কক্সবাজারে অতিভারী বর্ষণে ফের পাহাড় ধসের শঙ্কা

কক্সবাজারে অতিভারী বর্ষণে ফের পাহাড় ধসের শঙ্কা

নিম্নচাপ কেটে গেলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে অতিভারী বর্ষণ হচ্ছে। ফলে কক্সবাজারে ফের দেখা দিয়েছে পাহাড় ধসের শঙ্কা। জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন আটটি পাহাড়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অনেককে।

গত ২৭ জুলাই জেলাটিতে অতিভারী বর্ষণে পানি ও ধসের সঙ্গে নেমে আসা মাটিতে চাপ পড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত পাঁচজন। টানা বর্ষণ হলে পাহাড় ধসের ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, পাহাড় ধস যতটা না প্রাকৃতিক, তার চেয়ে বেশি মানবসৃষ্ট। কারণ পাহাড়ে বাড়ি বানানো বা অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার ফলে এ দুর্যোগ হয়। হঠাৎ বৃষ্টি এলে সমস্যা হয় না, তবে কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হলে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড় ধসে পড়ে। আবহাওয়া অধিদফতর প্রতিবারের মতো এবারও পাহাড় ধসের পূর্বাভাস দিয়ে সতর্ক করেছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুছ জানিয়েছেন, ‘রোববার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৩৫ মিলিমিটার বর্ষণ হয়েছে। ৮৯ মিলিমিটারের বেশি বর্ষণ হলে ভারী বর্ষণ বলা হয়।’ কুতুবদিয়ায় ৯৫ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ৫৯ মিলিমিটার আর টেকনাফে ৫৬ মিলিমিটার বর্ষণ হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে দু'দিন আগে। বর্তমানে সেটি উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, হরিয়ানা, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

এই অবস্থায় সোমবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঢাকায় এ সময় দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার।

এদিকে পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালি, নােয়াখালি, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) নাগাদ আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। বর্ধিত পাঁচদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পাবে। রোববার দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে, ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে এক মিলিমিটার ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

যাযাদি/এসএইচ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে