বইমেলা প্রতিদিন

কাল শেষ হচ্ছে প্রাণের মেলা

কাল শেষ হচ্ছে প্রাণের মেলা

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২১। আজ রোববার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। এদিকে শনিবার শেষ ছুটির দিনে কিছুটা বেড়েছে পাঠক দর্শনার্থীর সংখ্যা। তবে চলমান লকডাউনের মধ্যেই এ দিনেই সর্বোচ্চ বই বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন প্রকাশনা ও স্টলের বিক্রেতারা।

১৪ এপ্রিল বাংলা বর্ষবরণের দিনে বইমেলা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ২ দিন আগে অর্থাৎ ১২ এপ্রিল শেষ হচ্ছে। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতি চরম অবনতি হওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফা লকডাউন শুরু হচ্ছে। তাই তার আগেই বইমেলা শেষ করার তাগিদ রয়েছে, যাতে মেলায় অংশগ্রহণ করা প্রায় সাড়ে ৬শ' স্টল ও প্যাভিলিয়ন স্টল গুছিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়তে পারে।

এ ব্যাপারে প্রকাশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, এ বছর শত প্রতিকূলতার মধ্যেই অমর একুশে বইমেলা আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজক হিসেবে বাংলা একাডেমি বইয়ের এই সর্ববৃহৎ উৎসব সফলভাবে শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। প্রকাশক ও প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট শিল্প রক্ষায় দেরিতে হলেও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ বছর মেলা আয়োজনের কথা চিন্তা করেছে। এমনকি প্রকাশকদের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে লকডাউনের মধ্যেও মেলা চালু রাখা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হওয়ায় মেলার সময়সীমা ২ দিন কমিয়ে ১২ এপ্রিল করা হবে। শীঘ্রই তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।

এবারের বইমেলা কতখানি সফল হয়েছে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, গত বারের তুলনায় পাঠক ও দর্শনার্থী সমাগম, নতুন বই কিংবা বেচা-বিক্রি কম হলেও মহামারির বিবেচনায় যথেষ্ট সফল হয়েছে আয়োজন। সীমিত সময় মেলা চালু থাকলেও সাধারণ পাঠকদের আগ্রহের কোনো কমতি ছিল না বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এদিকে শনিবার মেলার ২৪তম দিনে দুপুরের পর পাঠক দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। ছুটির দিন থাকায় অনেকেই তার পছন্দের বইটি কিনতে মেলায় আসেন। অন্যান্য দিনে দর্শনার্থীরা বই না কিনলেও শনিবার প্রায় শতভাগ দর্শনার্থীকে বইয়ের ব্যাগ হাতে মেলা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করতে দেখা গেছে। অন্বেষা, সময়, বাতিঘর, বৈভব, দাঁড়ি কমা, তাম্রলিপিসহ একুশে, বর্ণমালা, দক্ষিণ হাওয়া, বঙ্গদেশ, ভাষাচিত্রের মতো ছোট স্টলগুলোও লকডাউনের মধ্যে সর্বোচ্চ বই বিক্রি করেছে বলে জানিয়েছে। এসব স্টল ও প্যাভিলিয়নের বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিন দর্শনার্থীরা বইমেলা ঘুরতে চলে গেলেও এদিন অধিকাংশ দর্শনার্থী বই হাতে মেলা ছেড়েছেন।

এদিকে নির্ধারিত সময়ের আগে মেলা শেষ হওয়ার বিষয়ে প্রকাশক নেতারা জানান, করোনা পরিস্থিতির চরম অবনতি ও ২য় দফা লকডাউনের আগে মেলা শেষ করা প্রয়োজন রয়েছে। তাই এই সীদ্ধান্তে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নেই।

শনিবার অমর একুশে বইমেলার ২৪তম দিনে নতুন বই এসেছে ১০৮টি। এর মধ্যে গল্প-২০, উপন্যাস-৯, প্রবন্ধ-১, কবিতা-৩৫, গবেষণা-২, ছড়া-৬, শিশুসাহিত্য-৭, জীবনী-৪, রচনাবলি-১, বিজ্ঞান-১, ইতিহাস-৩, ধর্মীয়-৭, অনুবাদ-৩, সায়েন্স ফিকশন-১, অন্যান্য-৮টি বই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে