বিরল যৌথ বিবৃতি

সীমান্তে শান্তি ফেরাতে সম্মত ভারত ও পাকিস্তান

দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতিতে নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র
সীমান্তে শান্তি ফেরাতে সম্মত ভারত ও পাকিস্তান

কাশ্মীরের বিরোধপূর্ণ সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধের মাধ্যমে শান্তি ফেরাতে সম্মত হয়েছে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার বিরল এক যৌথ বিবৃতিতে দেশ দুটির সামরিক বাহিনী নিজেদের মধ্যকার সমঝোতার কথা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই দুই বাহিনী কাশ্মীর সীমান্ত বরাবর কয়েকশ' বার গোলাগুলি বিনিময় করেছে। সংবাদসূত্র : বিবিসি, এনডিটিভি

এর আগে ২০০৩ সালে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ দুটি কাশ্মীর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণরেখা (লাইন অব কট্রোল বা এলওসি) বরাবর গোলাগুলি বন্ধ করতে অস্ত্রবিরতির চুক্তি করেছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে ওই চুক্তি গোলার ধোঁয়ার আড়ালে চাপা পড়ে আর দুই পাশের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে।

এবারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'উভয় পক্ষ আজ মধ্যরাত থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ও অন্যান্য সব সেক্টরে চুক্তি কঠোরভাবে পালন করা, অস্ত্রবিরতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া কার্যকর করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।' উলেস্নখ্য, দুই দেশের সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযান বিষয়ক মহাপরিচালকরা অস্ত্রবিরতিতে ফিরে আসার এই ব্যবস্থা করেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'সীমান্ত বরাবর স্থায়ী শান্তি ও পারস্পরিক কল্যাণ অর্জনের স্বার্থে দুই ডিজিএসএমও একে অপরের মূল সমস্যা ও উদ্বেগগুলো চিহ্নিত করতে সম্মত হয়েছেন, যা শান্তি বিঘ্নিত করে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।'

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৪ সাল থেকে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন উলেস্নখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে প্রায় ৩০০ বেসামরিক হতাহত হয়। তিনি বলেন, 'চলতি বছরের মাত্র দুই মাসে ২৫৩ বার অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তাতে আট বেসামরিক আহত হয়েছে।' উলেস্নখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে পাকিস্তান ৫৯১ বার অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে ভারতের দাবি।

এদিকে, ভবিষ্যতে ফের পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিতে 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক' বা খাইবার-পাখতুনখোয়ার বালাকোটে বিমানহামলার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে ভারত। জাতিসংঘের বৈঠকে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের সহকারী স্থায়ী প্রতিনিধি কে নাগরাজ নাইডু। তিনি বলেন, বহু বছর ধরেই 'আগে আক্রান্ত হলে প্রত্যাঘাত' নীতি অনুসরণ করেছে ভারত। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সীমান্ত পারের সন্ত্রাস ঠেকাতে প্রয়োজনে প্রথমে আঘাত হানার কৌশল নেওয়া হতে পারে।

দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতিতে নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র

এদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও চীনের ওপর নজর রাখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। লাদাখের প্যাংগং লেক এলাকা থেকে নিজেদের সব সেনা সরিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ সরিয়ে নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ মন্তব্য করল।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, 'শান্তিপূর্ণ সমাধানে দুই দেশের কাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা সেনা প্রত্যাহারের খবর নিবিড়ভাবে দেখছি এবং পরিস্থিতি প্রশমনের চলমান প্রচেষ্টাকে আমরা স্বাগত জানাই। উভয়পক্ষ শান্তিপূর্ণ সমাধানে কাজ করায় আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখব।' গত বছরের জুনে প্যাগং লেক এলাকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ২৪ জন নিহত হয়। সম্প্রতি উভয় দেশ সীমান্তের নিজ অংশে উত্তেজনা কমাতে কাজ শুরু করে। গত ১১ ফেব্রম্নয়ারি বেইজিং ও দিলিস্ন প্যাংগং থেকে সব সেনা প্রত্যাহারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

\হএরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুই দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্যাগং থেকে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে