বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট আইভরি কোস্টের

ক্রীড়া ডেস্ক
  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০
সার্ভিসেস কুস্তি প্রতিযোগিতা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা -সংগৃহিত

দুই দলের আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের সবশেষ সাফল্যে পড়েছিল সময়ের ধুলো। ২০১৩ সালের শিরোপা জয়ী নাইজেরিয়া শুরুতে এগিয়ে গিয়ে আশা জাগাল। পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্ট। শেষ পর্যন্ত 'দ্য এলিফ্যান্ট'রাই পেল আফ্রিকান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।

আইভরি কোস্টের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে রোববার রাতের ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে স্বাগতিক আইভরি কোস্ট। উইলিয়াম ট্রোস্ট-ইকং নাইজেরিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ফঁক কেসিয়ের গোলে সমতায় ফেরে আইভরি কোস্ট। পরে জয়সূচক গোলটি করেন ক্যানসারজয়ী বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ফরোয়ার্ড সেবাস্তিান হলার। ১৯৯২ সালে প্রথম এই শিরোপা জয়ের পর ২০১৫ সালে দ্বিতীয়টির স্বাদ পেয়েছিল আইভরি কোস্ট। ৯ বছর পর মুকুট ফিরে পেল তারা। তিনবারের বিজয়ী নাইজেরিয়ার অপেক্ষা বাড়ল আরও।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ৯ শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে গোলের দেখা পায়নি আইভরি কোস্ট। অন্যদিকে দুই আক্রমণের একটি পোস্টে রেখেই কাঙ্ক্ষিত গোল তুলে নেয় নাইজেরিয়া। সেটিও প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৩৮তম মিনিটে কর্নার থেকে অনেকটা লাফিয়ে উঠে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ট্রোস্ট-ইকং। গোলরক্ষক লাফিয়ে উঠলেও বলের নাগাল পাননি। ক্যামেরায় ভেসে ওঠে আইভরি কোস্টের সাবেক তারকা দিদিয়ের দ্রগবার মুখ; ২০০৬ ও ২০১২ সালের ফাইনালে যিনি দলকে পথ দেখাতে পারেননি।

ম্যাচের ৬২ মিনিটে ফের ক্যামেরায় ভেসে ওঠে দ্রগবার মুখ। এবার অবশ্য উচ্ছ্বাস প্রকাশের ভঙ্গিতে। কর্নারে ফক কেসিয়ের হেড ড্রপ খেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে খুঁজে নেয় জাল। সমতার স্বস্তি ফেরে আইভরি কোস্ট শিবিরে। ৭৫ মিনিটে সতীর্থের হেড পাসে হলারের ওভারহেড কিক যায় পোস্টের বাইরে। ছয় মিনিট পর এই ফরোয়ার্ডই গোলমুখে সতীর্থের বাড়ানো আড়াআড়ি ক্রস থেকে এগিয়ে নেন আইভরি কোস্টকে।

আর ম্যাচের শেষ দিকে নাইজেরিয়ার কেলেচি ইহেনাচোর শট রক্ষণে আটকে যায়। আট মিনিটের যোগ করা সময়েও 'সুপার ইগলস'খ্যাত দলটি পায়নি সমতায় ফেরা গোলের দেখা। শেষের বাঁশি বাজতেই শুরু হয় গ্যালারিতে আইভরি কোস্টের সমর্থকদের বাঁধনহারা উৎসব।

আইভরি কোস্ট টুর্নামেন্টে যেভাবে অগ্রসর হয়েছে তাতে এই শিরোপা জয় অবিশ্বাস্য। গ্রম্নপ পর্বেই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল তারা। সেখান থেকে নকআউটে স্থান করে নেয় তৃতীয় সেরা দল হয়ে। শিরোপা জয়ের পর দলীয় নৈপুণ্যের প্রশংসা করেছেন ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ আদিনগরা, 'এটাই দলটার শক্তি এবং মানসিক অবস্থা। যার কারণে আমরা এত দূর আসতে পেরেছি। এটা ঠিক আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জিং অনেক কিছু ছিল। কিন্তু সেখান থেকে নিজেদের উদ্ধার করতে পেরেছি।'

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে