logo
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ০১ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

করোনা উপসর্গে ৮ জেলায় আরও ১৪ জনের মৃতু্য

করোনা উপসর্গে ৮ জেলায় আরও ১৪ জনের মৃতু্য
জ্বর-সর্দি ও কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে দেশের আট জেলায় ১৪ জনের মৃতু্য হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার লক্ষ্ণীপুরে একজন, ঝিনাইদহে একজন, চুয়াডাঙ্গায় দুইজন, পটুয়াখালীতে একজন, কুমিলস্নায় চারজন, সিলেটে একজন, ফেনীতে তিনজন এবং ময়মনসিংহে একজন মারা গেছেন।

আমাদের আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

রামগতি (লক্ষ্ণীপুর) : লক্ষ্ণীপুরের রামগতিতে করোনার উপসর্গ নিয়ে নাছির উদ্দিন (৫৮) নামে এক ব্যক্তির মৃতু্য হয়েছে। সোমবার সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত নাছির উদ্দিনের বাড়ি উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নের বিবিরহাট এলাকায়।

চররমিজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গোলাম ছারওয়ার জানান, নাছির উদ্দিন কয়েক দিন ধরে জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। রোববার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় পাঠান। সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃতু্য হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুর রহিম জানান, করোনা উপসর্গে এক ব্যক্তির মৃতু্যর খবর পেয়েছেন। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে মঙ্গলবার সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে আবদুর রহমান (৭০) নামের এক বৃদ্ধের মৃতু্য হয়েছে। সে স্থানীয় হেলাই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুলতান আহমেদ জানান, ঠান্ডা, জ্বর ও কাশি নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে আবদুর রহমান হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বেলা ১১টার দিকে মারা যান। করোনার উপসর্গ থাকায় তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য।

চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দর্শনা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কওছর আলি শাহ (৬৫) করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃতু্যবরণ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার সময় দর্শনার দক্ষিণচাঁদপুর নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা.আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ জানান, কওছর আলি শাহ সর্দি, কাশি ও জ্বর নিয়ে সোমবার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে এসে নমুনা দিয়েছিলেন। নমুনা সংগ্রহ করার পর পরীক্ষার জন্য পরদিন কুষ্টিয়া ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার আগেই তিনি মারা যান। পুলিশ তার বাড়িটিতে লকডাউন কার্যকর করেছে।

এর আগের দিন সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুরের বাসিন্দা বৃদ্ধ বদর উদ্দিন (৮৫) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান।

দশমিনা (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর দশমিনায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাজি মো. মোসলেম উদ্দিন মাস্টার (৬৬) নামে এক শিক্ষকের মৃতু্য হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭ দিকে দশমিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃতু্য হয়। তিনি উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম আলীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার রাত ৩টার দিকে ওই শিক্ষক শ্বাসকষ্ট নিয়ে দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে মঙ্গলবার সকালে তীব্র শ্বাসকষ্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গত তিন দিন আগে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করেন দশমিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখনো তার রিপোর্ট এসে পৌঁছেনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ দাফনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকের স্বজনদের বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

কুমিলস্না : করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য স্থাপিত কুমিলস্না কোভিড-১৯ হাসপাতালে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার ভোররাত সোয়া চারটা পর্যন্ত আট বছরের এক কন্যাশিশুসহ চারজন মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিলস্না সিটি করপোরেশনের দুইজন, কুমিলস্নার আদর্শ সদর উপজেলার একজন এবং চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার একজন।

হাসপাতালের তথ্য শাখার সহকারী সার্জন মুক্তা রানী ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬-০৫ মিনিটে মারা যান কুমিলস্না সিটি করপোরেশনের কোটবাড়ী এলাকার ৬০ বছরের এক নারী। তিনি ২৪ জুন জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হন। সোমবার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রাত ৯টায় কুমিলস্নার আদর্শ সদর উপজেলার এক ব্যক্তি মারা যান। কুমিলস্না সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকার আট বছরের এক কন্যাশিশু সোমবার রাত ১১টায় মারা যায়। সে ২৩ জুন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধা ২৭ জুন ভর্তি হন। মঙ্গলবার ভোররাত ৪-১৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে কোভিড হাসপাতালে ১১৩ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ৪১ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৭২ জন রয়েছেন। মঙ্গলবার নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩৩ জন। এই হাসপাতালে ৩ জুন থেকে গতকাল পর্যন্ত ৭৫০ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯৩ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪৩ জন। এর মধ্যে করোনায় ২৫ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ১১৮ জন মারা যান।

সিলেট : সিলেট থেকে বাড়ি ফেরার পথে কোভিড-১৯-এর (করোনা) উপসর্গ নিয়ে চলন্ত বাসে এক ব্যক্তি (৬৫) মারা গেছেন। সোমবার রাতে সিলেট-পঞ্চগড়গামী একটি বাসে এই বৃদ্ধের মৃতু্য হয়। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মুন্দাইল গ্রামের নিজ বাড়িতে আনা হয়।

মৃত ব্যক্তির ছেলে বলেন, 'আমার বাবা অ্যাজমা রোগী ছিলেন। তিনি সিলেটে একটি এনার্জি কোম্পানিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। আমার বাবা সোমবার নিজেই রুমা পরিবহণের বাসের টিকিট ক্রয় করে বাসে উঠেছিলেন। বাসে ওঠার পর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। ভৈরব অতিক্রম করার পর চলন্ত বাসে আমার বাবার মৃতু্য হয়।'

কোভিডের উপসর্গ থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন নমুনা সংগ্রহ করেছেন। দাফনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সাত সদস্যের একটি দলও এসেছিল।'

ফেনী : ফেনীতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ তিনজনের মৃতু্য হয়েছে।

সোমবার রাতে সোনাগাজী উপজেলা সদর ইউনিয়নের মোজাহিদ ওরফে জাহেদ চৌধুরী (৮০) ও দুলাল পাটোয়ারী (৭০) নামে দুই মুক্তিযোদ্ধার মৃতু্য হয়। অপরদিকে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে জান্নাতুল ফেরদাউস নামে এক নারী মারা যান।

সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুল আরেফিন মৃত দুই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বরাতে বলেন, সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের বেচু পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা দুলাল সম্প্রতি জ্বর, সর্দি, কাশিসহ করোনাভাইরাসের উপসর্গে ভুগছিলেন। এ সময় তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

সোমবার রাতে দুলালের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে ফেনীর অদূরে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃতু্য হয়।

অপরদিকে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও বমিসহ করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ছাড়াইতকান্দি গ্রামের মুজিব আলী চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা জাহেদ চৌধুরী।

শ্বাসকষ্ট বেড়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাতে তার মৃতু্য হয় বলে জানান আরেফিন।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে বীরপ্রতীক আশরাফ আলী খান (৬৩) মারা গেছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃতু্য হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, গত তিনদিন যাবত তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে তার মৃতু্য হয়। করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃতু্য হওয়ায় তার নমুনা সংগ্রহ করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বীরপ্রতীক আশরাফ আলী খানের উকিল মেয়ের জামাতা মো. কামরান বলেন, আশরাফ আলী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের চট্টিগ্রামের বাসিন্দা। তিনি সপরিবারে নগরীর আকুয়া মধ্যপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।

আশরাফ আলী খান ১৯৬৯ সালে তৎকালীন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে ল্যান্স নায়েক হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীরপ্রতীক খেতাব লাভ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ বীর বলেও জানান কামরান।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে