বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে

  ১১ জুলাই ২০২৪, ০০:০০
জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে

তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তথ্য মতে, সদ্যসমাপ্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। উলেস্নখ্য, মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরো (বিবিএস) থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক জিডিপির প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে স্মর্তব্য যে, গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে জিডিপির প্রান্তিকভিত্তিক হিসাব প্রকাশ করেছে বিবিএস। এ নিয়ে তিন প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির চিত্র পাওয়া গেল।

আমরা বলতে চাই, তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে- এটি আমলে নিয়ে করণীয় নির্ধারণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। বলা দরকার, গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। কিন্তু লক্ষণীয় এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি বেশ কম ছিল। আর প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়েও এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেছিল। সে সময় বাংলাদেশের জিডিপি বাড়ে ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ হারে। আর এর আগের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ফলে, এটা সামনে আসছে যে, সেই হিসেবে বিদায়ী অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হারে উলস্নম্ফন দেখেছে। আর তাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে শিল্প ও কৃষি খাত। এ সময় শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ ও কৃষি খাতে হয়েছে ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

আমরা বলতে চাই, যখন প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হারে উলস্নম্ফনে যখন সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে শিল্প ও কৃষি খাত, তখন এটি আমলে নিয়ে এই খাতের দিকে যেমন মনোযোগী হতে হবে, তেমনি অন্যান্য খাত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিবিএস বলছে, গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে স্থির মূল্যে জিডিপিতে যুক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৬৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। এরপর আসে মহামারি। তাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি নেমে যায় ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে- যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, মহামারির ধাক্কা সামলে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে। আর দুঃসময় কাটিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয় ৭ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সরকার বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ পৃথিবীকে নতুন সংকটে ফেলে দেয়। আর এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির দুর্দশা থেকে মুক্ত থাকার উপায় ছিল না বাংলাদেশেরও। প্রাথমিক হিসাবে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ অর্জিত হওয়ার ধারণা দেওয়া হলেও চূড়ান্ত হিসাবে তা ছয় শতাংশের নিচে নেমে যায়। প্রসঙ্গত, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশও। তদুপরি সেই পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ ভালো করছে এমন আলোচনা উঠে এসেছিল। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর জানিয়েছিলেন, বাহ্যিক আর্থিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও সরকার তুলনামূলকভাবে ভালো করছে। আর এর কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নতি করতে জরুরি সংস্কার করা হচ্ছে।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, সরকার আগে অর্থবছর শেষে জিডিপির প্রাথমিক হিসাব এবং কয়েক মাস পর চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করত। তাতে অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যেত না বলে অভিযোগ ছিল অর্থনীতিবিদদের। পরে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণের শর্ত মানতে গত অর্থবছর থেকে প্রতি তিন মাসে একবার (প্রান্তিকভিত্তিক) জিডিপির হিসাব প্রকাশ শুরু করেছে পরিসংখ্যান বু্যরো। এখন যখন তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিডি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে, তখন এটি আমলে নিতে হবে। একইসঙ্গে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে