মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১

বইমেলায় কথাসাহিত্যিক মোশতাক আহমেদের ১৮তম ভৌতিক উপন্যাস

যাযাদি ডেস্ক
  ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:১৯

বইমেলায় পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠেছে কথাসাহিত্যিক মোশতাক আহমেদ এর ১৮তম ভৌতিক উপন্যাস ‌‘মৃত্যুবাড়ি’। অনিন্দ্য প্রকাশের স্টলে প্রতিদিনই বইটি কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন নানা শ্রেণি-পেশার পাঠক। শুধু তাই নয়, মোশতাক আহমেদের পুরনো ভৌতিক উপন্যাসগুলোর পাঠকচাহিদায়ও বিক্রয়কর্মীদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে।

বহুমাত্রিক লেখক মোশতাক আহমেদ একাধারে লিখছেন বিশ বছর ধরে। ২০০৪ সালে তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয় জকি, বইমেলায় বিক্রি হয় মাত্র এক কপি। আজ বিশ বছর পর তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক এবং বিক্রি হয় হাজার হাজার কপি। বাংলা সাহিত্যে পথ চলার পথে অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে আজ তিনি অবস্থান করে নিয়েছেন পাঠক হৃদয়ে। ভূষিত হয়েছেন বাংলা একেডেমি, শিশু একাডেমি, কালি ও কলম, চ্যানেল আই সিটি আনন্দআলো পুরস্কারসহ আরো অনেক সাহিত্য পুরস্কারে।

জানা যায়, মৃত্যুবাড়ি তার আঠারতম ভৌতিক উপন্যাস। গত বিশ বছরের লেখালেখির জীবনে প্রতি বছর তিনি একটি করে ভৌতিক উপন্যাস রচনা করেন। প্রথম বছর আর মাঝখানে আরেক বছর তিনি ভৌতিক উপন্যাস লিখেননি।

কেন ভৌতিক উপন্যাস লিখেন এই প্রশ্নের উত্তরে মোশতাক আহমেদ বলেন, ভৌতিক উপন্যাস আমার লেখার ইচ্ছে ছিল না। প্রথম বই যখন আমার বিক্রি হয়নি কিন্তু খুব লিখতে ইচ্ছে করছিল তখন মজা করে প্রথম ভৌতিক উপন্যাস ‘অতৃপ্ত আত্মা’ লিখি। ঐ উপন্যাসটি পড়ার পর এক নারী পাঠক বইমেলায় বলেছিলেন, আপনার ভৌতিক উপন্যাসটি ভালো ছিল এবং বেশি বেশি লিখবেন, কারণ ভয়সম্বলিত জমজমাট ভৌতিক উপন্যাস পাওয়া যায় না। তারপর থেকে প্রতি বছর আমি ভৌতিক উপন্যাস লিখি। সুবিধা হচ্ছে, ভৌতিক উপন্যাস লেখা খুব সহজ এবং পাঠকের সংখ্যাও অনেক বেশি। বিশেষ করে নারী পাঠকরা ভৌতিক উপন্যাস পছন্দ করেন বেশি।’

মৃত্যুবাড়ি ব্যতীত এখন পর্যন্ত মোশতাক আহমেদ এর রচিত অন্যান্য ভৌতিক উপন্যাসগুলো হলো- ছায়াআত্মা, ছায়ামৃত্যু, মৃত্যুপ্রাসাদ, রক্তনেশা, রক্তাসাধনা, প্রতিশোধের আত্মা, ইলু পিশাচ, অশুভ আত্মা, আত্মা, কালা পিশাচ, অভিশপ্ত আত্মা, উলূ পিশাচের আত্মা, শয়তান সাধক চিলিকের আত্মা, রক্তপিপাসা, রক্ততৃষ্ঞা, প্রেতাত্মা, অতৃপ্ত আত্মা। মোশতাক আহমেদ এর ভৌতিক উপন্যাস এতটাই জনপ্রিয় যে ইতিমধ্যে আত্মা সমগ্র এবং সেরা পাঁচ ভৌতিক উপন্যাস নামে দুটো সংকলনও বের হয়েছে।

এবারের মেলায় প্রকাশ হওয়া ৪টি নতুন বইসহ মোশতাক আহমেদের সকল ভৌতিক উপন্যাস পাওয়া যাচ্ছে অনিন্দ্য প্রকাশে। অনিন্দ্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী আফজাল হোসেন বলেন, ভৌতিক উপন্যাস অনেকেই লিখেন, কিন্তু মোশতাক আহমেদ এর মতো ভৌতিক উপন্যাস বর্তমানে অন্য কেউ লিখতে পারছেন না। তার ভৌতিক উপন্যাসের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি। ১৮টি উপন্যাসের মধ্যে ছয় সাতটি উপন্যাস প্রতি বছর আমাদের পুন:মুদ্রন করতে হয়। আর তাছাড়া ইদানিং লক্ষ করছি কেউ তার একটা ভৌতিক উপন্যাস কিনেন না, একত্রে দুটো তিনটে চারটা এমনকি সবগুলো একসাথেও কিনেন। বিশেষ করে যারা বিদেশে থাকেন বা ঢাকার বাইরে থাকেন তাদের মধ্যে মোশতাক আহমেদ এর একসাথে অনেকগুলো ভৌতিক উপন্যাস ক্রয়ের প্রবণতা বেশি। বর্তমান সময়ে নারী এবং কিশোর বয়সী পাঠকরাই ভৌতিক উপন্যাস বেশি পড়ছে।

অনিন্দ্য প্রকাশের প্যাভিলিয়নে মোশতাক আহমেদ এর ভৌতিক বইয়ের স্তুপ দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি শুধু প্যারাসইকোলজি বা সায়েন্স ফিকশনেই জনপ্রিয় নন, ভৌতিক পাঠকদের হৃদয়েও স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

নতুন ভৌতিক উপন্যাস মৃত্যুবাড়ির সংপ্তিসার: এক ঝড়ের রাতে মিরাজের বাসায় উপস্থিত হয় অপূর্ব সুন্দরী দিশা। মানবিকতার খাতিরে দিশাকে রাতে থাকতে দিতে সম্মত হয় মিরাজ। দিশার হাতের রান্না খেয়ে তার ভক্ত হয়ে যায় সে। দিশার সাংসারিক নানাগুনে ধীরে ধীরে মোহিতও হতে থাকে। সম্পর্কটা যখন ভালোলাগা থেকে ভালোবাসার দিকে এগোতে থাকে তখনই মিরাজ জানতে পারে দিশাকে পছন্দ করে অশরীরীয় শক্তির অধিকারী মৃত্যুবাড়ির ভয়ংকর কালাবাবা। মৃত্যুবাড়িতে প্রবেশ করলে রক্তপানে হয় কালাবাবার ভক্ত হতে হয়, নতুবা মৃত্যুবরণ করতে হয়। খুব কম সংখ্যক মানুষই আছে ফিরে আসতে পেরেছে মৃত্যুবাড়ি থেকে। এদিকে কালাবাবা নির্দেশ দিয়েছে দিশাকে মৃত্যুবাড়িতে যাওয়ার জন্য। দিশা যেতে চায় না। মিরাজও মরিয়া হয়ে উঠে দিশাকে রক্ষা করতে। কিন্তু কালাবাবার অশরীরীয় শক্তির সাথে সে পেরে উঠে না। দিশাকে সে মৃত্যুবাড়িতে নিবেই। সেক্ষেত্রে দিশাকে চিরতরে হারাতে হবে। কিন্তু মিরাজ তা হতে দেবে না। তাই উঠে পড়ে লাগে সে। কিন্তু একসময় বুঝতে পারে সে নিজেই বন্দি কালাবাবার হাতে। আর এখন কালাবাবা তার রক্তপান করে উদযাপন করবে রক্তউৎসব। আর তার সেই রক্ত পান করবে ভালোবাসার দিশাও। শেষ পর্যন্ত কী মুক্তি পেয়েছিল মিরাজ? নাকি তাকে বলি হতে হয়েছিল রক্তউৎসবের আনুষ্ঠিকতায়? আর কী ঘটেছিল অপূর্ব সুন্দরী দিশার জীবনে?

যাযাদি/ এম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে