বিভিন্ন জেলার করোনা চিত্র

শনাক্তের হার বেড়েছে ফরিদপুর-বাগেরহাট টাঙ্গাইলে, কমেছে সাতক্ষীরায়

শনাক্তের হার বেড়েছে ফরিদপুর-বাগেরহাট টাঙ্গাইলে, কমেছে সাতক্ষীরায়

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের হার বেড়েছে ফরিদপুর, বাগেরহাট ও টাঙ্গাইলে। এর মধ্যে ফরিদপুরে শনাক্তের হার ৫৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ, বাগেরহাটে ৪৪ শতাংশ এবং টাঙ্গাইলে নতুন আক্রান্তের শতকরা হার ৩৩.৩৩ শতাংশ। অপরদিকে সাতক্ষীরায় শনাক্তের হার ৬৪ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৩১ শতাংশে।

ফরিদপুরে ৯৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৪ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এই জেলায় শনাক্তের হার ৫৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত দুইদিন আগেও শুক্রবার ফরিদপুরে শনাক্তের হার ছিল মাত্র ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সেদিন ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় মাত্র ১৮ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছিল।

ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনর্চাজ ডা. অনন্ত বিশ্বাস জানান, করোনা পরিস্থিতি গত দুই সপ্তাহ ধরে অবনতির দিকে রয়েছে। ফলে রোগীর চাপ বাড়ছে অনেক। কিছু দিন আগেও ওয়ার্ডে রোগী ছিল ৩-৪ জন, এখন সেখানে সিট ফাঁকা নেই। করোনার নতুন ধরন আগের থেকে ভিন্ন। কারণ, এখন আইসিইউতে ভর্তি হয়ে সুস্থতার হার কম। মারা যাচ্ছে বেশি এবং তাও আবার দ্রম্নত।

হাসপাতালের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে জানা গেছে, গত ১ থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ জনের মৃতু্য হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনই পঞ্চাশোর্ধ্ব।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২২ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯০৯ এবং মারা গেছেন ১৮৮ জন।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলায় করোনা সংক্রমণ চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরীক্ষায় ১০২ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। তবে এ সময়ের মধ্যে জেলায় কোনো মৃতু্যর ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে বাগেরহাট জেলায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে মোট এক হাজার ১২০ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। আর মারা গেছেন ৩৪ জন।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমাউন কবির সোমবার দুপুরে জানান, রোববার একদিনে ২২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় জেলায় ১০২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৪ শতাংশ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাবে ৯১টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। আর জেলার বিভিন্ন উপজেলায়র্ যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে ১৩৬ জনের পরীক্ষায় ৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে, জেলার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মোংলা উপজেলায় প্রশাসনের আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধের পঞ্চম দিন চলছে। মোংলা পৌরসভা এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকলেও সাধারণ মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে বাইরে ঘোরাফেরা করছে। পৌরসভার প্রবেশদ্বারে চেকপোস্টের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে সচেতনতার পাশাপাশি স্বস্থ্যবিধি মানতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ চলবে।

এদিকে টাঙ্গাইল স্টাফ রিপোর্টার জানিয়েছেন, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৭ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় নতুন আক্রান্তের শতকরা হার ৩৩.৩৩ শতাংশ, যা গত এক মাসে সর্বোচ্চ। সোমবার সকালে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ৩৯ জন, কালিহাতীতে ২১ জন, বাসাইলে পাঁচজন, সখীপুরে চারজন, গোপালপুর ও ঘাটাইলে তিনজন করে, মধুপুর ও দেলদুয়ারে একজন করে রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী উপজেলা উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগব্যবস্থার ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় এই দুই উপজেলায় করোনা শনাক্তের হার অন্য উপজেলাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। ইতোমধ্যে দুই দফায় কালিহাতী উপজেলার ৩৩টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলাকেও কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ নিয়ে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ হাজার ৫৩২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৩২২ জন।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এ পর্যন্ত ৪১৯ জন রোগী ভর্তি হন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০ জন। কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন মোট ২৫ হাজার ১০০ জন।

হার কমেছে সাতক্ষীরায়

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৪ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। শনাক্তের হার ৬৪ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৩১ শতাংশে। এ সময় করোনার উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃতু্য হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ জন এবং সদর হাসপাতালে আটজন করোনা পজিটিভ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং বাসাবাড়িতে বর্তমানে মোট ৬৯৮ জন করোনা পজিটিভ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে সাতক্ষীরার ১৩৮ কিলোমিটার ভারত সীমান্তজুড়ে বিজিবি সীমান্ত টহল জোরদার করেছে। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় নারী-পুরুষ, শিশুসহ গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়ন বিজিবি। আটককৃতরা সবাই চট্টগ্রাম, নওগাঁ, খুলনা ও যশোর জেলার বাসিন্দা। বিষয়টি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আল মাহমুদ।

এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে ৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত স্থানীয় জেলা প্রশাসনের দুই দফায় দেওয়া দুই সপ্তাহের লকডাউন চলছে। করোনার ঊর্ধ্বমুখী নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শহরের মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে চেকপোস্ট বসিয়ে মানুষ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে খুলনা ও যশোর থেকে সাতক্ষীরায় প্রবেশের পথ। কিন্তু হাটবাজারের সাধারণ মানুষ কোনোভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে