রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বাঁশখালী ও কাজিপুরে জরাজীর্ণ ব্রিজ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

মধুপুরের দোখলা-শিরিস্টাল রাস্তা এখন মরণফাঁদ
ম স্বদেশ ডেস্ক
  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জলকদর খালের ওপর নির্মিত জরাজীর্ণ বাংলা বাজার ব্রিজ -যাযাদি
চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে জরাজীর্ণ দু'টি ব্রিজ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। এদিকে টাঙ্গাইলের মধুপুরে দোখলা-শিরিস্টাল রাস্তা সংস্কারের অভাবে এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ দুই ব্রিজ ও একটি রাস্তায় চলাচলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রম্নত এর প্রতিকার চেয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত ডেস্ক রিপোর্ট- বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল-গন্ডামারা এলাকায় জলকদর খালের ওপর নির্মিত বাংলাবাজার ব্রিজ যেন এক জরাজীর্ণ অচল ব্রিজ। আর জরাজীর্ণ এ ব্রিজ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন। উপজেলার পশ্চিম চাম্বল ও গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম ও পূর্ব বড়ঘোনার অর্ধলাখ মানুষের একমাত্র ভরসা এই বেইলি ব্রিজটির দ্রম্নত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলাবাজার বেইলি ব্রিজের বেশ কয়েকটি পাটাতন ভেঙে গেছে। মূল স্ট্রাকচার থেকে পাটাতন সরে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। এর আগে ২০২০ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জিওবি ফান্ড হতে ব্রিজটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। অথচ দুই বছর পেরুতে না পেরুতেই ব্রিজের এমন হালে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। অন্যদিকে গন্ডামারায় নির্মিত কয়লা বিদু্যৎ কেন্দ্রের কাজে নিয়োজিত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে ব্রিজটি বেশ দুর্বল হয়ে গেছে। এতে দুই-একটি ছোট যানবাহন কিংবা লোকজন উঠলেই সেতুটি কেঁপে ওঠে। বিশেষ করে স্কুলগামী ছোট ছেলেমেয়ে ও বৃদ্ধদের চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে বেশি। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য ও লবণ এবং মাছ বাজারজাত করতে দুর্ভোগেও পড়তে হয় অনেকের। বাংলাবাজার শাহ আমানত দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী লেয়াকত আলী জানায়, এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন মাদ্রাসায় যেতে ভয়ে ভয়ে পার হন। ব্রিজেই উঠলেই বুকটা কেঁপে ওঠে। তাই ব্রিজ দিয়ে কখনোই একা একা চলতে সাহস পান না। এ ব্যাপারে স্থানীয় সমাজ কর্মী হামিদুর রহমান চৌধুরী বলেন, জলকদর খালের ওপর নির্মিত বাংলাবাজার বেইলি ব্রিজটি প্রতি বছরই নষ্ট হয়। এরপর ব্রিজটি নামমাত্র সংস্কার করা হয়। বর্তমানে ব্রিজটিতে বেশ কয়েকটি পাটাতন নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে মূল স্ট্রাকচার থেকে ছয় ইঞ্চি পরিমাণ দূরত্বে বেশ কয়েকটি পাটাতন সরে যায়। এতে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচল করে। ব্রিজ সংস্কার করার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, 'আমরা ব্রিজটি পরিদর্শন করেছি। ব্রিজটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ভারী যানবাহন চলার কারণে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠিয়ে দিয়েছি। আশা করি, ব্রিজটি সংস্কারের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের চালিতা ডাঙ্গা ইউনিয়নের ভানুডাঙ্গা গ্রামের নুহাই ব্রিজটি মাঝ বরাবর ভেঙে দেবে গিয়ে যাতায়াতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অসতর্কতায় যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, নুহাই ব্রিজটির মাঝপথে দেবে গিয়ে যাতায়াতে মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মুকুল জানান, যাতায়াতে সংকট সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা প্রকৌশল অফিসকে জানানো হয়েছে। এলজিইডি অফিস যাতায়াত স্বাভাবিক করার জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা নিলেও তা বেশি দিন টেকেনি। ফলে ব্রিজটি আবারও চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুরের দোখলা-শিরিস্টাল-গোলাকার ও দরিপাড়ার রাস্তাটির বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এতে যানবাহনসহ যাত্রীদের চলাচলের বিঘ্ন ঘটেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভ্যান-রিকশা দূরের কথা হেঁটে চলা দুষ্কর হয়ে পড়েছে রাস্তাটি দিয়ে। বিশালাকারের খানাখন্দ আর পিচ্ছিল লালমাটি রাস্তাটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে আড়াই কিলোমিটারের দুর্ভোগ এড়াতে বাধ্য হয়ে ৯ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করছে মানুষ। রাস্তাটি খারাপ থাকায় বর্ষার দিনে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ জনসাধারণের চলাচলের জন্য বর্তমানে রাস্তাটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। রাস্তাটি দ্রম্নত পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, মধুপুরের অরণ্যবেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গোলাকার ইউনিয়ন। বৃহদাকারের ইউনিয়নটি বিভাজন করে ছয় বছর আগে সরকার ফুলবাগচালা নামে আরেকটি ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করে। এই দুই ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা শহর ও ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-জামালপুর মহাসড়কের সংযোগ সড়কটি হলো মধুপুর-দোখলা-হাগুড়াকুড়ী-শিরিস্টাল-গোলাকার ও দরিপাড়া রাস্তা। শুধু তাই নয়, দরিপাড়া হয়ে জামালপুর জেলা শহরে সরাসরি প্রবেশের একমাত্র রাস্তা এটি। দু'টি ইউনিয়ন ও তার আশপাশের অঞ্চলের মানুষের উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য মালামাল আনা-নেওয়া করতে হয় এ রাস্তা ব্যবহার করেই। জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পাকাকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। এখনো আড়াই কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণকাজ বাকি। সেই অংশটি বর্ষা মৌসুম শুরুর সঙ্গেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান বলেন, 'আমাদের এ অঞ্চলটি পাহাড়ি হলেও ফল-ফসলে সমৃদ্ধ। ফসল বাজারে নেওয়া এবং চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি পাকা করা অত্যন্ত জরুরি।' শিরস্টাল গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও মজিবর রহমান বলেন, 'আমাদের ভোগান্তি বহুদিনের। এ ভোগান্তি দূর করার জন্য শোলাকুড়ী ও ফুলবাগচালা ইউপির চেয়ারম্যানেরা উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর মধুপুর উপজেলা প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন সাগর জানান, ফুলবাগচালা ও গোলাকার ইউনিয়নের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে মধুপুর-গোলাকার সড়কের শেষাংশ পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই টেন্ডার আহ্বান করে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে। শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে