বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

এলো এলো এলোরে বরষা...

এস আর এ হান্নান
  ১৫ জুন ২০২২, ০০:০০
আপডেট  : ১৫ জুন ২০২২, ০৯:৩৫

'বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/ আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান'। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবেগময় এই গান মানুষের হৃদয়কে উচ্ছ্বসিত ও উজ্জীবিত করে। ঋতু পরিক্রমায় গ্রীষ্মের দীর্ঘ দাবদাহের পর এলো বর্ষা। বর্ষা মানেই আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা। বর্ষা মানেই সময়ে-অসময়ে বৃষ্টি-বাদল। বর্ষা মানেই নাগরিক জীবনে স্বস্তি-শান্তি। জনজীবনে স্বস্তির পরশ নিয়েই আসে বর্ষা। বর্ষার প্রকৃতি ও পরিবেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে মানব জীবনে। বর্ষাবিহীন বাংলাদেশ কল্পনাও করা যায় না। বর্ষা ঋতু তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য-স্বতন্ত্র। কবি-সাহিত্যিকদের কাছে বর্ষাকাল অত্যন্ত আবেগময়, কাব্যময় ও প্রেমময়। রহস্যময়ী বর্ষার রূপ ও বৈচিত্র্যে রয়েছে নীরব কোমলতা-মাদকতা। আকাশ-প্রকৃতির গভীর মিতালিতে শিল্প-সাহিত্যের উপকরণ খুঁজে ফেরেন শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকরা। তারা এই অনুষঙ্গ থেকে আবহমানকাল ধরে অনুপ্রাণিত ও স্পন্দিত হয়ে আসছেন। সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধভারে বর্ষার অপরূপ রূপ বর্ণনা চিরকালীন-অমলীন। 'নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে, তিল ঠাঁই আর নাহিরে/ ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আষাঢ়' কবিতায়ও ফুটে উঠেছে বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের ছন্দময় কথামালা। বর্ষার শীতল আবহাওয়ায় গাছে গাছে কদম ফুলের সমারোহ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। কদম ফুল যেন স্বাগত জানিয়েছে আষাঢ়কে। আষাঢ় এসেই বর্ষার মাধ্যমে প্রকৃতিকে বদলে দেয়। চারদিকের পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বর্ষা রিমঝিম বৃষ্টি ঝরিয়ে প্রকৃতিকে সজীব-সতেজ করে তোলে। মুষলধারার বৃষ্টিতে ভেজার জন্য দুরন্তপনায় মেতে ওঠে শিশু-কিশোরের দল। দাবদাহে চৌচির মাঠ-ঘাট, শুকনো খাল-বিল এবং নিষ্প্রাণ বনবীথিকা সজীবতায় জেগে উঠবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে