ঝিনাইগাতীতে লটকন, দীঘিনালায় কলাচাষে ভাগ্য বদল

ঝিনাইগাতীতে লটকন, দীঘিনালায় কলাচাষে ভাগ্য বদল

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে লটকন এবং খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কলাচাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদল করেছেন কয়েকজন কৃষক। ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পেয়ে খুশি সেখানকার চাষিরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত ডেস্ক রিপোর্ট-

আমাদের ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি জানান, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় লটকন চাষ করে কৃষক-কৃষানিদের ভাগ্য বদল হয়েছে। এই মৌসুমি ফলের চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক। এখানকার মাটি এই সুস্বাদু ফল চাষে উপযোগী হওয়ায় 'লটকন' চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা।

কৃষি বিভাগের ভাষ্যমতে, ছায়াযুক্ত সঁ্যাতসেঁতে মাটিতে লটকনের ফলন ভালো হয়ে থাকে। এ উপজেলায় এমন ভূমির পরিমাণ শত শত হেক্টর। তাই এখানে লটকন চাষ করে প্রচুর টাকা আয় হতে পারে উপজেলার কৃষকদের। উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামে মো. হামিদুলস্নাহ নামে এক ইউপি সদস্য লটকন চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এ বছর তার বাগান থেকে প্রায় ২ হাজার কেজি লটকন ফল উৎপাদন হয়েছে। ৫০ টাকা কেজি হিসেবে এর দাম ধরা হলে উৎপাদিত লটকনের মূল্য দাঁড়াবে এক লাখ টাকা। এছাড়া হলদী গ্রামে আরও একটি বাগানে এবার লটকন ফলন হয়েছে।

বাগানের মালিক ইউপি সদস্য হামিদুলস্নাহ জানান, গত ১০ বছর আগে তারা নরসিংদী থেকে ১০০টি চারা এনে রোপণ করেন। গত বছর প্রায় ২৫হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছিলেন। এর আগে গাছগুলো পরিচর্যা ও যত্ন নেননি। এ বছর কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাগানে যত্ন নেওয়ায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, দেশের নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ ও পঞ্চগড়ের ন্যায় এ উপজেলায় ব্যাপক আকারে লটকনের চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। লটকন চাষ করতে মাঠ পর্যায়ে চাষিদের পরার্মশ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মোহাম্মদ হাসমত আলী পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হলেও শখের বশে হয়েছেন চাষি। তিনি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার রশিক নগর গ্রামের মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ছেলে। বয়ে যাওয়া নদীর চরে শখের বশে পরিত্যক্ত ৮০ শতক জমিতে আগাছা পরিষ্কার করে রং সাগর জাতের কলা চাষ করেছেন। ৮০ শতক জমিতে ৫শ' চারা রোপণ করেন। বর্তমানে প্রতিটি গাছেই রং সাগর কলার দৃষ্টিকাড়া ছড়ি ধরেছে। বলা যায়, এখন তিনি একজন সফল কলা চাষি।

সরেজমিনে গেলে চাষি মোহাম্মদ হাসমত জানান, রং সাগর কলা চাষে তেমন কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। কিছু পরিমাণে সার ও অধিক পরিমাণে জৈব সার দিলে হয়। প্রথম বারের মতো শখের বশে এ জাতের কলাচাষ করেই সফলতা পেয়েছেন। বর্তমানে ৫শ' গাছের প্রতিটিতেই কলার ছড়া আছে। বর্তমান বাজার দরে প্রায় দেড় লাখ টাকারও বেশি বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। কীটনাশকমুক্ত থাকায় স্থানীয়দের কাছে এ কলার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কলা বারো মাসি ফল, যা সবচেয়ে সহজলভ্যভাবে চাষ করা যায়। বাড়ির আঙিনা, পরিত্যক্ত জমিতে বা রাস্তার পাশে চাষ করা যায় কলা। বিগত সময়ের তুলনায় দীঘিনালায় দ্বিগুণ চাষি কৃষি বিভাগের উৎসাহ পেয়ে কলাচাষে আগ্রহী হয়েছেন। পুষ্টিগুণে ভরপুর কলা চাষ করে সফল হয়েছেন উপজেলার বহু চাষি। এসব চাষির জন্য কৃষি বিভাগ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে