logo
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৫

  অনলাইন ডেস্ক    ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃতু্য

গ্যাসের চুলা ব্যবহারে সতর্ক হোন

একের পর এক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃতু্যর ঘটনাও থেমে নেই। সামগ্রিক অর্থেই এমন পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে তা আমলে নেওয়া জরুরি বলেই প্রতীয়মান হয়। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, সিদ্ধিরগঞ্জে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের আগুনে একই পরিবারের নারী শিশুসহ আট জন দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া এদের মধ্যে নুরজাহান বেগম নামে এক নারীর মৃতু্য হয়েছে। প্রসঙ্গত উলেস্নখ্য, সোমবার ভোরে সাহেবপাড়া এলাকায় পাঁচ তলা বাড়ির নিচ তলায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আদমজী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ও আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে পাঠায়। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুর জাহানের মৃতু্য হয়।

আমরা বলতে চাই, একের পর এক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছেই। রান্না ঘরে, বস্তিতে, বিভিন্ন কারখানাসহ নানাভাবেই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। আর বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা থেকেও অগ্নিকান্ডের ঘটনা এবারই প্রথম নয়, এর আগেও ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া নিম্নবিত্ত মানুষের আবাসস্থল বস্তি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বারবার, বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে কারখানা, বহুভবনে। সংশ্লিষ্টদের আমলে নেওয়া দরকার, এমন তথ্যও উঠে এসেছিল, গত বছর দেশে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২২ হাজার ২৮৩টি। ২০১৮ সালের তুলনায় যা প্রায় তিন হাজার বেশি। এ ছাড়া গত বছরের অগ্নিকান্ডে প্রাণহানি ঘটেছে ১৮৬ জনের বলেও জানা গিয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের এটা আমলে নেওয়া দরকার, বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে ঘটে যাওয়া বড় বড় অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও সতর্ক না হওয়ায় অগ্নিদুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমরা মনে করি, এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

এবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে, দগ্ধ সাত জনের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিরন ৭০ শতাংশ, ইমন ৪৫ শতাংশ ও কাওছারের ২৫ শতাংশ শরীর আগুনে ঝলসে গেছে। দগ্ধ কিরনের স্ত্রী লিপি আক্তার জানিয়েছেন, শীতের কারণে সারা রাত ঘরের সব দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরের গ্যাসের চুলার চাবি ঠিকমতো বন্ধ না করায় সারা রাত গ্যাস লিক করে ঘরে জমে থাকে। ভোরে চুলা ধরাতে কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে চার রুম আগুন ছড়িয়ে পড়ে আট জনই দগ্ধ হন। এ ছাড়া এমন বিষয়ও সামনে এসেছে যে, এ এলাকায় প্রায় সময়ই গ্যাস চাপ থাকে না। হয়তো গ্যাস সরবরাহ না থাকার সময় কেউ চুলার চাবি ঘুরিয়ে তা বন্ধ করতে ভুলে যায়। নিয়মিত গ্যাসের চাপ না থাকায় অসাবধানতায় এ ভুলের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমরা বলতে চাই, অসাবধানতা কিংবা বেখেয়ালে কতটা ভয়ানক ঘটনা ঘটতে পারে তা আমলে নেওয়ার কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। সঙ্গত কারণেই গ্যাসের চুলা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখা দরকার, গ্যাসের চুলা থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ছাড়াও গ্যাস লাইন লিকেজ বা ইলেকট্রিক শট সার্কিটসহ নানা কারণে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে, যা বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক থাকা অপরিহার্য। ভুলে যাওয়া যাবে না, একটু অসাবধানতা কিংবা অসতর্কতার কারণেও অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, গ্যাসের চুলা সারা রাত চালু থাকায় চারটি রুমে গ্যাস জমে ছিল। সকালে চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে চার রুমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে -এমনটি বলেছেন আদমজী ইপিজেডের ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার। সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক তা অনুধাবন করা জরুরি। একই সঙ্গে বলতে চাই বারবার অগ্নিকান্ডের ভয়াবহতা বা এ ধরনের বীভৎস পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে যা উদ্বেগের। এবারের ঘটনা আমলে নিয়ে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি রাখার পাশাপাশি গ্যাসের চুলা ব্যবহারে সচেতনতার বিষয়টি আমলে নিতে হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে