কুড়িগ্রামের রাজারহাট

বধ্যভূমি আছে, স্বীকৃতি নেই বীর শহীদদের

বধ্যভূমি আছে, স্বীকৃতি নেই বীর শহীদদের
রাজারহাট ঠাটমারী বধ্যভূমি -যাযাদি

দুঃখজনক হলেও সত্য, কুড়িগ্রামের রাজারহাটের ঠাটমারী বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত শহীদরা আজও বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনী রেলযোগে এসে ঘাঁটি করে এ অঞ্চলে প্রকাশ্যে গুলি করে বেয়নট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে সেই বীর শহীদদের।

এমন লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী বলরাম (৭৪), আকবর আলী (৬৭) ও হাসেন আলী (৭৫) বলেন, একাত্তরে যুদ্ধের সময় এলাকার মানুষের ওপর পাক হানাদাররা যেভাবে অত্যাচার করেছে- তা বলতে গেলে চোখে পানি চলে আসে। রেলযোগে এসে ঠাটমারী ব্রিজের পাশে ক্যাম্প স্থাপন করে পাক হানাদাররা। ক্যাম্প থেকে রাজাকারদের সহযোগিতায় বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে বাড়িঘর লুট করে স্থানীয় লোকদের ধরে নিয়ে এসে ক্যাম্পে নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করতো। বহু মা-বোনকে ওই ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে ইজ্জত লুটে হত্যা করে নরপিশাচরা।

তারা আরও বলেন, সে সময় জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষের দিকে ঠাটমারী বাজেমুজরাই এলাকার সাবেদ আলী রেললাইনের পাশে গরু চরাতে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় তাকে দেখে পাক হানাদাররা গুলি করে হত্যা করে। ওই এলাকায় রামগোপাল ও রাম কুমার নামে দুই ভাই ছিলেন। তাদেরও ক্যাম্পে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঠাটমারী ব্রিজের নিচে অসংখ্য মানুষের কঙ্কাল পড়ে ছিল। সেগুলো তারা দেখেছেন। সেখানে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।

ওই এলাকার রাম গোপালের স্ত্রী ননিবালা (১২০) আক্ষেপ করে বলেন, 'যুদ্ধ হবার ৫০ বছর পার হয়া গ্যালো। মোর স্বামী ও দেবর এ দ্যাশটার জন্য পাক হানাদারদের হাতত মরি গেল, কিন্তু মোর ছাওয়াগুলা আজ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, সরকার একনা চোখ তুলিও দ্যাখে না। মোক একনা বয়স্ক কাট করি দিছে তাকে দিয়া মুই কোনোমতে চলছং।' মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রকাশ্যে যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের তালিকায় লিপিবদ্ধ না হওয়ায় এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আজগার আলী বলেন, 'আমার ভাই আজিজুল হককে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদাররা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এই ঠাটমারী ব্রিজের নিচেই নির্যাতন করে হত্যা করে।' তার ভাইয়ের স্মরণে রাজারহাট বাজারে একটি রাস্তার নামকরণ রয়েছে। এরকম অসংখ্য নাম না জানা মানুষের লাশ এ ঠাটমারী বধ্যভূমিতে রয়েছে।

রাজারহাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার মো. রজব আলী বলেন, পাক হানাদার বাহিনী অনেককেই ধরে নিয়ে গিয়ে এখানে হত্যা করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে