logo
বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

একনেকে ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন

যাযাদি রিপোর্ট

বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র, জেদ্দায় বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপেস্নক্স নির্মাণসহ সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়নের জন্য ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে চার হাজার ৬৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে এক হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা খরচ করা হবে। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তা থেকে আসবে তিন হাজার ১৬০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব নুরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গীস এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, 'বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় সাইক্লোন সেন্টারগুলো হবে বহুমুখী ব্যবহারের জন্য। এগুলো স্কুল হিসেবেও ব্যবহার করা হবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব সাইক্লোন সেন্টারের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে সংযোগ সড়ক তৈরি করতে হবে। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়া বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য স্থায়ী রিজারভার এবং মাল্টিপারপাস সেন্টার রুম নির্মাণ করতে হবে।'

সৌদি আরবে চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'চ্যান্সারিতে প্রবাসীরা যাতে স্বস্তিদায়ক বসার জায়গা এবং পানিসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা পান সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া দ্রম্নত কাজ শেষ করতে বারবার যেন প্রতিনিধি দলের বিদেশে যেতে না হয়।'

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'অপচয় দুর্নীতির চেয়েও ভয়ঙ্কর। কেননা দুর্নীতি হলে তো ধরা যায়; কিন্তু অপচয়ের ব্যয় তো নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এছাড়া প্রকল্পে সবচেয়ে বড় অপচয় হচ্ছে সময়। তাই অপচয় রোধ করে দ্রম্নত প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'প্রকল্প জনবলসহ প্রক্রিয়াকরণ ও অর্থায়নের ধাপ যাতে কমানো যায় সেজন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু করব।'

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রকল্পগুলোর মধ্যে বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে তিন হাজার ১৭০ কোটি টাকা। সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপেস্নক্স নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২০৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৯৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। দর্শনা-মুজিবনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৪৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এছাড়া চাষাড়া-খানপুর-হাজীগঞ্জ-গোদানাইল-আদমজী ইপিজেড সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের পঞ্চম দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কোনো ব্যয় বাড়ানো হয়নি। যেহেতু প্রকল্পটি পঞ্চমবার সংশোধন করা হয়েছে তাই এটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। জমি নিয়ে মামলা থাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সৌদি আরবে চ্যান্সারি কমপেস্নক্স নির্মাণ প্রকল্পের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদেশে বাংলাদেশের কনসু্যলেটগুলোর মধ্যে জেদ্দা অন্যতম বৃহৎ একটি কনসু্যলেট। বর্তমানে এখানে প্রায় ১১ জন কর্মকর্তা এবং ৪০ জনের বেশি স্টাফ কমর্রত রয়েছেন। এই কনসু্যলেটের কার্যক্রম একটি ভাড়া করা ভবন থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এ রকম ভাড়া করা একটি ভবনে সৌদি আরবের মতো বৃহৎ জনশক্তির বাজারে বাংলাদেশের নাগরিকদের সেবা দেওয়া ক্রমাগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকে প্রতি বছর কনসু্যলেট ভবন, অফিসার ও স্টাফ কোয়ার্টার এবং হলরুমের ভাড়া বাবদ প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এ জন্য চ্যান্সারি এবং রাষ্ট্রদূত ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের আগস্টে সৌদি সরকারের কাছ থেকে প্রায় ১৫৪ কাঠা আয়তনের একটি পস্নট কেনা হয়। এরই মধ্যে জমির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়েছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে