বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করলো ৫০ জলদস্যু

নুরউদ্দীন খান সাগর, চট্টগ্রাম
  ৩০ মে ২০২৪, ১৮:৪৮
ছবি-যায়যায়দিন

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বসবাসকারী যাদের জীবন ও জীবিকা বঙ্গোপসাগর ঘিরে তাদের ‘পথের কাটা’ জলদস্যু। আর এই জলদস্যুদের অপতৎপরতা, অপহরণ ও হামলার ভয়ে স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে পারতো না এই এলাকার জীবিকার তাগিদে সমুদ্রের সাথে সর্ম্পকৃত মানুষজন।

জনজীবনের ভয়ের কারণ সেই জলদস্যুদরাই অন্যদের মত ভালোভাবে বাঁচতে, অন্যান্যদের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে বেশকিছু সদস্য করেছেন আত্মসমর্পণ। যদিও এর আগে দুই দফায় আত্মসমর্পন করেছিলো এসব ‘বিপথগামীরা’। এবার নারীসহ আরও ৫০ জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) হাত ধরে।

বৃহস্পতিবার ( ৩০ মে) দুপুরে নগরের পতেঙ্গা র‌্যাব-৭ এর এলিট হলে স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শরীফ-উল-আলম জানিয়েছেন, শর্তহীনভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপক‚লীয় অঞ্চলের ১২টি বাহিনীর মোট ৫০ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করছে। এদের মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ এবং একজন মহিলা। এই ৫০ জন জলদস্যুর মধ্যে তিনজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত। তাদের কাছ থেকে দেশি-বিদেশি ৯০টি অস্ত্র এবং ২৮৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ৩৪২ জন কুখ্যাত জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করেছে র‌্যাব। এছাড়া দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সর্বমোট ২ হাজার ৬০৩টি অস্ত্রসহ ২৯ হাজার ১২৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জলদস্যুদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমরা কাউকে ক্ষমা করবো না। যারা এ পেশা ত্যাগ করবেন না, তারা কি দুঃসংবাদ লিখে নিয়ে যাবেন সেটা মহান আল্লাহ জানেন। কাউকে ক্ষমা করা হবে না। জন্মলগ্ন থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করতে গিয়ে র‌্যাবের ৩৩ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। হাজার হাজার র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। অনেকের অঙ্গহানিও হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ এখানে একজন মহিলা জলদস্যুও আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা কখনও অত্যাচারিত বা নিপীড়িত হয়ে বাধ্য হয়েই এসব কাজে জড়িয়ে থাকেন।

স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরাও তাদের বাধ্য করেন এসব কাজে জড়াতে। জনগণের কাছে র‌্যাব একটি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। সুন্দরবনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষায় ২০১২ সালে র‌্যাবকে টাস্কফোর্স হিসেবে দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। র‌্যাবের দুঃসাহসিক অভিযানে সুন্দরবন জলদস্যু মুক্ত হয়।

এর আগে, গত ২০১৮ এবং ২০২০ সালে ৭৭ জন জলদস্যু র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে সরকারি-বেসরকারি প্রণোদনায় পুনর্বাসিত হয়। যার ফলে বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো.মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফ, পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, র‌্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো.তোফায়েল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা। আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাহমুদ করিম ও জসীম উদ্দীন।

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে