logo
শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

চালকদের মুখে পোড়া মবিল রক্ষা পায়নি ব্যক্তিগত গাড়িও

চালকদের মুখে পোড়া মবিল রক্ষা পায়নি ব্যক্তিগত গাড়িও
বুধবার সকালে কুমিলস্না শাসনগাছা ফ্লাইওভারের সামনে অবরোধকারীরা বিভিন্ন গাড়ির চালকের মুখে এভাবে পোড়া মবিল মেখে দেন -বাংলানিউজ
যাযাদি রিপোর্ট

নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে পরিবহণ শ্রমিকদের চলমান ধর্মঘটে সড়কে বাস, ট্রাক ও পিকআপ থামিয়ে চালকের মুখে পোড়া মবিল ছোড়া হচ্ছে। এ থেকে রেহাই পাচ্ছে না ব্যক্তিগত গাড়িও।

ট্রাক চালানোর অপরাধে চালককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়াও গাড়িতেও লেপ্টে দেওয়া হচ্ছে পোড়া মবিল। কেড়ে নেওয়া হচ্ছে গাড়ির চাবি।

বুধবার রাজধানীজুড়ে এমন চিত্রের দেখা পাওয়া যায়। রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও এমন খবর পাওয়া যায়।

অবরোধে অংশ নেওয়া একটি ট্রাকচালকের সহকারী শাহিনুর বলেন, নতুন সড়ক আইনে যে জরিমানা রাখা হয়েছে তা তাদের প্রতি এক ধরনের অবিচার। জরিমানার পরিমাণটা অনেক বেশি। এ আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এদিকে সড়ক পরিবহণ আইন সংশোধনের দাবিতে ডাকা ধর্মঘটের মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে কয়েকটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিআরটিসি বাসের একজন চালক এবং যাত্রীকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে ধর্মঘটী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।

দুয়ারিপাড়া মোড়ে রাসেল শেখ নামের এক শ্রমিক বলেন, 'আমরা পেটের তাগিদে রাস্তায় নামছি ভাই। আমাগো পেটে লাথি মাইরা আইন করছে সরকার। আইজ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার ক্ষমতা থাকলে ব্যবসা করতাম, বাস চালাইতাম না।'

সড়ক পরিবহণ আইন মেনে চললে তো জরিমানা হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাহলে আইন না মানার প্রবণতা থেকেই এই অবরোধ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা রাস্তায় নামলেই দোষ। আমরা আইন না ভাঙলেও আমাগো ট্রাফিকরা শাস্তি দেয়। ঢাকার ভিতরে তো তবু কম। হাইওয়ে রোডে যাইয়া দেখেন পিকআপ গাড়ি সব থামায় থামায় ট্রাফিকরা টাকা নেয়। আগে এইগুলা বন্ধ কইরা নতুন আইন করতে কন।'

অন্যদিকে কালশী মোড়ে দুপুর ১টার দিকে শ্রমিকরা জড়ো হতে শুরু করে। এ সময় মিরপুর থেকে গুলশান-বাড্ডা-উত্তরাগামী সব বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকজন বাস চালক ও যাত্রীকে মারধরও করেন অবরোধকারী শ্রমিকরা। ভেঙে দেওয়া হয় কয়েকটি বাসের জানালা।

কালশীতে বিআরটিসির একটি বাসের চালক ও একজন যাত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই বাসের যাত্রী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকেও শ্রমিকরা মারধর করে।

মারধরের শিকার ওই ছাত্র বলেন, শ্রমিকরা যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে চালক প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকরা চালককে মারধর করলে তিনি প্রতিবাদ করেন। তখন শ্রমিকরা তাকেও মারধর করেন।

দুর্ভোগের শিকার আরেক যাত্রী শাহাজাদা শুভ ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, 'এভাবে মাঝ রাস্তায় হুট করে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া কোন ধরনের সিস্টেম? আগে থেকে জানতে পারলে অন্য ব্যবস্থায় আসতাম।'

'এখন মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হলো, এতে অফিসে পৌঁছানোও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত কঠিনভাবে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।'

কালশীতে ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে দেখা গেছে পরিবহণ শ্রমিকদের।

ঘণ্টাখানেক পর পুলিশ কালশী মোড়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তাদের ১৫ মিনিটের তৎপরতায় বাস চলাচল শুরু হয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে