জেনেভায় মুখোমুখি

পরমাণু যুদ্ধের বিরুদ্ধে বাইডেন-পুতিন

ম দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে সামান্যই মত সমালোচকদের ম জুনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন রুশ রাষ্ট্রদূত
পরমাণু যুদ্ধের বিরুদ্ধে বাইডেন-পুতিন
বৈঠকে জো বাইডেন ও ভস্নাদিমির পুতিন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভার ভিলা লা গ্রেঞ্জে মুখোমুখি হন বিশ্বের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন। এদিন নানা বিতর্কিত ও আলোচিত ইসু্য নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক করেন তারা। বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম দুই বিশ্বনেতার দেখা হলো। দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকের পর রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষই জানিয়েছে, পরমাণু যুদ্ধসহ বেশ কিছু ইসু্যতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুই নেতা। যদিও সমালোচকরা বলছেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তা ভূমিকা রাখবে সামান্যই। সংবাদসূত্র :বিবিসি, রয়টার্স, ডিডবিস্নউ নিউজ

বৈঠকের পর বাইডেন বলেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। অন্যদিকে, পুতিনও একই সুরে বলেন, বাইডেন বিচক্ষণ রাজনীতিক এবং প্রশাসক। বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তারা জানিয়েছেন, পরমাণু যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়, ফলে সেই যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়াই ভালো। একই সঙ্গে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই পক্ষের কথা হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী বৈঠক ও চুক্তি করবেন। পুতিন জানিয়েছেন, অন্তত ২০২৪ পর্যন্ত যাতে সেই চুক্তি স্থায়ী হয়, সে দিকে খেয়াল রাখা হবে।

জেনেভায় লেকের ধারে বৈঠকে বসেছিলেন বাইডেন এবং পুতিন। গোটা বিশ্বের দৃষ্টি ছিল এই বৈঠকের দিকে। কারণ গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার দূরত্ব ক্রমশ বেড়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। বাইডেন প্রশাসনও রাশিয়াকে ছেড়ে কথা বলেনি।

সম্প্রতি ন্যাটো এবং জি-৭ সম্মেলনেও ক্রেমলিনকে আক্রমণ করেছে ওয়াশিংটন। ফলে বুধবার তাদের বৈঠক আদৌ কার্যকর হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে বৈঠকের পর দুই নেতাই জানিয়েছেন আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।

এদিকে, বৈঠকের পর রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মাঝে-মধ্যে উত্তেজনার বাতাবরণ তৈরি হলেও দুই দেশ একাধিক বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখবে। বিবৃতিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত চুক্তির ঘোষণাও করা হয়। দুই দেশের কর্মকর্তারা বৈঠকের মাধ্যমে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়া এদিন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই একে অপরের প্রতি যথেষ্ট সম্মানও দেখিয়েছেন।

এছাড়া বৈঠকের পর পুতিন এবং বাইডেন দুইজনই আলাদা সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে পুতিন সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন। মানবাধিকার, নাভালনি নিয়ে সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়। নাভালনির নাম না করে তাকে রাশিয়ার একজন নাগরিক বলে সম্বোধন করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। বলেন, নাভালনি একাধিক অন্যায় করেছেন। রাশিয়ায় মানবাধিকার রক্ষিত হচ্ছে না, এই প্রশ্নে পুতিন বলেন, ওয়াশিংটনের তৈরি করে দেওয়া মানবাধিকার মানতে বাধ্য নন তিনি। তার দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র মাথা গলাক তাও তিনি চান না। মার্কিন পার্লামেন্ট ক্যাপিটল হিলে হামলা থেকে বস্ন্যাক লাইভস ম্যাটার- যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘটনা নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন পুতিন।

বাইডেন সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে কোনো পক্ষই আক্রমণাত্মক ছিল না। তবে দুজনই নিজেদের আপত্তির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। বিশ্বের এবং দুই দেশের নাগরিকদের কথা ভেবে বেশ কিছু বিষয়ে তাদের যে সমঝোতা করে চলতে হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বাইডেন।

পুতিনও যে বিষয়টিকে ভালোভাবেই নিয়েছেন, তাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভবিষ্যতে একাধিক কূটনৈতিক এবং কৌশলগত বৈঠকের বিষয়েও আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি। তবে চীন নিয়ে তাদের মধ্যে আদৌ কোনো কথা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি কোনো নেতাই।

জুনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন রুশ রাষ্ট্রদূত

বাইডেন-পুতিন বৈঠকের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এরই মধ্যে এর সুফল মিলতে শুরু করেছে। চলতি জুন মাসের মধ্যেই রুশ রাষ্ট্রদূত ওয়াশিংটনে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছে রাশিয়া। দুই নেতার বৈঠকের পর পুতিন বলেছিলেন, উভয় দেশের বহিষ্কৃত রাষ্ট্রদূতদের পুনরায় দূতাবাসে ফেরাতে রাজি হয়েছেন তারা। এরপরই মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ফের রাষ্ট্রদূত পাঠানোর ঘোষণা দেয় মস্কো। জেনেভায় রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই রিয়াবকভ সাংবাদিকদের বলেন, জুনের মধ্যেই ওয়াশিংটনে ফিরে যাবেন আনাতোলি আন্তোনভ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে