েবসাইট
মন্থর উইকেটে আঁটসাঁট বোলিং করে ঢাকা পস্নাটুনকে অল্প রানে বেঁধে রাখল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। পরে রান তাড়ায় নেমে পরিস্থিতি বুঝে ভরসা জোগানো ব্যাট করলেন ইমরুল কায়েস। টুর্নামেন্টে তৃতীয় ফিফটি তুলে দলকে পাইয়ে দিলেন ৬ উইকেটের অনায়াস জয়।

চট্টগ্রামের এই জয়ে ইমরুল কায়েস প্রমাণ করলেন টি২০তেও ধৈর্য নিয়ে ব্যাট করে জেতানো যায়। ৫৩ বলে ইমরুলের অপরাজিত ৫৪ রানের হাফ সেঞ্চুরি চট্টগ্রামের ব্যাটিংয়ের সেরা এবং শিক্ষণীয় অংশ হয়ে রইল। ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ইমরুল ধৈর্যশীল কায়দায় এই ম্যাচজয়ী ৫৪ রান করেন। যে ধৈর্যের বড়ই অভাব ছিল ঢাকা পস্নাটুনের ব্যাটিংয়ে।

ইমরুল কায়েস জানতেন এই উইকেটে ম্যাচ জিততে হলে ধৈর্য নিয়ে ব্যাট করতে হবে। সেটাই তিনি করে দেখালেন। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ব্যাট হাতে সময়টা দারুণ কাটছে ইমরুলের।

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত বলের হিসাবে সবচেয়ে ধীরগতির হাফ-সেঞ্চুরি এটি। কিন্তু ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী ইমরুলের এই হাফ-সেঞ্চুরির মূল্য অনেক বড়। মিরপুরের ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন এই উইকেটে উভয় দলের ব্যাটসম্যানরা যেখানে খাবি খাচ্ছিলেন, সেখানে ধৈর্য নিয়ে ব্যাট করে কীভাবে দলকে জেতাতে হয়- সেই প্রমাণ রাখলেন ইমরুল কায়েস। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ২০ ওভার খেলেও ১২৪ রানের বেশি করতে পারেনি ঢাকা। ৮ বল হাতে রেখে ওই রান টপকে ৬ উইকেটে জিতেছে চ্যালেঞ্জার্স। আট ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামের এটি ৬ষ্ঠ জয়। ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের মাথায় থাকা দলটি অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে পেস্ন অফ খেলাও।

১২৫ রানের সহজ লক্ষ্যে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি চট্টগ্রামেরও। পুরো টুর্নামেন্টে নিজের ছায়া হয়ে থাকা মাশরাফি বিন মর্তুজা এদিন পান চেনা ছন্দ। তার বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লেন্ডল সিমন্স। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা জুনায়েদ সিদ্দিকীও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। অফ স্পিনার মেহেদী হাসানকে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন কাভারে।

কিন্তু চ্যাডউইক ওয়ালটন আর ইমরুল কায়েস বুঝে গিয়েছিলেন উইকেটের ভাষা। লক্ষ্যটা নাগালে দেখে দুজনেই তাড়াহুড়োয় গেলেন না।

ওয়ালটন অবশ্য বাজে বল পেলেই মেরে সীমানা ছাড়া করেছেন। তৃতীয় উইকেটে গড়ে উঠল দুজনের ৪৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ১৬ বলে ২৫ করে ওয়াহাব রিয়াজের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।

এরপর রায়ান বার্ল আউট হলেও ইমরুল ছিলেন অবিচল। ৫ চার আর বিশাল ২ ছক্কায় টুর্নামেন্টে তৃতীয় ফিফটি তুলে মাঠ ছাড়েন দারুণ ছন্দে থাকা এই বাঁহাতি।

কিছুটা মন্থর উইকেটে টস জিতে ঢাকাকে ব্যাট করতে দিয়েই চেপে ধরে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। তামিম ইকবাল আর এনামুল হক বিজয় দ্রম্নত রান তুলতে ধুঁকছিলেন। সেই চাপেই রান আউট এনামুল। শম্বুকগতির ব্যাটিংয়ে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন তামিম। সেই চাপ সরাতে নাসুম আহমেদের বলে বেরিয়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন ২৭ বলে ২১ করে।

আগের দুই ম্যাচের হিরো মেহেদী হাসান এদিন টিকলেন কেবল দুই বল। জাকের আলি, শহীদ আফ্রিদি, শাদাব খানরা এলেন আর গেলেন। থিসারা পেরারাও নেমেই কুপোকাত। ৬৮ রানেই তাই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে ঢাকা পস্নাটুন।

বিপর্যস্ত দলকে ভরসা জুগিয়েছে মুমিনুল হকের ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ৩২ করে রান আউটে শেষ হয় মুমিনুলের ইনিংস।

শেষ দিকে দলের রান কিছুটা ভদ্রস্থ হয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজা আর ওয়াহাব রিয়াজের ব্যাটে। ওয়াহাব ১৫ বলে ২৩ আর মাশরাফি অপরাজিত থাকেন ১২ বলে বলে ১৭ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ঢাকা পস্নাটুন: ২০ ওভারে ১২৪/৯ (তামিম ২১, এনামুল ১৪, মেহেদী ০, মুমিনুল ৩২, জাকের ৩, আফ্রিদি ০, শাদাব ০, থিসারা ৬, ওয়াহাব ২৩*,,মাশরাফি ১৭*; রুবেল ০/২৭, নাসুম ১/২১, রানা ০/২৬, পস্নাঙ্কেট ১/৩০, মুক্তার ২/১৮, বার্ল ১/২)।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১৮.৪ ওভারে ১২৫/৪ (সিমন্স ১৫, জুনায়েদ ৮, ইমরুল ৫৪*, ওয়ালটন ২৫, বার্ল ১৩, নুরুল ৫*; মাশরাফি ১/১৪, মেহেদী ১/২৩, পেরেরা ০/১৮, শাদাব ০/২০, ওয়াহাব ২/১৮, হাসান ০/১৮, আফ্রিদি ০/১১)।

ফল: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: ইমরুল কায়েস।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে