শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল

শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল
তীব্র কুয়াশায় ঘেরা সকাল -ফাইল ছবি

মাঘ মাসের মাঝামাঝিতে দেশে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগসহ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই শৈত্যপ্রবাহের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জনজীবন। কুয়াশা না থাকলেও হাড় কাঁপানো কনকনে শীত এ জনপদের মানুষকে কাবু করে ফেলেছে।

আমাদের পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, হিমালয়ের কোল ঘেঁষে দেশের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চললেও শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে তীব্র শীতে কাবু হয়ে পড়েছে মানুষ। ভোগান্তিতে পড়েছে দিনমজুর খেটে খাওয়া গরিব অসহায় শীতার্ত মানুষ।

শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। যা সারাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার এখানে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

শুরুটা বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে। মেঘলা আকাশে উত্তরে কনকনে শীতল বাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করে। যা চলে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে টানা ২৪ ঘণ্টার এই উত্তরে বাতাস রেকর্ড করেছে। অবশ্য শুক্রবার বিকালে থেকে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে কনকনে শীতল বাতাস।

আবহাওয়া অফিস বলছে, মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার কারণে বেশি শীত অনুভুত হচ্ছে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় বাতাসের গতিবেগ বেড়ে গেছে।

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড় জেলার হিমালয় কন্যাখ্যাত তেঁতুলিয়া উপজেলায় এই শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করছে প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। গত বৃহস্পতিবার ৯.৬ ও বুধবার ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।

তীব্র শীত ও ভারী শৈত্যপ্রবাহের কারণে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া দেশের শীতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিণত হয়েছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি এই দুই মাসে ৪৫ দিনই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, গত বছর ডিসেম্বর মাসের ২৭ দিনই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। যার ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল ১০ দিন, ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল

৫ দিন। চলতি ২০২২ সালের ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল ৫ দিন ও ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল ৯ দিন। চলতি মৌসুমের দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় শুক্রবার।

কাঞ্চনজঙ্ঘা-হিমালয় পর্বত সন্নিকটে হওয়ায় উত্তর-পূবালী শীতল হাওয়ায় সকালে হালকা কুয়াশা থাকলেও শীতের তীব্রতা অনুভূত হতে থাকে। রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ভারী শৈতপ্রবাহের ঠান্ডার প্রকোপে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। খড়-কুটো আগুনে জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা যায় প্রান্তিক জনপদের মানুষগুলোকে।

হঠাৎ করে তাপমাত্রা নিচে নামায় ঘরের বিছানা, মেঝে ও আসবাবপত্র বরফশীতল হয়ে উঠছে। ঠান্ডায় দুর্ভোগে প্রচন্ড কষ্ট পাচ্ছে শিশু থেকে বয়োজ্যৈষ্ঠরা। বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। শীতের তীব্রতার কারণে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন দিনমজুর, পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক থেকে নানান পেশাজীবী মানুষ। তারা জানান, সন্ধ্যা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বরফের মতো ঠান্ডা লাগে। এ কারণে কাজে যেতে পারছি না।

শীতের তীব্রতার কারণে বেড়েছে শীতজনিত নানান ব্যাধি। হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে জ্বর-সর্দি, কাশি, অ্যাজমা, সাইনোসাইটিস, ইসনোফিলসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শীতে করোনার প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিচ্ছেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ৬টায় ৭ দশমিক ৩ রেকর্ড হয়। যা এ মৌসুমের দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ছিল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। রেকর্ড হয়েছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আকাশের মেঘ সরে যাওয়ার কারণে ভারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এরকম দু'চারদিন চলতে পারে। ফেব্রম্নয়ারির ২ তারিখ থেকে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তেঁতুলিয়ায় রাতে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ নটিক্যাল মাইল। সেই সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা কনকনে শীতল বাতাসের কারণে আবহাওয়ার এমন রূপ দেখা মিলেছে।

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে হঠাৎ করে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, শুক্রবার সকাল ৯টায় ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। যা বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় অর্ধেক কমে আসে।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার ভোরের দিকে একটু হালকা কুয়াশা পড়লেও সকাল হতে না হতেই সূর্যের দেখা মিলে। কিন্তু উত্তরের হিমেল হাওয়ার গতিবেগ বেড়ে যাওয়ায় ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে বেশি। আগামী আরো দু-তিন দিন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

অপরদিকে হঠাৎ করে কনকনে হিমেল হাওয়া বইতে থাকলে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হওয়ায় শ্রমজীবী ও কৃষিজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে ইরি-বোরো চাষাবাদে কৃষি শ্রমিকরা কষ্ট পাচ্ছেন বেশি।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, জেলার শীতার্ত মানুষের সহায়তায় এ পর্যন্ত ৮০ হাজারের মতো শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো সক্রিয় আছে।

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, হিমালয়ের চারদিক দিয়ে অক্টোপাসের মতো ধেয়ে আসছে শীতের সাঁড়াশি আক্রমণ। পারদ নিম্নমুখী হওয়ায় শৈত্যপ্রবাহ দিন দিন বেড়েই চলছে, আর রীতিমতো থরথরে কাঁপছে হিমালয়ঘেঁষা নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার মানুষজন।

শীতের এই সামগ্রিক দাপটে আকাশ মেঘাছন্ন হয়ে যাওয়ায় উত্তরী হাওয়ার অবাধ গতিতে মানুষের শরীরে হাড় কাঁপানো কাঁপুনি ধরেছে। গত ৩ দিন ধরে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। বিকালে কিছুটা রোদ দেখা দিলেও পূবালী বাতাসে তা মলিন হয়ে যায়। উত্তরবঙ্গে শীতের দাপট বরাবরই বেশি থাকে। তার ব্যতিক্রম এবারো ঘটেনি, তবে এবারের গত কয়েক দিনের শীত গত কয়েক বৎসরের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে হিমালয় পর্বত সংলগ্ন নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার মানুষজন হাড়কাঁপানো শীতে থরথরে কাঁপছে মানুষসহ গবাদি পশু।

শুক্রবার বেলা ১১টায় নীলফামারীর ডিমলায় আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাপমাত্রা ছিলো ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যের চেয়েও আরও কম বলে মনে করছেন, নীলফামারীর হিমালয়ঘেঁষা ডিমলা উপজেলার সাধারণ মানুষজন।

গত তিন দিন ধরে শীতের এমন আক্রমণে একটু উষ্ণতার জন্য উত্তরের সর্বশেষ উপজেলা ডিমলায় গরিব অসহায় মানুষজনের খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের উত্তাপই ছিল একমাত্র ভরসা। তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর চর এলাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগুনের কুন্ডলি জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে অসহায় মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র পরিবারগুলো। শীতের পুরানো গরম কাপড়ের দোকানে শুরু হয়েছে উপচেপড়া ভিড়। এ ছাড়া শীতজনিত রোগে বয়স্ক ও শিশুদের নিউমোনিয়া, হাঁপানি, কোল্ড ডাইরিয়া, কাশিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। জেলা উপজেলা থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন বেড়েই চলছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ইতোমধ্যে সরকারের ত্রাণ ভান্ডার থেকে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৭১০টি কম্বল বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রতুল। এছাড়া নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকারের ব্যক্তিগত পক্ষ হতে ৯০০, নীলফামারী জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফেরদৌস পারভেজের পক্ষ হতে ৪৫০, ডিমলা প্রেসক্লাবের পক্ষ হতে ১০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, সরকারী ত্রাণ ভান্ডার হতে উপজেলার গরিব দুঃখী অসহায় পরিবারের মাঝে কম্বল ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। গরিব মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সেজন্য শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

রংপুর প্রতিনিধি জানান, রংপুরে মাঝারি শৈতপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। রয়েছে কনকনে শীত, হিমেল হাওয়া ও ঘনকুয়াশা। শুক্রবার সকালে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। তারা জানিয়েছে, এ মৌসুমে এটি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

জেঁকে বসা শীতে জবুথবু অবস্থায় হতদরিদ্র মানুষ। এরপরও বসে নেই দিনমজুর ও কৃষক-শ্রমিকরা। জীবিকার তাগিদে মাঠে নেমেছেন তারা। এছাড়া ছিন্নমূল মানুষরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীতে উষ্ণতা পাবার চেষ্টা করছেন। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন সকাল থেকে নগরীতে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না। কমে গেছে যানবাহন চলাচলও। হিমে বাতাসে শীত যেন আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে প্রাণিকুলে। কুয়াশাও পড়ছে বৃষ্টির মতো।

এই শীতে খেটে খাওয়া মানুষরা আছেন চরম বিপাকে। ৩ দিন ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের লুকোচুরি খেলা চলছে। শুক্রবার দুপুর থেকে সূর্যের দেখা মিললেও কনকনে শীত কমছে না। যেন হাত ও পায়ে বরফ ঢেলে দিয়েছে কেউ। রাত যতই গভীর হয়, কুয়াশার মাত্রাও ততই বাড়তে থাকে। বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরতে থাকায় রাস্তায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে মারাত্মকভাবে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। নগরীতেও রিকশা-ভ্যান চালকরা একটু পর পর হোটেল কিংবা চায়ের দোকানে চুলার কাছে গিয়ে হাতে আগুনের উত্তাপ নিচ্ছেন। শিশু-বৃদ্ধরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। দিনভর ঘরের মধ্যে গায়ে কাঁথা-কম্বল জড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, রংপুরে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। শৈত্যপ্রবাহ আরও দুই-তিনদিন থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

সকল ফিচার

ক্যাম্পাস
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
হাট্টি মা টিম টিম
কৃষি ও সম্ভাবনা
রঙ বেরঙ

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে