logo
বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  বিনোদন রিপোর্ট   ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

বছর শেষে আবারও উৎসবের ধুম

বছর শেষে আবারও উৎসবের ধুম
সেলিম আল দীন নাট্যোৎসবে প্রদর্শিত হয় নাটক 'সিক্রেট অব হিস্ট্রি'
প্রতি বছরই শীতের আগমনে উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। নভেম্বর-ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস রীতিমতো উৎসবে রূপ নেয়। নাচ-গান, নাটক-সাহিত্যসহ নানারকম উৎসবে জমে ওঠে মঞ্চ। ব্যতিক্রম হচ্ছে না এবারও। বরং শীতের আগেই শুরু হয়ে গেছে এই উৎসবের ধারা। একটি শেষ হতে না হতেই শুরু হচ্ছে আরেকটি উৎসব। অক্টোবরে মহাকাল নাট্যসম্প্রদায়ের 'বাংলা নাট্যোৎসব' ও দুই বাংলার আয়োজনে 'গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসব' শেষ হয়ে ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয় বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের অষ্টম জাতীয় সম্মেলন ও সেলিম আল দীন নাট্যোৎসব। 'হাতের মুঠোয় হাজার বছর আমরা চলেছি সামনে' প্রতিপাদ্যে নিয়ে তিনদিনের এ উৎসব চলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে। এতে সারা দেশ থেকে পাঁচ শতাধিক নাট্যকর্মী এ উৎসবে যোগ দেন।

গতকাল ৭ নভেম্বর থেকে বাংলা একাডেমি চত্বরে শুরু হয়েছে সাহিত্য সম্মেলন ঢাকা লিট ফেস্ট। তিনদিনের এ আয়োজন শেষ হবে অগামীকাল ৯ নভেম্বর। প্রতি বছরের মতো এবারও চলছে দেশ-বিদেশের প্রথিতযশা সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা, লেখক-পাঠক সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বইমেলা।

পঞ্চমবারের মতো এবারও রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় লোকসংগীতের উৎসব 'ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট-২০১৯'। উৎসবের উদ্বোধন হবে আগামী ১৪ নভেম্বর। চলবে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত। এবারের আসরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬টি দেশ থেকে ২০০ জনেরও বেশি লোকসংগীত শিল্পী ও কলাকুশলী অংশ নেবেন একই মঞ্চে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শ্রোতারা স্টেডিয়ামে উপভোগ করবেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের সেরা লোকসংগীত শিল্পীদের পরিবেশনায় শিকড় সন্ধানী গানগুলো। তিনদিনব্যাপী এ আয়োজনের প্রথম দিন গান গাইবেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত বাউলশিল্পী শাহ আলম সরকার, ভারতের দালের মেহেন্দি ও জর্জিয়ার শেভেনেবুরেবি। এ ছাড়া নৃত্য পরিবেশন করবে প্রেমা ও ভাবনা নৃত্য দল। দ্বিতীয় দিন সুরের মূর্ছনায় ভাসাবেন বাংলাদেশের মালেক কাওয়াল, ফকির শাহাবুদ্দিন, 'ম্যাজিক বাউলিয়ানা'র কামরুজ্জামান রাব্বি ও শফিকুল ইসলাম, পাকিস্তানের হিনা নসরুলস্নাহ এবং মালির হাবিব কইটে অ্যান্ড বামাদা। সমাপনী দিনে মঞ্চ মাতাবেন বাংলাদেশের কাজল দেওয়ান, চন্দনা মজুমদার, পাকিস্তানের জুনুন এবং রাশিয়ার সাত্তুমা। ফোক ফেস্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান সান কমিউনিকেশনসের গ্রম্নপের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর তানভীর হোসেন জানান, উৎসবের জন?্য এই সময়কে বেছে নেওয়ার প্রধান কারণ দুটি। তিনি বলেন, 'এক, আবহমানকাল ধরে এটা উৎসবের মৌসুম। দুই, আমরা যে ভেনু?্যতে অনুষ্ঠান করি, সেখানে বহু মানুষের সমাগম হয়। এই মৌসুমের আবহাওয়া এমন উৎসবের জন?্য অনুকূল।'

তৃতীয়বারের মতো বটতলার আয়োজনে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় এ উৎসব। চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত। এবারের স্স্নোগান 'নৃশংস নৈঃশব্দ্য ভেঙে সুনন্দ সাহস জাগুক প্রাণে প্রাণে'। জানা যায়, প্রতিদিন রঙ্গমঞ্চে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় থাকবে নাটকের মঞ্চায়ন। সমাপনী অনুষ্ঠানের দিন আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হবে খ্যাতিমান অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক মামুনুর রশীদকে। বাংলাদেশ ছাড়া উৎসবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হচ্ছে ভারত, স্পেন, ইরান ও নেপাল।

আগামী ৭ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে 'পঞ্চদশ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব'। বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত উৎসবটি চলবে সাতদিনব্যাপী। এতে ৪৫টি দেশ থেকে প্রায় ৫০০ চলচ্চিত্রের মধ্যে বাছাইকৃত দুই শতাধিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

উৎসবে অফিসিয়াল নির্বাচিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, জার্মান কনটেম্পোরারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ফরাসি চলচ্চিত্র, লিথুনিয়ান চলচ্চিত্র, আফ্রিকান চলচ্চিত্র, এফটিআই চলচ্চিত্র, সিআইএস চলচ্চিত্র, রেট্রোস্পেকটিভ, ট্রিবিউট ও এশিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্ট চলচ্চিত্র বিভাগে চলচ্চিত্রগুলো দেখানো হবে। এ ছাড়া ফিকশন, ডকুমেন্টারি, নেটপ্যাক জুরি অ্যাওয়ার্ড ও তারেক শাহরিয়ার বেস্ট ইন্ডিপেন্ডেন্ট শর্ট বিভাগে চলচ্চিত্রগুলো প্রতিযোগিতা করবে।

'ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন' স্স্নোগান নিয়ে আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ-২০২০ শুরু হবে আগামী ২৫ জানুয়ারি। সপ্তাহব্যাপী চলবে এটি। এটি হবে এ উৎসবের ত্রয়োদশ আয়োজন। রাজধানীর কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, অলিয়ঁস ফ্রঁসেজসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে বেশ কয়েকটি বিভাগে সারা বিশ্বের শিশু নির্মাতারা প্রতিযোগিতা করবেন। রাজধানীর বনানী সিটি করপোরেশনের মাঠে গত ১ নভেম্বর নানা জাতি-গোষ্ঠীর মিলনমেলায় অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব। গানে গানে শস্যদেবতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর মধ্যদিয়ে চলে উৎসব। শত শত বছরের পুরনো এই আনুষ্ঠানিকতা বৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরেও রয়েছে নানা উৎসব। বড় আয়োজনের মধ্যে রয়েছে চারদিনের আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসব 'ওশান ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল'। ২২ থেকে ২৫ নভেম্বর কক্সবাজারে এ উৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্সের বাংলাদেশ শাখা নৃত্যযোগ। এ উৎসবে আলোচনার পাশাপাশি থাকবে কর্মশালা, সন্ধ্যায় শাস্ত্রীয় ও লোকনৃত্য এবং নৃত্যনাট্য। বাংলাদেশের সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যের সঙ্গে সাংস্কৃতিক পর্যটনের মেলবন্ধন রচনাই এর উদ্দেশ্য। এশিয়ার ১৫টি দেশ থেকে এ উৎসবে যোগ দেবেন প্রায় দুই শতাধিক নৃত্যশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক ও কোরিওগ্রাফার।

কুড়িগ্রামে ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিন স্মরণে দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ভাওয়াইয়া উৎসব শুরু হয় ১ নভেম্বর থেকে। এতে ভাওয়াইয়ার ওপর সেমিনার, প্রবন্ধ আলোচনা, তিস্তা পাড়ের গান ও তার চর্চাসহ ভাওয়াইয়া গান পরিবেশিত হয়। জয়পুরহাটে শেষ হলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী সহরায় উৎসব। ১ নভেম্বর ছিল তিনদিনব্যাপী উৎসবের শেষ দিন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে