শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বিদেশি সরকারও টাকা পাচারে 'এনকারেজ' করে :পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ম যাযাদি ডেস্ক
  ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
দেশ থেকে টাকা পাচারের ক্ষেত্রে বিদেশের সরকারও 'এনকারেজ' (উৎসাহিত) করে উলেস্নখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, 'বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে কাজের অনুমতিপত্র বা নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়, যা টাকা পাচারে উৎসাহিত করে।' যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ভয়েস অব আমেরিকা বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। বুধবার এ সাক্ষাৎকার সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে। অর্থপাচার ও তা ফেরানোর ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকো যখন বিদেশে টাকা পাচার করেছিলেন, এ মার্কিন সরকারের এফবিআই (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা) আমাদের সাহায্য করেছিল এবং তারা সাহায্য করার \হ ফলে আমরা ওই টাকাগুলো ফেরত নিয়ে এসেছি। কেবল আওয়ামী লীগ সরকারই বিদেশ থেকে পাচার করা টাকা ফেরত নিয়ে এসেছে। আর কোনো সরকার আনেনি। ডক্টর মোমেন বলেন, বিদেশের সরকারের কাছে আমরা যখন তথ্য চাই যে, আমাদের দেশের লোক আপনার দেশে টাকা পাচার করেছে কি না বিদেশি অ্যাকাউন্টে, উনারা এসব তথ্য দেন না। উনারা তখন বলেন যে, গোপনীয়তা আইনে আমরা কোনো তথ্য দিতে পারব না। এটা কিন্তু উভয় সংকট। তিনি আরও বলেন, বিদেশ সরকারও 'এনকারেজ' করে টাকা পাচারে। যেমন কোনো কোনো সরকার বলে, আমার দেশে যদি আপনি ওয়ান মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট (বিনিয়োগ) করেন আপনাকে আমরা ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতি) দেব, সিটিজেনশিপ (নাগরিকত্ব) দেব। এর ফলে তারা টাকা নিয়ে আসতে লোকদের প্রলুব্ধ করছে এবং এসে এখানে তা বিনিয়োগ করতে বলছে। এ দেশগুলোর সরকার যৌথভাবে যদি কাজ করে তাহলে যে টাকাগুলো পাচার হয়েছে সেগুলো ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য বা সব দেশের সরকার বলে যে আমাদের দেশে যারা বিদেশিরা টাকা এনেছেন, আমরা তাদের ইনভেস্টিগেট করব, তখন টাকাগুলো ফেরত পাওয়া যায় কি না সেটার একটা উপায় বের হতে পারে। সাক্ষাৎকারের্ যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,র্ যাবের কারণে দেশে সন্ত্রাসী তৎপরতাটা মোটামুটি বন্ধ। লাস্ট সন্ত্রাসী তৎপরতা হয় হলি আর্টিসানে (২০১৬ সালে)। এরপর আর হয়নি। সুতরাং যারা এই সন্ত্রাসকে পছন্দ করে, তারা খুব হতাশ, তারা খুব দুঃখিত। তাই তারার্ যাবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম ইসু্য তৈরি করে, বানোয়াট জিনিস তৈরি করে। তিনি বলেন, যদি কোথাওর্ যাবের অপরাধ হয়, অবশ্যই তার বিচার হবে। স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা আমরা চাই। এতে কোনো ব্যত্যয় নেই। কোনো হত্যাকান্ড ঘটলে সেটার বিরুদ্ধে একটা আইনি প্রক্রিয়া আছে। র্ যাবে অনিয়ম হলে শাস্তি হয় জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,র্ যাবের অনেক লোক চাকরিচু্যত হয়েছে কিংবা ডিমোশন (পদাবনতি) হয়েছে। এমনকি কয়েকজনের ফাঁসিরও আদেশ হয়েছে, কারণ তারা হাইলি ইরোরগুলার (মারাত্মক অনিয়ম) কাজ করেছে। এখানে জবাবদিহিতার একটা নিয়ম আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক উলেস্নখ করে মোমেন বলেন, আমাদের সম্পর্ক একদিনের নয়, আজ ৫০ বছরের সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ। সিঙ্গেল কান্ট্রি (একক দেশ) হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার (বাণিজ্যিক অংশীদার)। বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে