logo
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

রাজধানী ঢাকার সমস্যা

কার্যকর পদক্ষেপ নিন

রাজধানী ঢাকার সমস্যা নিয়ে নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ট্রাফিক জ্যাম, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বারবার আলোচনায় এসেছে। আর যখন জানা যাচ্ছে যে, এই সমস্যাগুলো আরো বেশি ঘনীভূত হচ্ছে- তখন স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আয়ের বৈষম্যও প্রকট আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে যে, ধনী-গরিবের আয়ের এই বিপুল বৈষম্য প্রভাব ফেলছে রাজধানীবাসীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর। তথ্য মতে, রাজধানীর ৭১ শতাংশ মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে। আর ৬৮ শতাংশ মানুষ কোনো-না-কোনো শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। উলেস্নখ্য যে, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণা সম্মেলন-২০২০-এর সমাপনী অধিবেশনে সোমবার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, ঢাকা শহরের মানুষের মৃতু্যর অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বায়ুদূষণ।

আমরা বলতে চাই, এরকম চিত্র পরিলক্ষিত হলে তা কোনোভাবেই এড়ানোর সুযোগ নেই। সঙ্গত কারণেই সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে করণীয় নির্ধারণ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। মনে রাখতে হবে, আয়ের বৈষম্য প্রকট হচ্ছে, বিষণ্নতায় ভুগছে মানুষ ও শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে এই বিষয়গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারলে আগামী দিন আরো বেশি ভয়ানক হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই যায়। প্রসঙ্গত উলেস্নখ করতে চাই, গবেষণায় বলা হয়েছে যে, চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে ঢাকা শহরের ১২ হাজার ৪৬৮ মানুষের ওপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকার ১০ শতাংশ ধনী মানুষের আয় পুরো শহরের বাসিন্দাদের মোট আয়ের ৪৪ শতাংশ। আর সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয় মোট আয়ের ১ শতাংশেরও কম। রাজধানীর সাড়ে ৩ শতাংশ মানুষ এখনো তিন বেলা খেতে পায় না বলেও উঠে এসেছে গবেষণায়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আমলে নেওয়া জরুরি যে, ঢাকা শহরের এতগুলো সমস্যা একসঙ্গে প্রকট আকার ধারণ করার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, এখানে প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। সিটি করপোরেশন শহরের নূ্যনতম নাগরিক সেবা দিতে পারছে না। ট্রাফিক ব্যবস্থা কাজ করছে না। বায়ুদূষণের উৎস বন্ধ করা যাচ্ছে না। কিন্তু শহরে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ স্রোতের মতো আসছেই। ঢাকা শহরকে বাঁচাতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ঠিকমতো কাজ করে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে ধনী-গরিব সব মানুষের সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মনে করি, এই বিষয়গুলো আমলে নিয়ে যত দ্রম্নত সম্ভব সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে তৎপর হওয়া অপরিহার্য। এড়ানো যাবে না যে, সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য শহরের মানুষ নিয়মিতভাবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছে। অথচ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ও ওষুধ কেনা বাবদ মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে। শহরের অধিবাসীদের মোট মাসিক আয়ের ৯ শতাংশ খরচ হচ্ছে চিকিৎসা খাতে এমনটিও সামনে আসছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষরা ঢাকায় বেশি আসছে বলেও জানা যায়। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষ যাতে নিজ এলাকায়ই থাকতে পারে, সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে।

সর্বোপরি বলতে চাই, বিআইডিএসের গবেষণায় যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তা এড়ানোর সুযোগ নেই। কেননা, নগরবাসীর মধ্যে এই ধরনের সমস্যা দূর করতে না পারলে তা ভীতিপ্রদ বাস্তবতাকেই সামনে আনবে। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টরা সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কাজ করুক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে