logo
শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

একধাপ উন্নতি হলেও দুর্নীতি কমেনি

কার্যকর পদক্ষেপ নিন

'দুর্নীতি' আমাদের দেশে বহুল আলোচিত বিষয়ের একটি। বলার অপেক্ষা রাখে না, দুর্নীতির কারণে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দুর্নীতি থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হলে তা নিশ্চিতভাবেই উদ্বেগজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। সঙ্গত কারণেই এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রসঙ্গত উলেস্নখ্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযান এবং সরকারের উচ্চ স্তরের ঘোষণা সত্ত্বেও বাংলাদেশে দুর্নীতি কমছে না, এই বিষয়টি উৎকণ্ঠার। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) 'দুর্নীতির ধারণা সূচক-২০১৯'-এ চিত্র উঠে এসেছে। যদিও আগের বছরের (২০১৮) তুলনায় বাংলাদেশ এ সূচকে একধাপ উন্নতি করেছে।

তথ্য মতে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, 'দুর্নীতির ক্রমানুসারে আমরা একধাপ উন্নতি করলেও আমাদের স্কোর বাড়েনি। অথচ স্কোরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কেউ হয়তো বেশি খারাপ করেছে, তাই আমরা একধাপ এগিয়েছি। এতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই।' বলা দরকার, বৃহস্পতিবার সারা বিশ্বে একযোগে দুর্নীতির ধারণাসূচক ২০১৯ প্রকাশ করেছে টিআই। রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের আমলে নেওয়া দরকার, এবার বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম। গত বছর এ অবস্থান ছিল ১৩তম। ধারণা সূচকে বিশ্বের ১৮০টি দেশের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। আর আমাদের স্কোরও বাড়েনি- আগের বছর স্কোর ছিল ২৬, এবারও তাই রয়ে গেছে। আমরা বলতে চাই, যখন এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে, গত বছর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময় মানুষের মধ্যে একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু এটা কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে- তখন এই বিষয়টি আমলে নিতে হবে।

লক্ষণীয়- দুর্নীতির ভালো স্কোর করার মতো আইনি ও কাঠামোগত সক্ষমতা আছে। কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার জন্যই স্কোরে এগোতে পারছে না বাংলাদেশ- এমন বিষয় উঠে এসেছে। ফলে এই সীমাবদ্ধতার বিষয়কে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছে। দুর্নীতি থাকার ফলে এর সুফল মানুষ ঠিকমতো পাচ্ছে না- এমন বিষয় অত্যন্ত দুঃখজনক বলেই প্রতীয়মান হয়। আমরা মনে করি, দুর্নীতি রোধে কঠোর হতে হবে এবং যারাই এর সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও যদি রাঘব-বোয়ালরা ছাড় পায়, তবে এর ফল ইতিবাচক হবে না এমন মনে করা অযৌক্তিক নয়। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না- এমন বিষয়কে সামনে রেখে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করলে এর সুফল পাওয়া সম্ভব বলেই আমরা মনে করি। ভুলে যাওয়া যাবে না, পত্রপত্রিকায় এর আগে এমন বিষয়ও উঠে এসেছে, স্বাস্থ্য-সেবা, শিক্ষা ও শিল্প-বাণিজ্যসহ প্রায় সব সেক্টরেই দুর্নীতি ছড়িয়ে গেছে। আমরা মনে করি, সামগ্রিক চিত্র আমলে নিতে হবে এবং পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সর্বত্রই, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সঙ্গত কারণেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক। দুর্নীতি রোধে সীমাবদ্ধতা কী- সেটাকে আমলে নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা মনে করি, প্রয়োজনে দুর্নীতি রোধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করতে হবে আর তা করতে হবে আইনের শাসনের মাধ্যমে। দুর্নীতির সার্বিক চিত্র আমলে নেওয়া এবং সৃষ্ট পরিস্থিতি অনুধাবন করে দুর্নীতি রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক এমনটি কাম্য।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে