বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১

সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি
  ০৮ জুন ২০২৩, ১১:১৮
সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

ধবধবে সাদা পাঞ্জাবী পাজামা পরিহীত দ্বির্ঘদেহী একজন নেতা সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠছেন। উঠতে উঠতে মাথায় নেতাদের স্টাইলে কয়েকবার হাতও দিচ্ছেন। এসময় তিনি ছিলেন খালি হাতে। দড়জা দিয়ে একটি কক্ষের ভিতরে প্রবেশ করলেন। কিছু সময় ভিতরে থাকার পর ওই নেতার হাতে তিনটি ক্যামেরা সেই হাতের বগলে সিসি টিভির হার্ডডিক্স ও ল্যাপটপ, ডান হাতে একটি মনিটর নিয়ে ওই সিড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছেন। পরে রাস্তায় আগে থেকে দাড়িয়ে থাকা একটি মটরসাইকেলে করে তিনি আবার চলে যাচ্ছেন। ঘটনাটি বরগুনার বামনা উপজেলার খোলপটুয়া বাজারে মেসার্স মা ব্রিক্সের অফিস কক্ষে হামলা ও ভাংচুর ও লুটতরাজ চালানোর আগে ও পরে কয়েকটি সিসি ক্যামেরায় ধরা পরা ফুটেজের।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৭টা ৪৪ মিনিটের সময় বামনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম সাব্বির ফেরদৌস তালুকদার একাই এই কান্ডটি ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়িক ওই প্রতিষ্ঠানের ভিতরের সকল সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত হামলার ভিডিও প্রমান তিনি নষ্ট করলেও ওই ভবনটির পাশে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি সিসি ক্যামেরায় ওই নেতার হামলায় সম্পৃক্ততার কিছু ভিডিও ফুৃটেজ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ওই আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে শুধু ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগই নয় তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে গালিগালাজসহ একাধীক অভিযোগ রয়েছে।

এঘটনায় মা ব্রিক্স কর্তৃপক্ষ বামনা থানায় মামলা দায়ের এর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান বাটাটির মালিক মো. মোস্তফা ফকির।

মেসার্স মা ব্রিক্সের হিসাব রক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সাব্বির ফেরদৌস তালুকদার অফিসে আসেন । তিনি এসেই মাব্রিক্সের মালিক মোস্তফা ফকির কোথায় আছে জানতে চান। তিনি ঢাকায় রয়েছেন শুনেই তাকে ও তার আর একজন অফিস কর্মীকে মো. মহসীন কে এলোপাথাড়ী চর থাপ্পর শুরু করেন। পরে একটি লোহার পাইপ দিয়ে টেবিল চেয়ার, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর শুরু করেন। টেবিলের ড্রয়ারে থাকা প্রায় ১০ লাখ টাকাসহ তিনটি সিসি ক্যামেরা, ক্যামেরার হার্ডডিক্স, একটি মনিটর নিয়ে চলে যায়। পরে ঘটনাটি মালিককে জানানোর পর পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মেসার্স মা ব্রীক্সের মালিক মো. মোস্তফা ফকির জানান, আমি রুহিতা বিষখালী নদীর তীরের কিছু জমি ফেরদৌস তালুকদারের কাছ থেকে ক্রয় করি। ক্রয়সূত্রে ওই জমির জন্য বিপুল পরিমান টাকা বায়না হিসাবে তাকে প্রদান করি। দ্বির্ঘদিন ধরে তাকে জমির দলিল রেজিষ্ট্রি দিতে বললেও তিনি তা দিচ্ছেন না। এনিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয় তার সাথে। ওই জমির বিভিন্ন কাগজপত্র ও টাকা প্রদানের প্রমানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন দলিল ও ভিডিও গায়েব করার জন্য তিনি এই হামলাটি ঘটনাতে পারেন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত ওই আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম সাব্বির ফেরদৌস তালুকদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যাহা প্রচার করা হচ্ছে তা ভুয়া ও বানোয়াট। আমি আইনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করবো ইনশো আল্লাহ। বামনা থানার অফিসার ইন চার্জ মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। সিসি টিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। বাটা কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে