​বরুড়ার শহীদদের স্মরণে বটতলী স্মৃতিস্তম্ভ

​বরুড়ার শহীদদের স্মরণে বটতলী স্মৃতিস্তম্ভ

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পয়ালগাছা ইউনিয়নের বটতলীতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়। যুদ্ধে বরুড়া উপজেলার ৫ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। তাদের স্মরণে সেই স্থানে বটতলী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় ফিরোজ আহাম্মেদের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের এফএফ মুক্তিযোদ্ধার একটি দলটি মাসনিগাছা গ্রামে সোবহান হাজীর বাড়িতে নাস্তা করছিলেন। এ সময় তারা দক্ষিণ দিক থেকে একটি গুলির শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণের মধ্যে লোকমুখে জানতে পারেন, পেরুল গ্রাম হয়ে কিছু রাজাকার উত্তর দিকে আসছে। এ খবর পেয়ে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা মাসনিগাছা থেকে পায়ে হেঁটে ভারুল গ্রামে গিয়ে রাজাকারদের ধরার জন্য অবস্থান নেয়। সকাল ১১টায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা বিভিন্ন দিক দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে ফেলে। শুধু দক্ষিণ দিক খোলা ছিল। এ সময় ফিরোজ আহমেদের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদারদের ওপর গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকাররাও পজিশন নিয়ে বৃষ্টির মতোগুলি করতে থাকে। পাকিস্তানি হানাদারদের অত্যাধুনিক অস্ত্রের মুখে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে থাকা তিনটি এসএমজি, পাঁচটি এসএলআর ও ছয়টি থ্রি নট থ্রি রাইফেলেল গুলি শেষ হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা অসহায় হয়ে পড়ে।

অপরদিকে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার জন্য বিএলএফ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মিলন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কায়সুল ইসলাম সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা জুনায়েদ নোমানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আশ্রাফ প্রমুখ যুদ্ধস্থলে আসেন। সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের প্রতিহত করা সম্ভবপর হবে না জেনে এবং ব্যাপক প্রাণহাণির সম্ভাবনায় গেরিলা যুদ্ধের কৌশল অবলম্বন করে দুদলে বিভক্ত হয়ে হাটপুকুরিয়া ও পদুয়ারপাড় গ্রাম থেকে কভারিং ফায়ার হিসেবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি করে। ফলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গুলি বন্ধ করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

সকাল ১১টা থেকে মাঝেমধ্যে ৪ থেকে ৫ মিনিট বিরতি দিয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দু'পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। ওই যুদ্ধে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হককে (বদরপুর) বটতলী বাজারের পশ্চিম পাশের ধান ক্ষেত থেকে ধরে নিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তাকে ধরার পর পাকিস্তানি হানাদাররা তার বুকে গুলি করে হত্যা করে।

ঐতিহাসিক বটতলী যুদ্ধে বদরপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক (ছেরু), দোঘই গ্রামের কাজী আরিফ হোসেন, আড্ডা গ্রামের মো. মমতাজ উদ্দিন, দীঘলিয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, কাকৈরতলা গ্রামের জয়নাল আবেদীন শহীদ হন। পাকিস্তানি হানাদাররা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাইদকে অস্ত্রসহ জীবিত অবস্থায় ধরে। তাকেসহ এলাকার প্রায় ৩০ জনকে পাকিস্তানি ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে শহীদদের সমাধিস্থল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। অন্য সময় কেউ খোঁজও নেয় না। বছরজুড়ে পড়ে থাকে অযত্ন আর অবহেলায়। সমাধিস্থলের চারদিকে সীমানাপ্রাচীর থাকলেও প্রধান ফটক নাই। এলাকাবাসীর দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থলটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসহ প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।

বরুড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আনিসুল ইসলাম জানান, প্রধান ফটকের বিষয়টি তার জানা নেই। প্রধান ফটকের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বটতলী শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের কাছে একটি গণশৌচাগার নির্মাণ ও একটি টিউবওয়েল এবং তৎসংলগ্ন পুকুরে একটি ঘাটলার ব্যবস্থা করবেন।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে