মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১

খাদ্যপণ্যের দাম লাগামছাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

  ১১ জুলাই ২০২৪, ০০:০০
খাদ্যপণ্যের দাম লাগামছাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

কয়েক বছর ধরেই খাদ্যপণ্যের দাম লাগামছাড়া। এক অর্থবছরেই পেঁয়াজ, চাল, রসুন, আলু ও এলাচ এই পাঁচ পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়াও বেড়েছে অন্যান্য পণ্যের মূল্য। কোনো পণ্যের দামই কমার দিকে নেই। পেঁয়াজের কেজি ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। চাল প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। আলুর কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। সে তুলনায় সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি। খাদ্যপণ্যের এই উচ্চমূল্যে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। খাদ্য মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে সরকার এর মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দাম বেঁধে দিয়ে এবং শুল্ক কমিয়ে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সরকারের চেষ্টা যে কাজে আসেনি, তা খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিই বলে দেয়। গত অর্থবছরের মতো নতুন অর্থবছরের বাজেটেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৫ শতাংশ। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, বর্তমানে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি বিবিএসের তথ্যের চেয়ে বেশি। এই মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ অসুবিধায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ব্যয় ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি। মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধিতে এই দুটি বড় ভূমিকা রেখেছে। জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও তিন মাস ধরে তা ১০ শতাংশের বেশি। জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০.৪২ শতাংশ। আর সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯.৭২ শতাংশ হয়েছে। এর আগে মে মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৮৯ শতাংশ। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির চাপে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

মনে রাখতে হবে, মূল্যস্ফীতি এক ধরনের কর। ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে মূল্যস্ফীতি। আয় বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার বেশি হলে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষ সংসার চালাতে চরম অসুবিধায় পড়ে। কয়েক অর্থবছর ধরে চলা এই উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানুষের যাপিত জীবনে। একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ, অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়েছে। দেশে উৎপন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সব পর্যায়েই মনিটরিং থাকতে হবে- যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানার জন্য সরকারের দায়িত্বশীল যেসব সংস্থা আছে, সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তবে শুধু বাজার মনিটরিং দিয়ে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। মনিটরিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে মজুতও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিক্রেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তাদের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা মনে করি, বিক্রেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন যতদিন না ঘটবে ততদিন নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির থাকবেই এবং দেশের জনগণও তাদের কাছে জিম্মি থাকবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে