এবার অনলাইনে পরীক্ষার কথা ভাবছে সরকার

এবার অনলাইনে পরীক্ষার কথা ভাবছে সরকার

করোনাকালে শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখতে দেশের মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাসের পাশাপাশি একই পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। এরই মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমিটি দুটি অনলাইন পরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারণ এবং করোনাকালে বিভিন্ন দেশে; বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কীভাবে পরীক্ষা হচ্ছে, সেটা পর্যালোচনা করে দেশের বাস্তবতায় সুপারিশ প্রণয়ন করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা-২০১৮'র আওতায় গৃহীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কমিটির দ্বিতীয় সভায় অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং এটুআইকে যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় একই বছরের ৩ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের (প্রশাসন ও অর্থ) সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর/সংস্থা, এটুআই ও বুয়েটের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি করা হয়।

ওই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য ২৪ মার্চ ডাকা বৈঠকে 'অনলাইন পরীক্ষা গ্রহণ'-এর বিষয়টি চূড়ান্ত করতে দুটি কমিটি করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের (মাউশি) সচিব

মো. মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শ্রেণি ও পাবলিক পরীক্ষা অনলাইনে আয়োজনের জন্য সুপারিশ করতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমদকে সভাপতি করে একটি কমিটি করা হয়েছে।

আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন পরীক্ষা অনলাইনে গ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য আরেকটি কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ডক্টর দিল আফরোজা বেগমকে। তারা প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ এবং চাহিদামত সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবেন। কমিটি দুটিকে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে সুপারিশ এবং বাস্তবসম্মত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, দুটি কমিটি সুপারিশ ও প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমদ বৃহস্পতিবার যায়যায়দিনকে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পর্যালোচনাপত্র বা সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনে পরীক্ষাও নেওয়া শুরু করেছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নজরে এলে তারা অনলাইনে এ ধরনের পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে আপত্তি তোলেন। সম্প্রতি ইউজিসি সচিব ডক্টর ফেরদৌস জামান অনলাইন পরীক্ষা নেওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

অন্যদিকে ইউজিসির একাধিক সূত্র যায়যায়দিনকে জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকরা অনলাইন পরীক্ষার দাবি ও স্বীকৃতি নিয়ে নানা দেন-দরবার করেছেন। কিন্তু মন্ত্রী এ ব্যাপারে সম্মতি দেননি।

ফলে অনলাইন পরীক্ষা পদ্ধতি শুরু হলে সেটা সব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যই হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে