মোরেলগঞ্জে চলাচলের রাস্তা কেটে ঘেরের পানি নিষ্কাশন

তিন ইউনিয়নের মানুষের চরম ভোগান্তি
মোরেলগঞ্জে চলাচলের রাস্তা কেটে ঘেরের পানি নিষ্কাশন

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নে সীমান্তবর্তী ভাষান্ডাগ্রামে ঘেরের পানি নিষ্কাশনের জন্য চলাচলের সরকারি রাস্তা কেটে ফেলায় তিন ইউনিয়নের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি কেটে জনভোগান্তি সৃষ্টি করায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় এলাকাবাসী গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, অত্র ইউনিয়নের দক্ষিণ সুতালড়ী ভাষান্ডা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত খালের দু’পাড়ে তিন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন তিন ইউনিয়নের নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ হাজার হাজার লোক যাতায়াত করে। শত শত যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল, ভ্যান এ পথে যাতায়াত করে। কমিউনিটি ক্লিনিক, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, তেঁতুলবাড়িয়া বাজার, আলীরবাজারসহ মোরেলগঞ্জ শহরে আসতে সহজ পথ হিসেবে এ রাস্তাটি দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

কিন্তু এ গ্রামের আব্দুল ছত্তার বয়াতির ছেলে কবির বয়াতি ও তার বোন মর্জিনা বেগমসহ চিহ্নিত এ পরিবারটি অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে এ সরকারি রাস্তাটি কেটে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের রামদা নিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে ছুটে আসে। নয়তো তাদের হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়। তাদের হাতে পুরো গ্রামবাসী জিম্মি। কবির বয়াতি এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ঘের লুট, জমিদখলসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা আলম হাওলাদার, জলিল মৃধা, চান মিয়া হাওলাদার, জালাল হাওলাদার, শাহিন হাওলাদারসহ গ্রামবাসী জানায়, চিহ্নিত এ পরিবারটি রাস্তা কেটে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তারা তিন ইউনিয়নের মানুষ কবির ডাকাতের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী শান্তিতে বসবাস করতে চায়। এজন্য এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে। বারইখালী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান লাল বলেন, সরকারি রাস্তা কেটে চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অধিকার কারো নেই। রাস্তা ভরাট করার জন্য তাদের একাধিকবার বলা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করবেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তা কেটে জনভোগান্তির অভিযোগের বিষয়ে কবির বয়াতিকে একাধিকবার তার দপ্তরে ডাকা হয়েছে তিনি আসেননি। তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘের ব্যবসায়ী কবির বয়াতির বোন মর্জিনা বেগম বলেন, তার পৈতৃক সম্পত্তিতে ১৯৯৪ সাল থেকে ঘের করে আসছেন। তিনি কোনো সরকারি রাস্তা কাটেননি। তার জমি কেটে ঘেরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে