পাবনা মানসিক হাসপাতাল পরিত্যক্ত কোয়ার্টার সাত দিনের মধ্যে ছাড়ার নির্দেশ

পাবনা মানসিক হাসপাতাল পরিত্যক্ত কোয়ার্টার সাত দিনের মধ্যে ছাড়ার নির্দেশ

পাবনা মানসিক হাসপাতালের সরকারি কোয়ার্টারগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী কেয়ারটেকার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আদেশ জারি করেছেন হাসপাতালের নতুন পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. শাফকাত ওয়াহিদ।

বলা হয়েছে, যে আদেশের ভিত্তিতে পাবনার মানসিক হাসপাতালের সরকারি বাসায় যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী বসবাস করছেন, সে আদেশ বাতিল করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সরকারি বাসা ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রম্নয়ারি পাবনা গণপূর্ত বিভাগ পাবনা মানসিক হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টার ও কটেজ বসবাসের অনুপোযোগী হিসেবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে চিঠি দেয় সংশ্লিষ্ট

বিভিন্ন দপ্তরে। পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার পর থেকে হাসপাতালের সরকারি বাসায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের অনমুতি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, আইনগতভাবে সবকিছু বন্ধ থাকলেও হাসপতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারী ও বহিরাগত লোকজন ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছেন এসব আবাসিক স্থাপনায়। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মাসে গুনতে হয় মোটা অংকের বিদু্যৎ বিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৬০টি পরিবার বসবাস করছে এসব ভবনে। তাদের মধ্যে হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, আউটসোর্সিং কর্মচারী আনসার সদস্য ও কিছু বহিরাগত লোকজন রয়েছেন। তারা সবাই হাসপাতালের অনুমোদন ছাড়া এখানে বসবাস করছেন।

এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হতে আসা দেশের বিভিন্ন এলাকার রোগীর পরিবারের জন্য যে ১০টি কটেজ ছিল, তার মধ্যে ৫টি একেবারে ফাঁকা পড়ে আছে, বাকি ৫টির মধ্যে একটিতে হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা আনসার সদস্যরা রয়েছেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে অন্য ৪টিতে বসবাস করেন আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত কর্মচারীসহ অন্যরা।

পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. শাফকাত ওয়াহিদ বলেন, 'আমি নতুন যোগদান করেছি, চেষ্টা করছি হাসপাতালের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। তারই অংশ হিসেবে অনুমোদন ছাড়া সরকারি বাসায় বসবাসরতদের বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।'

আবাসিক বাসায় বসবাসরত সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন ইয়াসমিন বলেন, আমরা বাসা ছাড়ার নোটিশ পেয়েছি, সেজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তিন মাসের সময় নিয়েছি।'

এতদিন অনুমোদন ছাড়া বসবাস করার বিষয়ে তিনি বলেন, 'আশপাশে নিরাপদে ভালো থাকার জায়গা না থাকায় প্রচন্ড ঝুঁকি নিয়ে এখানে থাকছি।'

সিনিয়র নার্স বুলবুলি খাতুন বলেন, 'আমরা বসবাস করছি বলেই এখানকার দরজা-জানালা ঠিক আছে, না হলে মাদকাসক্তরা সবকিছু ভেঙে নিয়ে যেত। আমরা নোটিশ পেয়েছি, এজন্য আমরা বাসা ছাড়ার জন্য তিন মাসের সময় নিয়েছি।'

ডা. শাফকাত ওয়াহিদ বলেন, 'আমি নতুন এসেছি, এর আগে বিদু্যৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য গণপূর্তকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি।' তবে পাবনা গণপূর্ত অফিস সূত্রে জানা গেছে, তারা এখনো কোনো চিঠি পাননি, চিঠি পেলে সঙ্গে সঙ্গে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবেন।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে