logo
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৬

  আবুল কাশেম চৌধুরী   ২৬ জুন ২০২০, ০০:০০  

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না?

বাংলাদেশের মানুষের কাছে নৈতিকতা, সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও বিবেক নেই বললেই চলে। ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে দোকানিরা। খাবার, শাকসবজি ও চাল সব কিছুর দাম বাড়ানো হয়েছে করোনার অজুহাতে এবং মানুষকে শোষণ করছে ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে ভেজালের আধিপত্য তো রয়েছেই। এদের বিবেক আর নৈতিকতা একেবারে উবে গেছে।

দেশে করোনাভাইরাস শুরু হয়েছে ২০২০ সালের মার্চ মাসে, প্রায় চার মাস অতিবাহিত হতে চলল অবসানের লক্ষণ দৃশ্যমান নয়। দিনের পর দিন ভাইরাস বেড়েই চলেছে। প্রাণহানি ঘটেছে ১ হাজার ৬০০ জনের। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ২৬ হাজার ৬০৬ জন। কত দিন এই অবস্থা চলবে কে জানে? রোগী ও মৃতু্যর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস বিরাজ করছে। লকডাউনের ফলে সাধারণ গণমানুষ উপকৃত হয়নি বরং তারা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। লকডাউনের সময় গণপরিবহন না থাকার কারণে ছোট ছোট যানবাহন চলার কারণে গাড়ি ভাড়া কয়েক গুণ বেশি দিতে হয়েছে জনসাধারণকে। জনমানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে অসৎ মানুষের কাছে।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে নৈতিকতা সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও বিবেক নেই বললেই চলে। ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে দোকানিরা। খাবার, শাকসবজি ও চাল সব কিছুর দাম বাড়ানো হয়েছে করোনার অজুহাতে এবং মানুষকে শোষণ করছে ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে ভেজালের আধিপত্য তো রয়েছেই। এদের বিবেক আর নৈতিকতা একেবারে উবে গেছে।

সরকার প্রণোদনা দিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যবসায়ীরা তা পকেটস্থ করতে দ্বিধা বোধ করছে না; অপর দিকে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের পাঁয়তারা করছে। ১৬/৬/২০ দৈনিক প্রথম আলো খবর দিয়েছে- বেসরকারি ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা ব্যাংক কর্মীদের ছাঁটাই করবে এমন ৪২টি বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইতিমধ্যে ৩টি ব্যাংক (এক্সিম, এবি, সিটি) কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। তা হলে প্রণোদনা দিয়ে লাভ কি হলো? বিভিন্ন সেক্টরে একই অবস্থা।

অনৈতিকতা সর্বত্র বিরাজমান। প্রতিটি মহলস্নায় একজন করে ব্রডলাইন/ কেবল অপারেটর ব্যবসায়ী। ব্যবসায় প্রতিযোগিতা নেই একক মনোপলি। তারা মনোপলি ব্যবসা করছে, গ্রাহকরা যথাযথ সেবা পাচ্ছে না। মাসে ১৫ দিনও ব্রডলাইন সেবা পাওয়া যায় না। বঙ্গবন্ধু স্যাটলাইট দিয়ে দেশে কেবল ব্যবসা চলছে কিন্তু কেবল অপারেটরের মাসিক ভাড়া কমেনি বছরের পর বছর। সবত্র অনৈতিকতা বিরাজ করলে আলস্নাহর গজব আসতেই পারে। পৃথিবীর মানুষ নৈতিকতাহীন হয়ে পড়েছে, মানব জাতি বোধ শক্তি হারিয়ে ফেলেছে, মানবতা হারিয়ে ফেলেছে। অনিয়ম ও অনৈতিকতায় জীবনযাপন করছে তাতে মহান সৃষ্টিকর্তা অসন্তোষ্ট হতেই পারেন।

এমনিতে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা অনেক বেশি, বেকারের কোনো পরিসংখ্যান নেই। ভাসমান কর্মীর সংখ্যা কোটি কোটি- তারা আজ বেকার। এদের বাঁচানো অতি প্রয়োজন, এই গোষ্ঠী লকডাউনের কারণে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত, তারা না খেয়ে, অর্ধাহারে জীবনযাপন করছে। কর্ম নেই, কামাই নেই- মাসের পর মাস ঘরে বন্দি। লকডাউন করে মানুষকে বাঁচানো যাবে না সমাজিকতা রক্ষা করে কাজকর্ম করার সুযোগ দিতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে লকডাউনের বিকল্প চিন্তা করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সুশাসন দেখেনি/আইন মেনে চলতে অভ্যস্ত নয়, বাংলাদেশের মানুষ তবু সচেতন। আমি গত একসপ্তাহে ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি বন্ধুবান্ধবরা কাউকে হাত মিলাতে দেখেনি। এই পর্যন্ত বিশ্ববাসী লকডাউনে সুফল পাইনি। তা ছাড়া বাংলাদেশে যারা লকডাউনে প্রাণঘাতীর শিকার হয়েছেন তাদের সিংহভাগ ভিআইপি/আইন মেনে চলার লোক; তারা বিধিসম্মতভাবে চলেও নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি করোনাভাইরাস থেকে। মনে রাখতে হবে মৃতু্য আলস্নাহর হাতে। করোনা একটি মহামারি আলস্নাহ প্রদত্ত গজব। মানুষ যখন মানবিকতা হারিয়ে ফেলে কোনো রকম বিধিবিধান মানে না, সৃষ্টি কর্তার বিধানকে অবজ্ঞা করে তখনই আলস্নাহ তার ওপর গজব নাজিল করেন, আলস্নাহর গজবের শিকার বিশ্ববাসী।

আল-কোরআনের বর্ণনা মতে নূহ নবীর আমলের গজবের চেয়েও ভয়াবহ এই করোনাভাইরাস। আলস্নাহ মানব জাতিকে নির্দেশ দিয়েছেন, তোমাদের কল্যাণের জন্য 'আল-কোরআন' প্রেরণ করেছি। হে মানবমন্ডলী কোরানকে পড় ও বোঝ এবং সে মতে চল- তাতে তোমাদের সমস্যা হবে না। নিজ নিজ জীবনে সততা নিষ্টা নৈতিকতা/বিবেককে ধারণ করে নিজ নিজ জীবন পরিচালিত কর। অসৎ, অন্যায় ও বিবেকহীন কাজ থেকে বিরত থাক; মনে রাখিও মানুষের বড় বিচারক স্বীয় বিবেক। বিবেক বর্জিত কাজ থেকে মানব জাতি বিরত থাকে না ফলে আলস্নাহর গজব নাজিল হয়েছে মানুষের ওপর। দুর্নীতি করে পরের হক আত্মসাৎ করা, সঠতা/ঠকবাজি ও প্রতারণা করা আলস্নাহ নিষেধ করেছেন এবং এই পাপ মহান আলস্নাহ বরদাস্ত করেন না। বিবেক/নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ কামানো আলস্নাহ পছন্দ করেন না; তাই তিনি অভিশাপ প্রদান করেন। রাসূল (সঃ) বলেন, যে শরীরে হারাম প্রবেশ করবে সে শরীরের এবাদত আলস্নাহ কবুল করেন না। সৎ/হক আয় ছাড়া জাকাত প্রদান করে লাভ নেই, যদি সততা না থাকে; নামাজ, রোজা ও হজ করে লাভ কী? সততা, নিষ্টা ও বিবেক দ্বারা মানুষ পরিচালিত হলে সৃষ্টি কর্তা দেশবাসীকে রক্ষা করতে পারেন। আল-কোরান বিশেষ কোনো ধর্মের/সম্প্রদায়ের জন্য নয়, মহান আলস্নাহ মানব জাতির জন্য আল-কোরআন প্রেরণ করেছেন; 'তিনি বলেন, তিনি রাব্বুল আলামিন।'

কোনো মানুষ বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন না। কীভাবে অনৈতিকভাবে অর্থ কামানো যায়, সে পথে সবাই দৌড়ঝাঁপ করে চলছে। শিক্ষক তার দায়িত্ব পালন করেন না। ডাক্তার তার দায়িত্ব পালন করেন না, রোগীর সেবা করেন না/ডাক্তারদের কাজ রোগীর সেবা করা। ডাক্তাররা ওষুধ কোম্পানির কমিশনের লোভে গাদা গাদা ওষুধ লিখেন প্রেসক্রিপশনে। করোনা ঝুঁকিতে হাসপাতালে রোগী ভর্তি করানো হয় না, বেশির ভাগ সাধারণ রোগীও হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ও ডাক্তারদের অনিহার কারণে। প্রায় মেডিকেল হাসপাতালে রোগী নেই বললেই চলে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি চিকিৎসা নিই। ১৩/০৬/২০ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অবাক হয়েছি, প্রায় রোগী শূন্য বলা যায়। ডাক্তাররা রোগীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করে না। করোনার রোগী হলে কথাই নেই; রোগীকে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। আমি ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে খবর নিয়ে জেনেছি, এ হেন অবস্থা গণমানুষের কাম্য ছিল না। স্বাস্থ্য বিভাগে দুর্নীতি আকাশ চুম্বি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ১৩/৬/২০ এক টিভির টকশোতে স্বীকার করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, সিস্টেমের পরিবর্তন করা না হলে দুর্নীতি চলতে থাকবে ধুমধামে। শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, সরকারি সব মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে একই অবস্থা। সরকার জাতীয় বাজেটে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে লাভ কি? শিক্ষিত মানুষ সিংহভাগ দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশে কোনো সমস্যা নেই, একমাত্র সমস্যা দুর্নীতি; শিক্ষিত মানুষরা দুর্নীতি থেকে বিরত থাকলে সমস্যা সমাধান হতে পারে।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বড় দুর্বল অনৈতিকতায় ভরা। সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়া দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা অসম্ভব। সুনীতিসম্পন্ন সুশিক্ষা প্রচলন করতে হবে। প্রাইমারি শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে নৈতিকতাসম্পন্ন সুশিক্ষিত সৎ/ভালো মানুষ এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নৈতিকতাসম্পন্ন সুশিক্ষিত যোগ্য সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে হবে দুর্নীতিমুক্ত করতে। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সুযোগ-সুবিধা বহুগুণ বাড়াতে হবে এবং জবাদিহিতার মধ্য রাখতে হবে প্রাইমারি শিক্ষকদেরও। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনের গ্রেড জাতীয় বেতন ১০ম গ্রেডের নিচে হওয়া উচিত নয়। শিক্ষাবিদ মঞ্জুরুল ইসলাম ও অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন সচিবদের গ্রেডের কমপক্ষে ১ টাকা হলেও বেশি হওয়া উচিত। প্রাথমিক শিক্ষা না হলে শিক্ষার ভিত রচনা হবে না। আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা না হলে যোগ্যতা ও নৈতিকতাসম্পন্ন যুবকরা প্রথমিক শিক্ষকের চাকরির প্রতি আকৃষ্ট হবে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়প্রাঙ্গণে শিক্ষকদের বাসস্থান প্রদান করা উচিত। প্রাথমিক শিক্ষদের কয়েক বছর পর বদলির ব্যবস্থা থাকা উচিত। এক স্কুলে ৮/১০ বছর চাকরিতে থাকলে একগুঁয়েমি আসতে পারে।

বাংলাদেশে লুটেরার অর্থনীতি ও দুর্নীতির সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে; মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পর থেকে অনৈতিকতা সম্পন্ন শিক্ষিত মানুষের কারণে এবং তা বিস্তার লাভ করেছে অনেক বেশি। বর্তমানে মহিরুহ ধারণ করেছে। নৈতিকতা ও বিবেকহীন শিক্ষিত সমাজ দেশ ও জাতির কপালে লুটেরার অর্থনীতির কলঙ্কের তিলক এঁকে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার কৃষক ও শ্রমিক দুর্নীতি করে না, দুর্নীতি করে শিক্ষিত সমাজ, আরো বলেছেন, কার টাকা দিয়ে সাহেব হয়েছেন? দুর্নীতি বন্ধের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিকল্প নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এ দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে বিশ্বাস করে যেমন, বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাস করেছিলেন ঠিক তেমনি। আর উন্নয়ন করার প্রয়োজন নেই। উন্নয়ন অনেক হয়েছে। বর্তমানে সৎ নিষ্ঠাবান/আদর্শবান মানবিক সমাজ গঠনে নজর দিন; সৎ ও ন্যায় রাষ্ট্র সমাজ প্রতিষ্ঠা করুন। নৈতিকতাসম্পন্ন সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করুন। দুর্নীতি মুক্ত সৎ প্রশাসন গড়ে তুলুন। মিথ্যাচার, প্রতারণা ও ঠকবাজি বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। অন্যায়কে প্রতিরোধ করে ন্যায় সমাজ প্রতিষ্ঠা করুন, কৃতজ্ঞ শিক্ষিত মানুষ তৈরি করুন, সাধারণ জনমানুষ জাতির জনকের কন্যার কাছে তা প্রত্যাশা করে।

আবার বঙ্গবন্ধুর কাছে ফিরে যেতে হয়। তিনি বলেছেন, এত রক্ত দিয়ে কোনো জাতি স্বাধীনতা কেনে নাই। এক সাগর রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা কিনেছে এ দেশের জনগণ। একদল টকবগে যুবক যারা অশিক্ষিত/অল্পশিক্ষিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সামনে বুক পেতে দিয়েছিল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার লাল সূর্য চিনিয়ে আনতে এবং তারা বিজয় অর্জন করে। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরে এসে তারা আজও অবহেলিত অসম্মানজনক জীবনযাপন করছেন তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা জাতীয় কর্তব্য। জাতি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ঋণী, তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। তা না হলে জাতিকে একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তালিকাভুক্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বাতিল করার জন্য 'মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইন' প্রণয়ন করা জরুরি। একদল অকৃতজ্ঞ শিক্ষিত মেধাবী বলে দাবিদার জনগোষ্ঠীর জন্য এত বড় ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা নস্যাৎ হতে দেয়া যেতে পারে না।

আবুল কাশেম চৌধুরী : কলাম লেখক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে