logo
বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৫

  যাযাদি রিপোর্ট   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

রাজস্ব আদায় কমেনি :অর্থমন্ত্রী

রাজস্ব আদায় কমেনি :অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমাদের রাজস্ব আদায় কমেনি। গত বছরের তুলনায় এ বছর এখন পর্যন্ত ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে আমরা লক্ষ্যমাত্রা বেশি করে ধরি, তাই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জন কিছুটা কম।

বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবসহ মোট পাঁচটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি হিসাব হবে গত বছর এই সময়ে আমরা কী অর্জন করেছি এবং এ বছর কেমন অর্জন করলাম তার ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু এ বছর যদি কম হয় তাহলে দ্যাট ইজ নেগেটিভ গ্রোথ। আর যদি গত বছরের তুলনায় বেশি করি তাহলে পজিটিভ গ্রোথ। আমার জানা মতে, এ বছর ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে।

আমাদের রাজস্ব ঘাটতি বাড়ছে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমাদের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয় বড় আকারের, যাতে এটি অর্জন করার জন্য সবাই চেষ্টা করে। এ বিষয়ে আমাদের প্রকাশনাগুলো দেখবেন, সারা বিশ্বের অবস্থা দেখবেন, তারপর বলবেন আমরা কেমন আছি। রাজস্ব আহরণ গত বছরের তুলনায় এ বছর কমেনি। আপনারা (সাংবাদিকরা) যে পদ্ধতিতে হিসাব করেন, সেই পদ্ধতিতে হিসাব করা নিয়ম না।'

ব্যাংক কোম্পানি আইনের খসড়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে যে, প্রাইভেট ব্যাংকের ডাইরেক্টর, এমডি, ডিএমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে অ্যাপ্রুভ করলে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। নতুন ব্যাংক কোম্পানি আইনে এ-সংক্রান্ত ধারা সংযুক্ত হচ্ছে। এটি কি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে-এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, খসড়া ব্যাংকিং কোম্পানি অ্যাক্টের নতুন ধারা আছে একটি। ব্যাংকিং কোম্পানি আইনের খসড়াটি এখনও আমি পাইনি। আমার কাছে খসড়া এলে বলতে পারব।

তিনি বলেন, 'যদি এটি বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে ভালো হবে। সরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এভাবেই অনুমোদন করা হয়। সুতরাং, বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও এভাবে অনুমোদন নিয়ে স্ট্রাকচার বডির আওতায় যদি এটি করা যায় তাহলে ভালো হবে। সেটা ভালো কাজ।' অর্থমন্ত্রী বলেন, আস্তে আস্তে ভালো কাজের দিকে যেতে হবে।

'আমাদের ব্যাংকিং কোম্পানি আইন বিদ্যমান আছে। এখানে কিছু অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধনী) আনতে হবে এই আইনে। পুরো আইন চেঞ্জ করতে হবে না। প্রপোজাল (প্রস্তাব) এলে আমিই নিয়ে যাবে কেবিনেটে। সেখানে আলোচনা করে কেবিনেট যেগুলো গ্রহণ করবে সেগুলোই সংসদে অনুমোদনের জন্য যাবে, সেটাই নিয়ম'। বলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) জন্য প্রায় কোটি টাকা মূল্যের পাজেরো স্পোর্টস কিউ এক্স জিপ গাড়ি কিনছে সরকার। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০টি গাড়ি কেনার জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের জন্য ৫০টি জিপ গাড়ি কেনার একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে।

গাড়ির দাম কত-এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী কিছু না বললেও বৈঠকে উপস্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিটি গাড়ি কিনতে ব্যয় হবে ৯৪ লাখ টাকা। এতে আরও বলা হয়, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর ২০০৬-২০০৭ অর্থবছর থেকে উপজেলা নির্বাহী আফসারদের সরকারি ও দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য জিপ গাড়ি ক্রয় করে বরাদ্দ প্রদান করে আসছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়, পুরাতন জিপগুলোর আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ায় তা মেরামত করে প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় গতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিস্থাপক হিসেবে ৫০টি জিপ গাড়ি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সময়সাপেক্ষ।

তাই রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের জন্য ৫০টি পাজেরো স্পোর্টস কিউ এক্স জিপ গাড়ি সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা হবে। ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ প্রতিটি গাড়ির দাম পড়বে ৯৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে ৫০টির মূল্য দাঁড়াবে ৪৭ কোটি টাকা।

বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় এলইডি সড়কবাতি সরবরাহ ও স্থাপনে একটি প্রস্তাবও নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয় বলে জনান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে ব্যয় হবে ৩৬৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

বৈঠকে জরুরি প্রয়োজনে পাঁচ বছরে ১৫ লাখ পার্সোনালাইজড ডুয়েল ইন্টারফেস পলিকার্বনেট মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স ক্রয়ের প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মহেশখালী, মাতারবাড়ী এবং বাঁশখালী এলাকায় নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক বিদু্যৎ কেন্দ্রসমূহের জন্য একটি ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপনের প্রস্তাবও বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বৈঠকে চট্টগ্রামে রেলের পরিত্যক্ত জমিতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও ১০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ স্থাপনে একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৪৮৬ কোটি টাকা। ছয় একর জায়গার মধ্যে নতুন এই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে