logo
মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

বলিভিয়া সংকট

রাজনৈতিক আশ্রয়ে মেক্সিকোয় মোরালেস

আরও বল ও শক্তি নিয়ে ফিরে আসবেন : দেশ ছাড়ার আগে টুইটে বামপন্থি এই নেতা মোরালেসের পদত্যাগ অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা : ট্রাম্প

রাজনৈতিক আশ্রয়ে মেক্সিকোয় মোরালেস
পদত্যাগী প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস
নির্বাচনে 'কারচুপির' অভিযোগে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করার পর ইভো মোরালেস মেক্সিকোর রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। এক টুইটে তিনি জানিয়েছেন, বলিভিয়া ছেড়ে যেতে তার কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আরও 'বল ও শক্তি' নিয়ে তিনি ফিরে আসবেন। দেশ ছাড়ার আগে মোরালেস তার সমর্থকদের 'অন্ধকারের শক্তিগুলোকে' প্রতিহত করারও আহ্বান জানান। সেনাবাহিনীর চাপের মুখে রোববার পদত্যাগের ঘোষণা দেন মোরালেস। একদিনের মাথায় সোমবার তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কথা জানান মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এবরাড। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা

মেক্সিকোয় বামপন্থি সরকার ক্ষমতাসীন এবং তারা বলিভিয়ার ঘটনায় মোরালেসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে এবরাড বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট মোরালেসের পদত্যাগের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর জড়িয়ে পড়ার কথা উলেস্নখ করে বলিভিয়ার ঘটনাকে 'অভু্যত্থান' বলে বর্ণনা করেছিলেন।

এদিকে, বলিভিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল উইলিয়ামস কালিমান মোরালেসের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষরত পুলিশকে সমর্থন দেওয়ার জন্য সেনাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বলিভিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান বলেন, 'দেশের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করতে বলেছি।'

মোরালেসের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট আলভারো গার্থিয়া, সিনেটের নেতা আদ্রিয়ানা সালভাতিয়ারা ও হাউস অব ডেপুটিসের নেতা ভিক্টর বোর্দাও পদত্যাগ করেন। এতে বলিভিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে 'লাইনে' থাকা পরবর্তী নেতা সিনেটের ডেপুটি প্রধান জেনাইন আনিয়েজ নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কার্লোস মেসাকে পরাজিত করে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইভো মোরালেস। তবে কারচুপির অভিযোগ তুলে ওই নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেন পরাজিত প্রার্থী মেসা। এরপর দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেন তিনি।

গত রোববার আঞ্চলিক সংস্থা 'অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস' (ওএএস) এক ঘোষণায় নির্বাচনী নিরীক্ষায় 'পরিষ্কার কারচুপির' প্রমাণ পেয়েছে জানিয়ে ভোটের ফল বাতিল করার আহ্বান জানায়। তাদের সঙ্গে একমত হয়ে মোরালেস নির্বাচন কমিশন সংস্কার করার পর নতুন নির্বাচনের ডাক দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু তার এ ঘোষণা মেনে না নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা, সেনাবাহিনী প্রধান ও পুলিশ প্রধান তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানান।

এরপর রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে মোরালেস প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। মোরালেস তার ভাষণে বলেন, 'আমাদের লড়াই এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। সমতা ও শান্তিপ্রতিষ্ঠায় এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।' দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এ সময় সরকারবিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন এই বাম রাজনীতিক। মোরালেস বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। মোরালেসের অভিযোগ, তার রাজনৈতিক মিত্র ও সমর্থকদের অনেকের ওপর হামলা এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবারের সুরক্ষায় তিনি পদত্যাগ করছেন। বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'ভাই ও বোনদের ওপর হামলা এবং জ্বালাও পোড়াও বন্ধ করুন।'

উলেস্নখ্য, আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি প্রেসিডেন্ট মোরালেসের আমলে বলিভিয়ায় উলেস্নখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং দ্রারিদ্রের হার কমে অর্ধেকে নেমে আসে। তারপরও চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনেকের পাশাপাশি নিজ মিত্রদের অনেকের সঙ্গেও তার দূরত্ব তৈরি হয়।

মোরালেসের পদত্যাগ অন্যদের

জন্য সতর্কবার্তা : ট্রাম্প

এদিকে, বলিভিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের পদত্যাগকে অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেনাবাহিনীর চাপের মুখে রোববার মোরালেসের পদত্যাগের পর সোমবার এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বলিভিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের বিষয়টি অন্য আঞ্চলিক নেতাদের জন্য সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। এটি ভেনেজুয়েলা ও নিকারাগুয়ার অবৈধ শাসকদের জন্যও একটি শক্তিশালী বার্তা। গণতন্ত্র ও মানুষের আকাঙ্ক্ষাই বিজয়ী হবে। ইভো মোরালেসের বিদায়কে বলিভিয়ার গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধশালী ও পশ্চিমমুখী অভিযাত্রা হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। উলেস্নখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজিত কার্লোস মেসার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে