ছাতকে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে হাওরে-হাওরে ধান কাটা-মাড়াই

ছাতকে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে হাওরে-হাওরে ধান কাটা-মাড়াই

ছাতকে প্রতিটি হাওরে এখন কৃষকের স্বপ্ন বোরো ধান ঢেউ খেলছে। হাওরে হাওরে শুরু হয়েছে ধান কাটা-মাড়াই। এই অঞ্চলে পহেলা বৈশাখ থেকে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়ে থাকে বহুকাল আগে থেকেই। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আগাম জাতের ধান আবাদ হওয়ায় কিছু ধান আগেই কাটা-মাড়াই শুরু হয়। সপ্তাহ দেড়েক ধরে কিছু জাতের ধান কাটা শুরু হলেও এ সপ্তাহে থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে ধান কাটা মাড়াই-ঝাড়াই।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ছাতক উপজেলায় ছোট-বড় হাওর রয়েছে ৬৩ টি। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো চাষাবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৮শ ৩০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে উফসী ১১ হাজার ৫১০ হেক্টর, হাইব্রিড ৩ হাজার ২৩০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ধান ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে।

সরজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরে ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকরা। পাশপাশি হাওরের ধানের খলায় কাজ করছেন নারী, বৃদ্ধ ও শিশুরা। কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা কেউ ক্ষেত থেকে ধান কেটে খলায় টানছেন, কেউ রোদে ধান শুকানোর কাজ করছেন, কেউ মেশিন দিয়া ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এসব কাজে বড়দের সঙ্গ দিচ্ছে শিশু-কিশোররা।

স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, বোরো ধান কাটতে শুরু করেছেন। গতবার শিলাবৃষ্টিতে কোনো কোনো হাওরে সামান্য ক্ষতি হলেও এবার তুলনামূলক বেশি ফলন হবে বলে আশা করছেন।

কালারুকা ইউনিয়নের কৃষক আসাদ আহমদ জানান, আমি ৭ বিঘা জমি চাষ করেছি, ফলনও ভালো হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার আরও বেশি ফসল ঘরে তুলতে পারবো। কিছু আগাম জাতের ধান ঘরে তুলেছি। যেগুলো বাকি রয়েছে আশা করছি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সোনার ফসল আগামী সপ্তাহ-দশ দিনের মধ্যে ঘরে তুলতে পারবো। ফসল ঘরে তুলতে পারলে লাভবান হবো।

আরেক কৃষক আব্দুস সাত্তার জানান, অতি বৃষ্টি বা অতিরিক্ত খরা না হওয়ার কারণে এবছর তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। রোগ-বালাই ও পোকায় বেশি একটা আক্রমণ করতে পারেনি। তবে প্রকৃতি অনুকুলে থাকলে স্বপ্নের সোনালী ধান যথাসময়ে ঘরে তুলতে পারবো এমন আশা করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তৌফিক হোসেন খান বলেন, এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। দু'সপ্তাহ পূর্বেই কৃষকদের উৎসাহিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলার চৌকা হাওরে ধান কাটা উৎসব করেছি। কিছু আগাম জাতের ধান আগে কাটলেও এখন সকল হাওরে পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রহমান বলেন, হাওরে ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। চলতি বছর শ্রমিক সংকট নিরসনে উপজেলার বিভিন্ন কৃষকের মাঝে কৃষি বিভাগ থেকে ১১টি কম্বাইন হারভেস্টার (ধান কাটার মেশিন) দেওয়া হয়েছে। কৃষকদেরকে ধান পাকার সাথে সাথে দ্রুত কেটে ঘরে আনার জন্য বলে দেয়া হয়েছে। আর কৃষি অফিসের কর্মীরাও মাঠে কাজ করছেন। আশা করছি কৃষকরা সঠিক সময়ের মধ্যে বোরো ধান ঘরে তুলতে পারবেন।

যাযাদি/ এমডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে