logo
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৮ আশ্বিন ১৪২৭

  ছাগলনাইয়া (ফেনী) প্রতিনিধি   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০  

ফেনীতে মিলল নতুন প্রজাতির ফুল

ফেনীতে মিলল নতুন প্রজাতির ফুল
ফুটকি ফুল

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার চম্পকনগর গ্রামে নতুন প্রজাতির ফুলের সন্ধান পাওয়া গেছে। নতুন ফুলটি দেখতে বৃহত্তর সিলেট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া 'ফুটকি' বা 'দাঁতরাঙা' ফুলের কাছাকাছি। কিন্তু 'ফুটকি' ফুলের রং বেগুনি, আর নতুন দেখা পাওয়া ফুলটির রং সাদা। ফলে দেশে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৩০ প্রজাতির উদ্ভিদের সঙ্গে আরও একটি নতুন প্রজাতির নাম যুক্ত হয়েছে। এ নতুন উদ্ভিদ আবিষ্কারে গবেষকদলের নেতৃত্ব দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আবিষ্কৃত উদ্ভিদের বাংলা নামকরণ করা হয়নি। তবে একে 'সাদা ফুটকি' বলা যেতে পারে। গত বছর ২ জুন অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন ও তার দল ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার চম্পকনগর গ্রামে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের ওপরে একটি জরিপ করতে। সেখানেই এই ফুল তার চোখে পড়ে। জানা যায়, ১৮৮৯ সালে ব্রিটিশ উদ্ভিদবিদ হুকারস তার ফ্লোরা অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া বইতে এই ফুলের কথা উলেস্নখ করেছিলেন। এতে বলা হয়েছে, ফুলটি ভারতের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, বাংলাদেশের পূর্বদিকেও এটি দেখা গেছে। কিন্তু সাদা রঙের ফুটকি ঠিক কোথায় কোন এলাকায় দেখা গেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে হুকারস উলেস্নখ করে যাননি। অনেকে বিভিন্ন সময় সিলেটের রেমা কালেঙ্গা বনসহ বিভিন্ন স্থানে ওই ফুল দেখেছেন বলে দাবি করলেও তারা তার কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন ও তার দল ওই ফুল দেখার পর এর ফল ও ফুল সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন, এটিই হুকারসের উলেস্নখ করা সেই ফুলের গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে 'ম্যালাস্টমা ইমব্রিকেটাম ওয়ালি এক্স ট্রিয়ানা'। ওই ফুলের ওপরে একটি গবেষণা প্রবন্ধ গত নভেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব পস্নান্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টে প্রকাশ করেছেন তিনি। গবেষক দলটি জানায়, কিছুটা গুল্মজাতীয় ওই উদ্ভিদের পাতা অনেকটা তেজপাতার মতো। সাধারণত পাহাড়ি ঝরনার নিচে ও বনভূমির প্রান্তীয় এলাকায় এরা বেশি জন্মায়। ফলে এটি দেশের পার্বত্য জেলাগুলোতেও দেখা যেতে পারে বলে তারা মনে করেছেন। স্থানীয় লোকজনের বিশ্বাস, ওই ফুলের গাছের পাতা ও ফল পেট খারাপ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা সমস্যার ওষুধ হিসেবে ভালো কাজে দেয়। স্থানীয় লোকজন তা ব্যবহার করে সুফলও পেয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় হারবেরিয়ামের পরিচালক পরিমল সিংহ বলেন, বাংলাদেশে উদ্ভিদের তালিকায় নতুন একটি প্রজাতি যুক্ত হলো, এটি খুবই খুশির সংবাদ। এখন আমাদের উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ হাজার ৮৩১। নতুন পাওয়া এই ফুলের গাছটির কোনো ঔষধি গুণ আছে কিনা তা আমরা আরও অনুসন্ধান করে দেখব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে