রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১

বাঙালির আস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

কলামিস্ট, অধ্যাপক ডা.আতিকুর রহমান
  ২৩ জুন ২০২৪, ১৮:৫৫
আপডেট  : ২৩ জুন ২০২৪, ১৯:১৫
ছবি-সংগৃহিত

ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক দল, দেশ স্বাধীন হওয়ার অর্ধশত বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও বর্তমানে দেশ ও দেশের জনগণের কাছে যেটির আবেদন একটুও কমেনি; বরং আওয়ামী লীগের প্রয়োজনীয়তা বা উপযোগিতা দিন দিন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে দলটির জনসমর্থন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

২০২৪ সালের শুরুটা ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। কারণ ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া জাতীয় সংসদের নির্বাচনকে ঘিরে দেশে বিদেশে শুরু হয়েছিল নানা ষড়যন্ত্র, কূট কৌশল। তবে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য, বলিষ্ঠ, বিচক্ষণ ও দক্ষ নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক ও বাহক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছেন। এটা বাংলাদেশের জন্য বাংলার জনগণের যথার্থ সিদ্ধান্ত। ওই নির্বাচনে বিজয় হয়েছে বাংলাদেশের ও বাংলাদেশের জনগণের।

জনতার রায়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আবারো পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। দেশরতœ শেখ হাসিনা মাথানত করতে জানেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও মাথা নত করতে জানে না, অন্যায়ের কাছে আপোষ করতে পারে না। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী সমর্থকরাও এমন মানসিকতা ধারণ করেন।

আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি দেশরতœ শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই যাবে। কোনো বিদেশী শক্তি, কোনো অপশক্তি ও কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে রোধ করতে পারবে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ভাষাতেই দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়েই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

সব বাধা অতিক্রম করে এখন শুধুই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সময়। আমাদের অঙ্গীকার, আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় বিশ্ব মানবতার জননী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করব আরো অনন্য উচ্চতায়। আর এর গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, এর সকল অঙ্গ সংগঠন, সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল ধারার সকল মানুষকে।

অবশ্য বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সমকক্ষ বা সমান দাবিদার কোনো রাজনৈতিক দল নেই। অতীতের ন্যায় বর্তমানেও দেশে আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনৈতিক দল একমাত্র আওয়ামী লীগই। আবার দেশ পরিচালনাতেও আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নাই। সহজভাবে বলতে গেলে আওয়ামী লীগের হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আওয়ামী লীগ থাকলে পথ হারাবে না বাংলাদেশ। সঠিকভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষেই সম্ভব। দেশের যত বড় বড় অর্জন তা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই অর্জন করেছে। বাংলাদেশের তিনটি বড় অর্জন রয়েছে।

এক. মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দান ও স্বাধীনতা অর্জন। দুই. দেশে সংবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন ও দেশকে খাদ্য, বাসস্থান, কৃষি উৎপাদন, যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে পরিচালিত করা।

তিন. যে আদর্শ ও চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তা ধারণ করা এবং বাস্তবায়ন করা। এর মধ্যে রয়েছে শোষণ-বৈষম্যহীন সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠা, মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সামরিক শাসনকে বিদায় দিয়ে গণতান্ত্রিক পন্থায় জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার দিয়ে দেশ পরিচালনা নিশ্চিত করা, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদকে রুখে দাঁড়ানো এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। আশ্চর্যজনকভাবে হলেও সত্যি এসব বড় অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে এবং যতটুকু বাকি রয়েছে তাও এই দলটির হাতেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তাই এ কথা জোর দিয়েই বলা যায়, সাফল্যের বিবেচনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিজের অর্জনের রেকর্ড নিজেই বারবার ভেঙেছে।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো ধনী-গরীব, নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে একটি সমতা, সাম্য ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রের কর্মকান্ড হবে জনগণের জন্য কল্যাণকর, উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রগতির পথকে ধরে রেখে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে ধারণ করা, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যকে চর্চার মাধ্যমে বিকশিত করা। কেহ খাবে আর কেহ খাবে না- সেই নীতিকে চিরতরে বিদায় করা। সমাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। মৌলিক চাহিদা পূরণসহ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

শিক্ষার আলো প্রতিটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটি বিজ্ঞানমনষ্ক জাতি গঠন করা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সর্বদাই বজায় রাখা। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ-উগ্রবাদ-মৌলবাদকে কঠোর হস্তে দমন করা, ধর্মীয় মূল্যবোধকে সদা জাগ্রত রাখা, মানুষে মানুষে বন্ধন দৃঢ় করা, বিপদে মানুষের পাশে দঁড়ানোসহ সম্প্রীতি ও ঐক্যকে সর্বদাই গুরুত্ব দেওয়া, যুদ্ধের বিপরীতে বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় রাখতে জোরালো ভূমিকা রাখা, বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণে প্রয়োজনীয় কৌশল অবলম্বন, ন্যায়সঙ্গত দাবিসমূহ আদায়ে কর্মসূচী অব্যাহত রাখা, সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল বলে এদেশের বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম কোনো ক্যান্টনমেন্ট থেকে হয়নি। কোনো সামরিক ছত্রছায়ায় হয়নি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। তখন নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। ১৯৫৫ সালে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটনারোর লক্ষ্যে নাম করা হয় আওয়ামী লীগ।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবি পেশ, আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা মোকাবিলা, ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন, একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দান এবং যুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন যা মুজিবনগর সরকার নামে সর্বাধিক পরিচিত, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জন, এরপর সংবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, স্বাধীনতা অর্জনের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন, ১৯৭৫ সালে জানুয়ারিতে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে বাকশাল গঠন যা দ্বিতীয় বিপ্লবের শুভ সূচনা নামে পরিচিত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক ও স্বৈরাচার সরকার হটাতে এবং দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মূল নেতৃত্ব দান, ১৯৯১ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান অর্জন করা, ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ করে দীর্ঘ ২১ বছর পর পুনরায় সরকার গঠন করা।

২০০১ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান অর্জন করা এবং এ সময়ে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলনে মূল নেতৃত্ব দেওয়া, ২০০৯ সাল, ২০১৪ সাল এবং ২০১৯ সালে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে একটনা তিন বার সরকার গঠন, সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু করার প্রধান বাধা কালো আইন ইনডেমেনেটি অধ্যাদেশ বাতিল করা, ভারতের সাথে যুক্তথাকা নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝে পেতে ঐতিহাসিক ফারাক্কা চুক্তি করা, সীমান্তের করিডোর সমস্যা দূর করা, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় নিশ্চিত করা এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসীর রায় কার্যকর করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা, জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার বিচার শুরু করা, বাংলাদেশের সম পরিমাণ আয়তনের সমুদ্র বিজয় করা, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করা, পদ্মাসেতু, মেট্রোরেলসহ মেগা প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন, খাদ্যে স্বয়ংস্বম্পূর্ণতা অর্জন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, অবকাঠামোর উন্নয়নে অভাবনীয় সাফল্য কত শত অর্জন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ সরকারের। এত অর্জনের পর তো একথা বলাই যায় যে, সাফল্যের অসংখ্য ফুল দিয়ে বিজয়ের মালা গাঁথা দলের নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

সত্যিকথা বলতে আওয়ামী লীগের পূর্ণতা পায় বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। দলটির প্রতিষ্ঠাকালে বঙ্গবন্ধু ছিলেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। বঙ্গবন্ধু ঐ সময়ে কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। ১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধু সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রকৃতপক্ষে, ১৯৬৬ সাল পর্যন্তই নয় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার পূর্ববর্তী যত আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনসহ যত ঐতিহাসিক কার্যক্রম তা আওয়ামী লীগের হাতেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এর প্রধান নেতৃত্বে ছিলেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই আওয়ামী লীগের পূর্ণতা পায় বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই।

কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায় স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কার্যক্রম শুরু হয়। উল্টোপথে চলতে শুরু করে দেশে। দেশে ইতিহাস বিকৃতি শুরু হয়। স্বাভাবিকভাবেই ওই সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে দেশ ও দেশের জনগণকে মুক্ত করতে কান্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

দিশেহারা সমগ্র জাতিকে উদ্ধারে আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পান জননেত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরেই স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরিপূর্ণতা লাভ করে বর্তমানের আলোকিত গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানে পৌঁছেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সংগ্রাম, সাফল্য ও গৌরবের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল।

বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জনকল্যাণকর কার্যক্রমসমূহ সমগ্র দেশে বিস্তৃত হয়ে মহিরুহ আকার ধারণ করেছে। দেশ ও জনগণের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই যত অসম্ভব কার্যক্রম তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানেও তা অব্যাহত রয়েছে।

পরিশেষে বলবো বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের যত অর্জন তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই অর্জিত হয়েছে। ২০৪১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ যেমন উন্নত দেশে পরিণত হবে, তেমনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ষোষিত ‘রূপকল্প ২০৪১,’ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গর্ভনেন্স, স্মার্ট ইকোনমি ও স্মার্ট সোসাইটিও বাস্তবায়ন হবে। বাংলাদেশের জনগণ হবে বিশ্বের বুকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী উন্নত দেশের সৌভাগ্যবান গর্বিত নাগরিক। তবে স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনো তৎপর রয়েছে।

স্বাধীনতাবিরোধীরা বর্তমান আওয়ামী লীগ সকারের উন্নয়নের প্রশংসার পরিবর্তে দিন রাত সমালোচনা করে যাচ্ছে। সরকারে বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই স্বাধীনতাবিরোধীরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা অব্যাহত রেখেছে। তাই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সাথে নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের রুখতে হবে এবং সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। চলমান অভাবনীয় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার ঐহিত্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দেশ পরিচালনার পথকে বাধাহীন রাখতে হবে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়ে তা কাজে লাগাতে হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত উন্নত বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে কাজ করে যেতে হবে।

বাংলার প্রতিটি মানুষের উন্নত, সুখী ও সৃমদ্ধ, স্বাস্থ্যকর সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যার যে দায়িত্ব তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। এটাই হোক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-২০২৪ এর অঙ্গীকার। সফল হোক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী “প্লাটিনাম জয়ন্তী”। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

লেখক: অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান,

অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ,

উপ-উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে