logo
বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০  

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের কথা ভাবছে সরকার

যাযাদি রিপোর্ট

ইলেক্ট্রনিক সিগারেটসহ সব ধরনের ধুম্র উদ্গীরক তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে সরকার। বৈশ্বিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব শেখ ইউসুফ হারুন এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের সব তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি যতো দ্রম্নত সম্ভব নিষিদ্ধ করতে হবে। শীর্ষ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করব। স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা তুলে ধরে সম্প্রতি ভারত ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করে।

এর আগে শ্রীলংকা, নেপাল, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরসহ ৩০টির বেশি দেশে এসব তামাক নিষিদ্ধের কথা তুলে ধরে সচিব বলেন, 'বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগাতে হবে।'

দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ৩৫ শতাংশের বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের তামাক সেবন করে। তবে ই-সিগারেটের প্রভাব নিয়ে বলার মতো কোনো পরিসংখ্যান নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক বন্দনা শাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সচিব বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইমাজিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট যেমন- ই-সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্য ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলপড়ুয়া তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউসুফ হারুন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাক নিয়ে তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন ডাবিস্নউএইচও রিপোর্ট অন গেস্নাবাল টোব্যাবো এপিডেমিক ২০১৯-এ ই-সিগারেটকে সুনিশ্চিতভাবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সিডিসি এবং এফডিএ সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির ৮০৫ জনের ফুসফুসজনিত রোগ এবং ১২ জনের মৃতু্যর সঙ্গে ই-সিগারেট বা ভ্যাপিংয়ের যোগসূত্র থাকার কথা নিশ্চিত করেছে। ভ্যাপিং এবং ই-সিগারেট ব্যবহার পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে বেশি হলেও বাংলাদেশও ঝুঁকিমুক্ত নয়।

এসব পণ্য ব্যবহারের মাত্রা কতটা বিস্তার লাভ করেছে সে বিষয়ে সবশেষ কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত নেই। তবে দেশে ইমাজিং টোব্যাকো পণ্যের ব্যবহার তরুণ এবং যুবসমাজের মধ্যে ক্রমন্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে গড়ে উঠছে অসংখ্য বিক্রয়কেন্দ্র। অনলাইন এবং ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ই-সিগারেট সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি। ইউসুফ হারুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে খসড়াজাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ২০১৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি শিগগিরই চূড়ান্তকরণের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া শ্রীলংকা, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ ৩০টির অধিক দেশ এসব পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। সুতরাং এই বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নানাবিধ পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার ২০১৭ সালে হ্রাস পেয়ে ৩৫.৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০০৯ সালে ছিল ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

সুতরাং দ্রম্নততম সময়ের মধ্যে ই-সিগারেট, ভ্যাপিংসহ সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট উৎপাদন, আমদানি ও বিপণন নিষিদ্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনার প্রতিশ্রম্নতি দিচ্ছি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে