মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

৬৪ জেলায় পা রাখলো হোসেনপুরের ছেলে রাফা নোমান

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধ
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৭:০৭

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের ছেলে রাফা নোমান ছোট বেলা থেকেই টুকটাক ঘোরাঘুরির চেষ্টা করতো।

স্কুলে থাকতে সে আর তার চাচাতো ভাই দুইজন মিলে পড়াশোনা ফাঁকি দিয়ে চলে যেতো বিভিন্ন হাওড়-বাওরে। সেখানে গিয়ে মাছ ধরে সেই মাছ নিজেরাই রান্না করে খেত। কাদায় মেখে নিজেকে লুটিয়ে নিতো আর ভাবতো একদিন এই দেশের সব হাওর-বাওর নদী নালা পাহাড়-পর্বত সুমদ্র ঘুরে দেখার কে জানত! এই স্কুল ফাঁকি দিয়ে মাছ ধরা থেকেই শুরু হবে তার ৬৪ জেলা ভ্রমন।

গ্রামে শিক্ষক পরিবারে বড় হওয়া ছেলেটা ধীরে ধীরে ঘুরতে ঘুরতে স্বপ্ন দেখা শুরু করে পুরো দেশ ঘুরে দেখার। প্রতিটি জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য জানার। স্বপ্নের পথে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে যাবার চেষ্টা।

তারপর থেকে যখনি সুযোগ পেতো নতুন কিছু দেখার জন্য তখনই ছুটে যেত। কিছুদিন চাকরি বা প্রজেক্ট এ কাজ করে কিছু টাকা জমা হলেই অ-দেখা কোন জেলার ইতিহাস জানতে ডুব দিতো রাফা নোমান।

রাফা নোমান বলেন ঘোরাঘুরির জন্য হিসেব করে টাকা খরচ করে চলতে হয়েছে তাকে। এর জন্য অবশ্য কৃপণ শব্দটাও শুনতে হয়েছে বেশ কয়েকবার। অনেক বার মানুষ এটা সেটা ঘোরাঘুরি নিয়ে হাসি টাট্টা করেছে।কিন্তু নিজের স্বপ্নের জন্য এগুলা কিছুই না। পরিবার থেকে প্রথম দিকে ঘুরতে যেতে নিষেধ করলেও পরে এসে বেশ সাপোর্টই দিত তার পরিবার।

অবশেষে প্রায় বছর পাঁচেক পর সবগুলো জেলাতে পা রাখার সুযোগ হয়েছে।রাফা নোমান চেষ্টা করেছে প্রতিটা জেলার ঐতিহাসিক এবং দর্র্শণীয় সবগুলো জায়গায় যেতে। তার মতে এখনো অনেক জায়গা ঘুরে দেখার আছে পুরো দেশে।

রাফা নোমান বলেন" আমরা প্রতিনিয়ত অন্য দেশকে যেভাবে উপস্থাপন করি কিন্তু নিজের দেশের কাছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি উপস্থাপনের ঝুলি কেমন জানি ফিকে হয়ে যায়। বলছি না যে বিদেশ যাবেন না। আমারো যাবার শখ। কিন্তু নিজের দেশটা আগে অন্তত একবার দেখার চেষ্টা করুন। একবার উজাড় করে দেশকে মেলে ধরুন। কথা দিচ্ছি হতাশ হবেন না।

পাহাড় আর মেঘের সাথে সখ্যতা করতে হলে আপনার বান্দরবন, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি যেতে হবে।পাহাড়ের চূড়ায় বসে নিজেকে রাজা বানিয়ে প্রাণভরে দুহাত প্রশস্ত করে নিশ্বাস নিবেন,দেখবেন তখন মনে হবে সৃষ্টির সেরা সুখি মানুষ আপনি।

হাওড় দেখতে কিশোরগঞ্জ,সুনামগঞ্জ এই জেলা গুলোতে যাবেন। দেখবেন ডুবুডুবু বাড়িঘর আর জনজীবনের দৃশ্য।পাহাড়, মেঘ, হাওড়ের মিতালির প্রেমে পড়তে চাইলে ঘুরে আসুন মৌলভীবাজার।

তিনি আরো বলেন সমুদ্রের বিশালতায় ডুব দিতে চাইলে আপনার যেতে হবে কক্সবাজার । খোলা আকাশ ও বিশাল সমুদ্রের গর্জন এই দু'য়ে মিলে আপনি ভেসে যাবেন ভিন্ন এক অ-জানায়।আহা কি আছে জীবনে বলেন তো এই প্রভুর সৃষ্টির সৌন্দর্যের উপভোগ ছাড়া!

বৃক্ষ আর নদী আর সাগরের রাজত্ব দেখতে ঘুরে আসতে হবে দক্ষিণে।

ঐতিহাসিক মন্দির মসজিদ এবং বাংলাদেশের সৌন্দর্য্যময় গ্রামগুলোর এর ছোঁয়া পাবেন রংপুর, রাজশাহীতে। খুলানার দিকে সুন্দরবন এ শ্বাসমুলের মতো ম্যানগ্রোভ বন। জীবনে সুখী হতে আর কি লাগে! কত কি দেখার আছে জানার আছে এ দেশে!লিখে শেষ করা যাবে না।

রাফা নোমান বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অন্য জেলার মানুষকে বিশ্লেষণ করি।আমার কাছে মনে হয় বিষয়টা পুরোপুরি অস্তিত্বহীন নজরদারি। আপনার চিন্তা ও ব্যবহার দিয়ে আপনি পুরো এক পৃথিবী জয়ের সক্ষমতা রাখেন।

আমি আমার এই ছোট্ট ভ্রমণে কোন দিন কোথাও আঞ্চলিক ভাবে বিপদে পড়ি নাই। সব জেলার স্থানীয় মানুষজন বেশ সাহায্য করেছেন। সবাইকে শুধু আপনার সৃজনশীলতায় নিজের মত করে ভাবতে হবে।

পাঠকের উদ্দ্যেশে বলেন ঘুরতে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলতে এবং স্থানীয়দের সাথে ভালো ব্যবহার করতে।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে