logo
রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ ১০ কার্তিক ১৪২৭

  যাযাদি রিপোর্ট   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০  

মসজিদে বিস্ফোরণ :তিতাসের চার প্রকৌশলীসহ গ্রেপ্তার ৮

দগ্ধ আরও দুইজনের মৃতু্য

মসজিদে বিস্ফোরণ :তিতাসের চার প্রকৌশলীসহ গ্রেপ্তার ৮
নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তলস্নার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শুক্রবার রাতে তিতাস গ্যাসের চার প্রকৌশলীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি -যাযাদি
নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তলস্নার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়িত্বে গাফলতির অভিযোগে তিতাস গ্যাসের চার প্রকৌশলীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার সকালে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাময়িক বহিষ্কৃত তিতাসের এই আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির ডিআইজি মাঈনুল হাসান। শনিবার বিকালে গ্রেপ্তার আটজনকে আদালতে হাজির করলে প্রত্যেকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

এদিকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন ৩৭ জনের মধ্যে আরও দুইজনের মৃতু্য হয়ে এই সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে পৌঁছেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তিতাস গ্যাস ফতুলস্না অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম (৪২), উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বী (৩৪), সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার (৩২), সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া (৩৩), সিনিয়র সুপারভাইজার মুনিবুর রহমান চৌধুরী (৫৬), সিনিয়র উন্নয়নকারী আইউব আলী (৫৮), হেলপার হানিফ মিয়া (৪৮) ও কর্মচারী ইসমাইল প্রধান (৪৯)। বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি। এর আগে তিতাসের পাইপলাইনে ছয়টি ছিদ্র পাওয়ার পর তাদের তিতাস গ্যাস অফিস থেকে বরখাস্ত করা হয়।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে বিস্ফোরণের ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃতু্যর অভিযোগে হত্যা মামলা দায়ের করে ফতুলস্না মডেল থানা পুলিশ। যার তদন্ত করছে সিআইডি। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে দায়েরকৃত ওই মামলায় আগুনের সূত্রপাত এবং হতাহতের ঘটনা ঘটনার জন্য সাতটি কারণ উলেস্নখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল মসজিদ পরিচালনা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির বিদু্যৎ, গ্যাসের লাইন ও এর সরঞ্জামগুলো রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা করেছে, মসজিদের নিচে বৈধ ও অবৈধ গ্যাসের লাইন সংযুক্ত রেখেছে কমিটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে বড় অবহেলা করেছে কমিটি। এ ছাড়া মসজিদের পক্ষ থেকে তিতাস কর্তৃপক্ষকে গ্যাস লাইন ঠিক করতে বলা হলেও তারা তা করেনি।

দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিআইডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি মাঈনুল বলেন, বাইতুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের করা মামলা সিআইডি তদন্ত করছে। মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর থেকে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। তদন্তে তিতাস গ্যাস, বিদু্যৎ ও মসজিদ কমিটি কার কী অবহেলা রয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে উলেস্নখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এই মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায় তিতাস গ্যাসের চার কর্মকর্তাসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে আরও যাদের গাফিলতি পাওয়া যাবে, তাদের পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার করা হবে। কার কতটুকু গাফিলতি রয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মসজিদ কমিটির গাফলিত পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে।

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও ২ জনের মৃতু্য : মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও পস্নাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আরও দুইজনের মৃতু্য হয়েছে। ফলে এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। বিস্ফোরণের পর ৩৭ জনকে দগ্ধ অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন কেবল শঙ্কাহীন অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউট ছাড়তে পেরেছেন। এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনজন।

শনিবার ভোরে মারা যান অগ্নিদগ্ধ আবদুল আজিজ (৪০)। এরপর দুপুরে মো. ফরিদ (৫৫) নামে অন্যজনেরও মৃতু্য হয়। শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়া এই দুইজনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরমধ্যে আজিজের দেহের ৪৭ শতাংশ পুড়েছিল এবং ফরিদের (৫৫) দেহের ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল এ তথ্য জানান। চিকিৎসাধীন অন্য তিনজন হলেন মো. কেনান (২৪), শাহাদাত হোসেন সিফাত (১৮) এবং আমজাদ (৩৯)।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পটুয়াখালীর চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. কেনান (২৪) গার্মেন্টকর্মী। তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ। নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তলস্নার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন সিফাতের (১৮) শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গেছে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আবদুল আহাদের ছেলে আমজাদ হোসেনের (৩৯) শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তিনি আইসিইউতে ১৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন।

প্রসঙ্গত, ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ শেষে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও পস্নাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন ৩৭ জন। ঘটনার সময় ফরজ নামাজের মোনাজাত শেষে অনেকে সুন্নত ও অন্য নামাজ পড়ছিলেন। এই ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা প্রশাসন, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, সিটি করপোরেশন পৃথক পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত সূত্রগুলো বলছে, বৈদু্যতিক শর্ট সার্কিট ও গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। পাশাপাশি এসব তদন্তে উঠে আসে অনিয়ম ও গাফিলতির বিভিন্ন তথ্য।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে