বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

১৫ বছর পর গানে ফিরলেন তিশা

বিনোদন রিপোর্ট
  ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০০:০০

নুসরাত ইমরোজ তিশা মূলত আপাদমস্তক একজন অভিনেত্রী। মেধাবী ও তুখোড় এই অভিনয়শিল্পী তার দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন অসংখ্য টিভি নাটক, টেলিফিল্ম কিংবা চলচ্চিত্রে। বলতে গেলে, একবিংশ শতকে ঢাকাই শোবিজে যে'কজন অভিনেত্রী গল্পে-চরিত্রে বার বার নিজেকেই ছাপিয়ে গেছেন, তাদেরই একজন নুসরাত ইমরোজ তিশা। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি তিশা যে গানেও পটু- সে বিষয়টা হয়তো এ প্রজন্মের অনেকেরই অজানা। ছোটবেলা থেকে গান করতেন তিশা। গানে তার বেশ সুনামও ছিল। বিটিভির 'নতুন কুঁড়ি'র শৈশব পেরিয়ে তারুণ্যে 'অ্যাঞ্জেল ফোর' নামে ব্যান্ডদল গড়ে ওঠে। সেই ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন চার বন্ধু তিশা, রুমানা, কণা ও নাফিজা (প্রয়াত)। এই ব্যান্ড থেকে তাদের অ্যালবামও প্রকাশ হয়েছে। এরপর শখের বশেই অভিনয়ে পা রাখেন। আর এটাই হয়ে যায় তার মূল পেশা।

সেই তিশাই আবার শখের বসে গায়িকা হিসেবে আবির্ভূত হলেন। কোনো কাভার সং নয়, একেবারে আনুষ্ঠানিকভাবে মৌলিক গানে কণ্ঠ দিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী। সদ্য ওটিটিতে প্রকাশ পাওয়া তার নতুন সিনেমার নামানুসারে গানটির নাম রাখা হয়েছে 'অটোবায়োগ্রাফি'। মঙ্গলবার রাতে এটি অন্তর্জালের নানা শাখায় প্রকাশ হয়েছে।

নিয়মিত অভিনয়ের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তিশা অভিনীত 'সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি' সিনেমার জন্য বানানো একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিশা। যদিও এটি মূল সিনেমায় নেই। তাই গানটি আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ইশতিয়াক আহমেদের কথায় গানটির সুর-সঙ্গীত করেছেন পাভেল অরিন। কণ্ঠের পাশাপাশি এর দৃশ্যায়নেও দেখা মিলেছে তিশাকে। যেহেতু তিশাকে পর্দায়, অভিনয়ে হরহামেশাই দেখা যায়। সুতরাং মূল প্রসঙ্গ আপাতত তার কণ্ঠ। কী ভেবে নীরবতা ভাঙলেন, আর অভিজ্ঞতাই বা কেমন হলো; সেসব জানতে যোগাযোগ করে তিশার সঙ্গে। গান প্রসঙ্গে তিশা বলেন, 'আমি গান করতাম, ইনফ্যাক্ট গান গেয়ে জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারও পেয়েছি। এটা অনেকেই জানেন। তবে অভিনয় ব্যস্ততায় দীর্ঘসময় গান করা হয়নি। প্রায় ১৫ বছর পর এই গানটি গাইলাম।'গান গাওয়ার ক্ষেত্রে দেড় দশকের বিরতি ভাঙার পেছনে ভাবনাটা কেমন ছিল তাহলে? অভিনেত্রীর জবাব, আসলে 'অটোবায়োগ্রাফি' আমার আর সরয়ারের খুব ব্যক্তিগত একটা ছবি। তো যখন এই গানটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, লেখা-সুর হলো; শোনার পর আমার কাছে মনে হয়েছে, গানটি আমি ভালো গাইতে পারব। সেই সুবাদে গাওয়া। নিজের আত্মবিশ্বাস ছিল, মানুষের ভালো লাগবে। এখন প্রকাশের পর দেখছি, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভালোবাসা পাচ্ছি। গান নিয়ে তো দূর, কোনো বিষয়েই আগাম চিন্তা করতে চান না তিশা। কারণ তিনি মনে করেন, জীবন অনিশ্চিত। সুতরাং ভবিষ্যতে আবার কবে গান করবেন, এ নিয়ে এখনই কিছু ভাবছেন না।

প্রসঙ্গত, 'সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি' নির্মাণ করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এর গল্প-চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন তিনি ও তিশা যৌথভাবে। এর বিষয়বস্তুতেও আছে তাদের বাস্তব জীবনের নির্যাস। আবার তাদের একমাত্র কন্যা ইলহামও রয়েছে অভিনয়ে। ফলে এটি ফারুকী-তিশা দম্পতির জীবনের সবচেয়ে কাছের এবং গুরুত্বপূর্ণ সিনেমাও বটে। এ ছাড়া সিনেমায় আছেন শরাফ আহমেদ জীবন, ডিপজল, ডলি জহুর প্রমুখ। এটি দেখা যাচ্ছে ওটিটি পস্নাটফর্ম চরকিতে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে