রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশন

গ্যাসের চাপ কম, দীর্ঘ লাইনে চরম ভোগান্তি

গ্যাসের চাপ কম, দীর্ঘ লাইনে চরম ভোগান্তি

গত দুই সপ্তাহে রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। চাহিদামতো গ্যাস না পেয়ে ও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চালকরা ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে গ্যাসের সংকটের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে সিএনজিচালক মো. আলমগীর বলেন, আমাদের সিএনজি অটোরিকশার সিলিন্ডার ৩০০ টাকার গ্যাসে ভরে যায়। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে ১২০ টাকার বেশি গ্যাস নেওয়া যাচ্ছে না। যতবারই আসি পাম্পে, শুনি গ্যাসের চাপ কম। আগে যেখানে একবার গ্যাস নিলে সারাদিন চলে যেত, এখন সেখানে দিনে দুই-তিনবার নিতে হয়। আর লাইনে দাঁড়াতে হয় দুই-তিন ঘণ্টা। এ অবস্থা চলতে থাকলে গাড়ির জমাও দিতে পারব না, নিজেকেও না খাইয়ে থাকতে হবে।

জানা গেছে, রাজধানীর প্রগতি সরণি এলাকার চারটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে গ্যাসের নূ্যনতম চাপ রয়েছে এসটি পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে। বাকিগুলোতে গ্যাস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এসটি পাওয়ারের ঠিক উল্টো পাশে অবস্থিত মক্কা সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনটিতে গ্যাসের চাপ নেই। তাই গ্যাস নিতে আসা গাড়ির চালকরা ফিরে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্টেশনটির বিক্রয়কর্মী আতিক জানান, এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় তারা পাম্পের মেশিন বন্ধ রেখেছে। গ্যাসের চাপ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত তারা মেশিন চালু করবেন না।

উত্তর বাড্ডায় অবস্থিত এসটি পাওয়ার লিমিটেড নামের রিফুয়েলিং স্টেশনে সরেজমিন দেখা যায়, গ্যাসের জন্য অপেক্ষমাণ গাড়ির দীর্ঘ লাইন স্টেশন থেকে শাহাজাদপুরের সুভাস্তু টাওয়ার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে কুড়িল বিশ্বরোড-রামপুরা রোডের শাহজাদপুর অংশের একাংশ দখল হয়ে আছে। ফলে রাস্তায় যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে, যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

ওই সিএনজি রিফুয়েলিং

স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গেল দুই সপ্তাহ ধরে তারা গ্যাসের চাপ না থাকায় সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও যখন চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন তখন চালকদের ভোগান্তি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।

এসটি পাওয়ার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে সুভাস্তু টাওয়ারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছেন প্রাইভেট কার চালক সাগর মিয়া বলেন, সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। লাইন সামনে এগোচ্ছে না। গত দুই সপ্তাহ ধরে এ অবস্থা চলছে সিএনজি স্টেশনগুলোতে। কুড়িল থেকে এ পর্যন্ত তিন-চারটি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন রয়েছে। এর দুইটা ঘুরে এসেছি, গ্যাস নেই। এখানে দিচ্ছে শুনে এসেছি। কিন্তু এখানেও লম্বা লাইন এগোচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমার গাড়ির সিলিন্ডার পূর্ণ হতে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু পাব মাত্র ১৫০-২০০ টাকার গ্যাস। এতে তো সারাদিন চলবে না। আবার বিকালের দিকে লাইনে দাঁড়াতে হবে দুই-তিন ঘণ্টা গ্যাসের জন্য।

শুধু চালকরাই নন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিড়ম্বনায় আছেন রিফুয়েলিং কর্তৃপক্ষও। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্যাস না থাকার কারণে একদিকে যেমন তাদের বিক্রি কমেছে, তেমনি স্টেশনে প্রতিদিন সৃষ্টি হতে থাকা লম্বা লাইন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জরুরি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ শাখার (দক্ষিণ) ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শবিউল আওয়াল বলেন, জাতীয়ভাবে আমাদের গ্যাস সরবরাহ কম, এটা এখন জাতীয় সমস্যা। এ সমস্যা কবে নাগাদ সমাধান হবে আমরা জানি না। সমস্যার সমাধান উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

তিনি বলেন, আমাদের সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির ওপর। কিন্তু গত আড়াই মাস ধরে দেশে এলএনজি আমদানি বন্ধ রয়েছে। যার ফলে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমদানি কখন শুরু হবে আমরা বলতে পারব না। এটা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে