​চীনের কাছ থেকে পাঁচ কোটি টিকা কিনতে চায় বাংলাদেশ

​চীনের কাছ থেকে পাঁচ কোটি টিকা কিনতে চায় বাংলাদেশ

চীনের কাছ থেকে চার বা পাঁচ কোটি কোভিড টিকা কিনতে চায় সরকার। এটি নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ মঙ্গলবার (১১ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালকে মেডিক্যাল সামগ্রী উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

আগামীকাল বুধবার (১২ মে) পাঁচ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে আসবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, `আমরা তাদের জোর অনুরোধ জানিয়েছি যেন দ্রুততার সঙ্গে টিকা সরবরাহ করা হয় এবং তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আমরা আশা করি জুন-জুলাই মাস থেকে টিকার সরবরাহ ধীরে ধীরে পাবো।'

চীনের টিকা আসতে দেরি কেন

অনুমোদন না দেওয়ার কারণে চীনের টিকা আসতে দেরি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, `তাদের একটি প্রস্তাব ছিল। কিন্তু আমাদেরও একটা সিদ্ধান্ত ছিল। বিশ্ব সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন না থাকার কারণে আমাদের বিশেষজ্ঞ যারা রয়েছেন তারা এই টিকা নিতে আগ্রহী ছিলেন না। জনগণের কথা বিবেচনা করে আমরা তখন সায় দেইনি এবং সম্প্রতি তিন-চার দিন আগে তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে।'

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, `তারা আমাদের জানিয়েছিল অনেকগুলো দেশ এই টিকা ব্যবহার করছে এবং অনেক লোকের ওপরে ব্যবহার করে তাদের কোনও সমস্যা হয়নি।'

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বাংলাদেশের জনগণের কথা বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় টিকা আনার।

তিনি বলেন, `চীন আমাদের দেশে ট্রায়াল করতে চেয়েছিল এবং তখন আমরা বলেছিলাম যে তোমরা এটি অন্য দেশে করো। এরপর তোমাদের কাছ থেকে আমরা টিকা নেবো। পরবর্তীতে আমরা ট্রায়াল করতে রাজি হই। কিন্তু তখন তারা এটি করতে রাজি হয়নি। কারণ তারা এর জন্য অর্থ চেয়েছিল যেটি আমরা দিতে রাজি ছিলাম না। এখন আমরা তাদের কাছ থেকে ভ্যাকসিন কিনতে চাচ্ছি। দুটি চুক্তির বিষয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। একটি সরাসরি ক্রয় করা এবং আরেকটি এখানে উৎপাদন করার।'

রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা হবে

রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, `তাদের ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তিপত্র রয়েছে। সেটি যাচাই-বাছাই করে আমরা পাঠিয়ে দিয়েঠি। তাদের মতামতের জন্য অপেক্ষা করছি। রাশিয়ার সঙ্গে ইতোমধ্যে আমরা নন-ডিসক্লোজার চুক্তি সই করেছি এবং এই চুক্তি সই হওয়ার পরে আমরা সংগ্রহ ও যৌথ উৎপাদন বিষয়ে আলোচনা শুরু করবো।'

চীনের পাঁচ লাখ টিকা কীভাবে ব্যবহার করা হবে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের টিকা দুই বার দেওয়া যায় এভাবেই আমরা এই টিকা ব্যবহার করবো।

চীনের টিকা কবে নাগাদ আসতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি এমন নয় যে এটি শুধু ডিসেম্বরেই আসবে। আমরা প্রস্তাব করেছি জুন-জুলাই থেকে আমাদের টিকা দেওয়ার জন্য। তাদের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা ধীরে ধীরে টিকার চালান পাবো। তারা রাজি হয়েছে যে জুন-জুলাই মাস থেকে তারা কিছু টিকা দেবে।

যাযাদি/এসআই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে