logo
রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ ১০ কার্তিক ১৪২৭

  বরিশাল অফিস   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০  

তৃণমূলের রাজনীতি

বরিশালে উজ্জীবিত আ'লীগ দুর্বল বিএনপি, নিষ্ক্রিয় জাপা

বরিশালে উজ্জীবিত আ'লীগ দুর্বল বিএনপি, নিষ্ক্রিয় জাপা

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশালে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগ অনেকটাই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। দল পরিচালনায় জেলা কমিটির প্রধান নেতৃত্বে তেমন পরিবর্তন না আসলেও মহানগর কমিটিতে এসেছে নতুন নেতৃত্ব। মহানগর ও ওয়ার্ডপর্যায় এসেছে তরুণ নেতৃত্ব। এতে করে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ও পুরানো নেতৃত্ব দিয়েই চলছে বরিশাল বিএনপি। নেতৃত্বে পরিবর্তন কিংবা নতুনদের জায়গা না হওয়ায় দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়ছে বিএনপির কার্যক্রম। আর জাতীয় পার্টি অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটা নির্বাচনকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই বরিশালে সাংগঠনিক বিস্তার লাভ করতে শুরু করে। সেই তুলনায় প্রাচীন দল হয়েও নেতৃত্বের অভাবে কর্মী তৈরিতে ব্যর্থ ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিএনপি দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকেও বরিশালের উন্নয়নে তেমন কোনো ভূমিকা না রাখতে পারায় আস্তে আস্তে জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ নিজেদের পাকাপোক্ত অবস্থান তৈরি করে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বরিশাল সদর আসন থেকে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। এরপর সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য আর বেগ পেতে হয়নি এই দলটিকে। জয়ের ধারাবাহিকতায় প্রথমে সিটি নির্বাচন ও পরবর্তীতে সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে আবারও জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। নেতাকর্মীরা মনে করেন এ সাফল্যের পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছে দক্ষিণাঞ্চল আওয়ামী লীগের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুলস্নাহ। তার দক্ষ নেতৃত্বের কারণেই বরিশালে আওয়ামী লীগ আজ সংগঠিত। তার নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ পরিচালিত হয়ে আসলেও মহানগরে এসেছে পরিবর্তন। ২০১৮ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন রাজনীতিকদের দিয়ে সাজানো হয়েছে এই কমিটি। এমনকি ওয়ার্ড কমিটিতেও জায়গা দেওয়া হয়েছে নতুনদের। এর সুফল পেতে শুরু করেছে দলটি। তবে প্রায় দুই বছর অতিক্রম হলেও মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো হয়নি। তারপরও বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশাল এখন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু বলেন, '৭৫-এর পর যেকোনো সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকারের সময় বরিশালে শতগুণ উন্নয়ন হয়েছে। শুধু উন্নয়নের দিক থেকেই নয় বরিশালে আওয়ামী লীগ এখন যেকোনো জেলার থেকে সুসংগঠিত। এদিকে বিভাগীয় শহর বরিশালে বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট মহানগর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দীর্ঘ ৪ বছর আগে। টানা ৭ বছর ধরে চলা এই কমিটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ এখন শূন্য। সাধারণ সম্পাদক পদটি এখন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্তনির্ভর। কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতা মারাও গেছেন। কেউ কেউ আবার রাজনীতিবিমুখ কিংবা বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে নতুন নেতৃত্ব পেতে মুখিয়ে আছেন নেতাকর্মীরা। ভেতরে ভেতরে চলছে নানা গ্রম্নপিং, লবিং, তদবির। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের অক্টোবরে মজিবর রহমান সরোয়ারকে সভাপতি ও কামরুল আহসান শাহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭১ সদস্যবিশিষ্ট মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৪ সালে অকালে মৃতু্যবরণ করেন সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান শাহিন। এরপর দলের ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদারকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থেকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দিয়েই চলছে নগর বিএনপি। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে নগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক শাহেদ আকন সম্রাটও মারা যান। দলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ সাংগঠনিক সম্পাদক আলতাফ মাহমুদ সিকদার দীর্ঘ বছর দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে সরে আছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক আ ন ম সাইফুল আহসান আজিমও দীর্ঘ বছর দলীয় কর্মসূচিতে আসেন না। বেশ কয়েকজন সহ-সভাপতি ও সম্পাদকীয় পদের নেতা নানা কারণে রাজনীতি থেকে দূরে সরে আছেন। এসব কারণে বিএনপিতে আজ চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দলীয় কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে দায়সারাভাবে। হাতেগোনা কিছু নেতাকর্মী দিয়ে চলছে সংগঠনের কার্যক্রম। মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু বলেন, আমিও চাই নতুন নেতৃত্ব আসুক। কেননা টানা ৭ বছরে কমপক্ষে ৩টি কমিটি আসার কথা। অথচ একটা কমিটি দিয়েই চলছে এখনো। তিনি বলেন, দলের অনেকে মারা গেছেন, অনেকে রাজনীতি করেন না, কারও কারও আবার বয়স হয়ে গেছে। এই কমিটি দিয়ে মহানগর বিএনপি চলে না বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে মহাজোটের অংশ জাতীয় পার্টি বরিশালে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। দলীয় কর্মকান্ড তো দূরের কথা করোনাসহ কোনো দুর্যোগেই এই দলের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। একাধিক সূত্র জানিয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের কোন্দলই এজন্য দায়ী। তবে যেকোনো নির্বাচনে দলের প্রার্থীকে কেন্দ্র করে কিছু কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বরিশাল মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক বশির আহমেদ ঝুনু জানান, কোনো দলেরই রাজনৈতিক তেমন কোনো কর্মসূচি নেই। তবে কেন্দ্রের নির্দেশিত কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমও তারা করছেন বলে দাবি করেন। \হ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে