logo
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

এমপিও পাচ্ছে ২৬২৭ প্রতিষ্ঠান, আজ ঘোষণা

নূর মোহাম্মদ

দীর্ঘ ৯ বছর পর আজ এমপিওভুক্তির পথ খুলতে যাচ্ছে। বেলা সাড়ে ১১টা গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন ২৬২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করবেন। একইসঙ্গে কোন পদ্ধতি, কোন মানদন্ডে এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেয়া হয়েছে তা-ও জানাবেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউশনের গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

ওই বৈঠকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা, বিএম, ভোকেশনালে কত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হচ্ছে তা জানাননি তিনি। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১৬২৪টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (স্কুল-কলেজ) ১৫৪৮টি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে ১০৭৯টি প্রতিষ্ঠান। সর্বমোট ২৬২৭টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হচ্ছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে এমপিওর জন্য অনুমোদন পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় আছে মাদ্রাসা দাখিল স্তরে ৩৫৯, আলিমে ১২৭, ফাজিল ৪২ এবং কামিল স্তরে ২৯টি মোট ৫৫৭টি এমপিওভুক্তের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে। কারিগরি ক্যাটাগরিতে কৃষিস্তরে ৬২, ভোকেশনাল স্তরে ৪৮ এবং ভোকেশনাল সংযুক্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছেন। এছাড়াও এইচএসসি বিএম প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র ১৭৫ বিএম সংযুক্ত ১০৮টি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য হয়েছে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের কোন স্তরের সংখ্যা কত প্রতিষ্ঠান সেটি জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সোমবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলন স্থগিত করলেও ফের আন্দোলনের নেমেছেন এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তারা একযোগে সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেয়া, ২০১৮ সালের নীতিমালা সংশোধন করে নতুন করে এমপিও আবেদন নেয়ার দাবি জানিয়েছে আসছেন। তারা বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চান। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচি কারো জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী কারো জন্য মঙ্গলজনক নয়। অনশনে থাকা শিক্ষকদের চলমান এমপিও প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমি অনুরোধ করবো আপনারা বাড়ি ফিরে যান। সরকার আপনাদের দাবির ব্যাপারে সচেতনা আছে।'

এদিকে গতকাল মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যোগ্য হওয়া সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানের যে স্তর যোগ্য সেই স্তরকে এমপিও দেয়া হচ্ছে। যোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিও থেকে বাদ পড়ছে না। তবে হাওর, পার্বত্য অঞ্চল বা পিছিয়েপড়া এলাকাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। নারী শিক্ষায় অবদান রেখেছেন এমন প্রতিষ্ঠানও অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেন, এবার এমপিও দিয়েই আমরা থেমে থাকবো না। এগুলো নিয়মিত মনিটরিং হবে। কেউ ভবিষ্যতে যোগ্যতা ধরে রাখতে না পারলে তার এমপিও স্থগিত হয়ে যাবে। এটা শুধু নতুন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না, পুরনো প্রতিষ্ঠান তাদেরকেও একই মাপকাঠিতে মনিটরিং করে তালিকা করা হবে। যারা নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হবে তাদের এমপিও স্থগিত করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর এমপিও না দেয়ায় সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এবার তারা একটি নীতিমালার আলোকে নির্দিষ্ট মানদন্ডের ভিত্তিতে এমপিও দিয়েছেন। এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক বিবেচনা বা অন্য কোনো বিষয় এখানে টাচ করতে পারেনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন থেকে প্রতিবছর এমপিও দেয়া হবে। এতে তালিকা কমে আসার পাশাপাশি জটিলতা কমে আসবে। একইসঙ্গে ২০১৮ সালে নীতিমালায় যেসব অসঙ্গতি রয়েছে সেগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, আগামীতে একটি নির্ভুল নীতিমালার আলোকে এমপিও দিতে পারবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তির অনুমোদনের জন্য একটি সার সংক্ষেপ তৈরি করে একটি তালিকা গত ৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সঙ্গে ২০১৮ সালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালাও পাঠায় মন্ত্রণালয়। এর কিছুদিন পর কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। স্কুল কলেজের ফাইল গত সপ্তাহ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের ফাইল চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৫ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) তৈরি করা বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সারাদেশে এমপিওভুক্তির আবেদন নেয়া হয়। এমপিওভুক্তির নীতিমালা-২০১৮-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী, চারটি মানদন্ডে প্রতিষ্ঠান যাছাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানের বয়স ২৫ নম্বর, শিক্ষার্থীর সংখ্যার ক্ষেত্রে ২৫ নম্বর, পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ নম্বর এবং পাসের হারে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের গ্রেডিং করা হয়। এমপিও নীতিমালা-২০১৮ তে এমপিওভুক্তির জন্য পাঁচটি স্তর নির্ধারণ করা হয়। স্তরগুলো হলো- নিম্ন মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম), মাধ্যমিক (৯ম থেকে ১০ম), উচ্চমাধ্যমিক (৬ষ্ঠ থেকে ১২শ), কলেজ (১১শ থেকে ১২শ), স্নাতক (পাস) তথা ডিগ্রি কলেজ  (১১শ থেকে ১৫শ)। এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মোট আবেদন জমা পড়েছিল ৬ হাজার ১৪১টি। তাতে  ৫৫১টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১০০২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬৭টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৯৪টি উচ্চমাধ্যমিক কলেজ এবং ৫৩টি ডিগ্রি (অনার্স-মাস্টার্স) ছিল। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬৫১টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। তা অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে ১৫৪৮টি প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় স্থান পেয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠান বাছাই করার পর দেখা যায়, সারাদেশের ৮৫টি উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সমতার স্বার্থে এসব উপজেলায় এমপিওভুক্তির নীতিমালার ২২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ ধারায় বলা হয়েছে, শিক্ষা অনগ্রসর, ভৌগোলিকভাবে অসুবিধাজনক, পাহাড়ি, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল, নারী শিক্ষা, সামাজিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় শর্ত শিথিল করা যেতে পারে। নীতিমালার এ ধারা প্রয়োগ করে ৮৫টি উপজেলার মধ্যে এমপিওভুক্তির শর্ত পূরণে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে বাছাই করা হয়েছে।

২০১০ সালের ১৬ জুন সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। তখনই অনেক প্রতিষ্ঠান বাদ পরে। দীর্ঘ ৯ বছরের বেশি সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ থাকায় নন-এমপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকাটি দীর্ঘ হয়। বর্তমানে সারাদেশের প্রায় সাড়ে আট হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে